আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন দেশের বরেণ্য চিত্রশিল্পী ও পাপেট আন্দোলনের পথিকৃৎ মুস্তাফা মনোয়ার। শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি ঘটায় গত চারদিন ধরে তাকে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ১৪ জুন হঠাৎ এ গুণী ব্যক্তিত্বের শারীরিক অবস্থার অবণতি হলে তাকে দ্রুত স্কয়ার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে জরুরি বিভাগে প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা তার শারীরিক পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক বিবেচনা করে আইসিইউতে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেন।

মুস্তাফা মনোয়ারের স্ত্রী মেরী মনোয়ার গণমাধ্যমকে জানান, হাসপাতালে নেয়ার সময় তার স্বামীর রক্তচাপ এবং শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা আশঙ্কাজনক মাত্রায় নেমে গিয়েছিল। বর্তমানে চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে আইসিইউতেই তার নিবিড় পর্যবেক্ষণ চলছে।

বার্ধক্যজনিত কারণে দীর্ঘদিন ধরেই নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন ৮১ বছর বয়সী এ গুণী শিল্পী। এর আগে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরেও তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে লাইফ সাপোর্টে ছিলেন। সে যাত্রায় কিছুটা সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরলেও সম্প্রতি নতুন করে নিউমোনিয়ার জীবাণুতে আক্রান্ত হওয়ায় তার শারীরিক অবস্থার পুনরায় অবনতি ঘটে।

বাংলাদেশের শিল্প ও সংস্কৃতির আঙিনায় মুস্তাফা মনোয়ার এক কালজয়ী নাম। ঢাকা চারুকলার শিক্ষকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করলেও তিনি মূলত এ দেশে পাপেট থিয়েটারের জনক বা অগ্রদূত হিসেবে আপামর মানুষের কাছে পরিচিত। বাংলাদেশ টেলিভিশনে শিশু-কিশোরদের মনের উপযোগী করে নির্মিত তার সৃজনশীল অনুষ্ঠানগুলো এ দেশের কয়েকটি প্রজন্মের শৈশবকে রাঙিয়ে তুলেছে।

শিল্প-সংস্কৃতি ও চিত্রশিল্পে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৪ সালে তিনি দেশের অন্যতম সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘একুশে পদক’-এ ভূষিত হন। এছাড়া ২০১৮ সালে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি থেকে লাভ করেন মর্যাদাপূর্ণ ‘সুলতান স্বর্ণপদক’। গুণী এই শিল্পীর দ্রুত আরোগ্যের জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছে তার পরিবার।