নাচ কিছুটা অনিয়মিত হলেও ছেড়ে দেননি। যার প্রমাণ তিনি রেখেছেন সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত ‘আনন্দ মেলা’ অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে নৃত্য পরিবেশনের মধ্য দিয়ে। নাদিয়া ছোটবেলায় ‘নতুন কুঁড়ি’তে নাচে ও অভিনয়ে পুরস্কৃত হয়েছিলেন। অভিনয় শেখার আগেই তার নাচ শেখা। তারপর কেটে গেছে অনেকদিন। ক্যারিয়ারে ২৫ বছর পার করে আজও অনবদ্য নাদিয়া।

অভিনয় জীবনের রজতজয়ন্তী প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘অভিনয় জীবনের দীর্ঘদিনের এ পথচলায় দিনের পর দিন দেশে কিংবা দেশের বাইরে মানুষের এই যে অকৃত্রিম ভালোবাসা, এটাই তো আসলে জীবনের বড় প্রাপ্তি। আমি খুব সাধারণ একজন মানুষ। ভীষণ আনন্দ নিয়েই পরিবার, বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে জীবন উদযাপন করতে ভালোবাসি।’ নাদিয়ার নাচের গুরু প্রয়াত হাবিবুল চৌধুরী। এরপর শিশু একাডেমিতে নাচ শেখার পর সাত বছরের ডিপ্লোমা কোর্স করেন ‘বাফা’ থেকে। প্রথম শ্রেণীতে প্রথম হন তিনি। এরপর রাইজা খানম ঝুনু, সোহেল রহমান, শিবলী মোহাম্মদ, শামীম আরা নীপা ও দীপা খন্দকারের কাছেও নাচ শিখেছেন। তবে অভিনয়ে তার গুরু এডওয়ার্ড বাড়ই। শিক্ষা ও শিক্ষক প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমি আমার শিক্ষকদের ভীষণ ভালোবাসি, শ্রদ্ধা করি। একটা কথা বিশেষভাবে বলতে চাই, জীবনে বড় হতে গেলে অধ্যবসায় ও সততার বিকল্প নেই। আমি আমার সব সহশিল্পী, পরিচালক, প্রযোজক, নাট্যকারসহ নাচের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি, সর্বোপরি দর্শকের প্রতি কৃতজ্ঞ। কারণ সবার সহযোগিতা ও ভালোবাসায় আমি আজকের নাদিয়া।’

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘পোস্টমাস্টার’-এর রতন চরিত্রে বাড়ইয়ের লেখা স্ক্রিপ্টে অভিনয় করেই নতুন কুঁড়িতে পুরস্কৃত হয়েছিলেন তিনি। এর পর পরই নাদিয়া বিটিভির ‘বারো রকমের মানুষ’ নাটকে অভিনয়ের সুযোগ পান। মাঝে বিরতির পর ২০০০ সাল থেকে তিনি অভিনয়ে নিয়মিত হতে শুরু করেন। প্রথম প্রচারে আসে রেজানুর রহমানের ‘ছায়াকায়া’ নাটকটি। এতে অভিনয় করে সম্ভাবনাময়ী অভিনেত্রী হিসেবে ‘বাচসাস’ পুরস্কারে ভূষিত হন। তবে তার আগে মোহন খানের ‘দূরের মানুষ’ নাটকে অভিনয় করেছিলেন নাদিয়া।