চলচ্চিত্রে পা রাখার পর থেকেই নিজের অভিনয় দক্ষতা, ব্যক্তিত্ব আর স্পষ্টভাষী স্বভাবের কারণে দর্শকের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন। রুপালি পর্দায় তাকে রোমান্টিক চরিত্রে দেখা গেলেও বাস্তব জীবনে প্রেম ও বিয়ে নিয়ে তার চিন্তাভাবনা ভীষণ বাস্তবসম্মত।
চারপাশের অনেক বন্ধুবান্ধব আর সহকর্মীরা একে একে বিয়ে করে সংসার শুরু করেছেন। কিন্তু তাদের দেখেও বিয়ে করার জন্য কোনো তাড়াহুড়া নেই অভিনেত্রীর। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের বিয়ে আর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কথা বলেছেন তিনি।
বিয়ে নিয়ে সারার এ বাস্তববাদী চিন্তার পেছনে রয়েছে তার মা-বাবার অতীত। ১৯৯১ সালে মাত্র ২১ বছর বয়সে নিজের চেয়ে ১২ বছরের বড় অমৃতা সিংকে বিয়ে করেছিলেন সাইফ। কিন্তু ১৩ বছর সংসার করার পর ২০০৪ সালে তাদের ডিভোর্স হয়ে যায়। পরে সাইফ আলী খান আবার বিয়ে করলেও মা অমৃতা সিং আর কখনো বিয়ে করেননি। মা-বাবার এ ভেঙে যাওয়া সংসার আর মায়ের একাকিত্ব খুব কাছ থেকে দেখেছেন সারা। এ কারণেই বিয়ে নিয়ে তার মনে কোনো বাড়তি রোমান্টিকতা নেই।
সাক্ষাৎকারে সারা বলেন, ‘মানুষ আসলে তার চারপাশের পরিবেশ আর অভিজ্ঞতা দেখেই বড় হয়। আমি খুব কাছ থেকে দেখেছি বিয়ে বা সংসার জীবন সবসময় সফল হয় না। অনেক সময় তা ভুল দিকে মোড় নিতে পারে এবং সম্পর্ক ভেঙে যেতে পারে। তাই সমাজের চাপে ভুল মানুষকে বিয়ে করার চেয়ে অপেক্ষা করা অনেক ভালো। সঠিক মানুষের জন্য অপেক্ষা করে সঠিক সময়ে বিয়ে করাই বুদ্ধিমানের কাজ।’
সারা মনে করেন, কেবল একা থাকার ভয়ে বা একজন সঙ্গী দরকার বলেই সম্পর্কে জড়ানো ঠিক নয়। তিনি বলেন, ‘বিয়ে না করেও একা একা ভালো থাকার মতো মানসিক শক্তি আমার আছে। নিজেকে সম্পূর্ণ করার জন্য আমার কোনো পুরুষের প্রয়োজন নেই। আমি নিজের মতো করে একজন পূর্ণাঙ্গ মানুষ হতে চাই।’
সারা জানান, এ মুহূর্তে তার পুরো মনোযোগ কেবল নিজের কাজ ও ক্যারিয়ার নিয়ে। তবে ভবিষ্যতে যদি এমন কোনো মানুষ তার জীবনে আসেন, যিনি তাকে ভালোবাসবেন এবং তার কাজের সম্মান করবেন, কেবল তখনই তিনি বিয়ের কথা ভাববেন। এর আগে অহেতুক কোনো তাড়াহুড়া করতে চান না এ তারকা।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস










