মহামারী করোনাভাইরাসের কারণে বিশ্বজুড়ে বিনোদন জগতের ওপর বড় প্রভাব পড়েছে। বিশেষ করে চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রি পাঁচ মাস ধরে একদম বন্ধ পড়ে আছে। তবে মহামারী পরিস্থিতি বেশ খানিকটা স্বাভাবিক হওয়ায় উত্তর আমেরিকার প্রেক্ষাগৃহ খুলে দেয়া হয়েছে। ১৪ আগস্ট থেকে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় খুলে দেয়া হয়েছে বেশকিছু প্রেক্ষাগৃহ। আগামী সপ্তাহ থেকে সে সংখ্যা আরো বাড়বে।
অ্যানিমেশন চলচ্চিত্র ‘দ্য স্পঞ্জবব মুভি: স্পঞ্জ অন দ্য রান’
এবং রাসেল ক্রো অভিনীত ‘আনহিঞ্জড’
চলচ্চিত্রের মাধ্যমে কানাডায় করোনা পরবর্তী নবযাত্রা শুরু করেছে প্রেক্ষাগৃহগুলো। শুরু হিসেবে একদম মন্দ করেনি ছবি দুটি। যদিও প্রেক্ষাগৃহে ধারণক্ষমতার অর্ধেক দর্শক নিয়ে চলচ্চিত্র প্রদর্শন করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তবে এর মধ্যেও কানাডা থেকে স্পঞ্জবব ছবিটি প্রায় ৯ লাখ ডলার এবং আনহিঞ্জড ছবিটি প্রায় ৫ লাখ ৮২ হাজার ডলার আয় করেছে। তবে আনহিঞ্জড ছবিটি যুক্তরাষ্ট্রে মুক্তির কথা রয়েছে ২১ আগস্ট। আর যুক্তরাষ্ট্রে অ্যানিমেশন চলচ্চিত্র এই মুহূর্তে মুক্তি না দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
যদিও আয় আহামরি কিছু না, তবু শুরু হিসেবে এটি ভালো লক্ষণ উল্লেখ করে রাইভাল স্টুডিওর একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বলেন, ‘আয় যাই হোক, মানুষ প্রেক্ষাগৃহে ফিরছে এটাই ভালো দিক। কেননা মহামারী পরবর্তী সময়ে চলচ্চিত্র প্রদর্শন নতুন করে শুরু করতেই হতো। এটা চলচ্চিত্র জগতের গত কয়েক মাসের ক্ষতি কাটিয়ে নেয়ার প্রথম ধাপ বলা যেতে পারে।’
এছাড়া সলস্টিক স্টুডিওর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মার্ক গিলও একই বিষয়ে জোর দেন। তার মতে, মহামারী পরবর্তী চলচ্চিত্র নতুন করে শুরু করতে গিয়ে আয়ে প্রভাব পড়বে এটা তারা ধরেই নিয়েছিলেন। তবে নতুন করে শুরুটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে তাদের কাছে মনে হয়েছে।
২১ আগস্ট থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ৪২টি রাজ্যের প্রায় ৫০ শতাংশ প্রেক্ষাগৃহ খুলে দেয়া হচ্ছে। পরের সপ্তাহে তা ৭৫ শতাংশ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ক্যালিফোর্নিয়া ও নিউইয়র্কের মতো বড় দুটি রাজ্য ছাড়াও নিউ জার্সি, ওয়াশিংটন, ওরেগন, নর্থ ক্যারোলিনা ও ম্যারিল্যান্ডে আপাতত বন্ধ থাকবে সব প্রেক্ষগৃহ। গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ‘দ্য ট্যাক্স কালেক্টর’
ছবিটিও খারাপ করেনি। পাঁচ মাস পর প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের বক্স অফিস আবার সচল হয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় আরো বেশি প্রেক্ষাগৃহ খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে ক্রিস্টোফার নোলানের ‘টেনেট’
চলচ্চিত্রকে সামনে রেখে। আগামী ৩ সেপ্টেম্বর উত্তর আমেরিকার প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি দেয়া হবে ছবিটি। তবে টেনেট মুক্তির আগে নোলানের ‘ইন্টাস্টেলার’
ও ‘ইনসেপশন’
ছবি দুটিও পুনরায় মুক্তি দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
উত্তর আমেরিকা ছাড়াও বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে প্রেক্ষাগৃহ খুলে দেয়া হয়েছে। এরই মধ্যে চীনে ‘হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য ফিলোসফার্স স্টোন’
ছবিটি প্রায় ১৬ মিলিয়ন ডলার এবং ‘ব্যাড বয়েজ ফর লাইফ’
ছবিটি প্রায় ৩ মিলিয়ন ডলার আয় করেছে। স্পেনে ‘ফারদার দেয়ার ইজ অনলি ওয়ান-২’
ছবিটি ৮ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি আয় করেছে। অ্যাডভেঞ্চারধর্মী চলচ্চিত্র ‘গ্রিনল্যান্ড’
আন্তর্জাতিক বাজার থেকে প্রায় ৩ মিলিয়ন ডলার আয় করেছে।
সূত্র: দ্য হলিউড রিপোর্টার










