স্কুলের বেতন বাকি থাকায় যে ছেলেকে ক্লাস থেকে বের করে দেয়া হয়েছিল, আজ তিনি তিন হাজার কোটি রুপি সম্পদের মালিক। বলা হচ্ছিল বলিউডের সবচেয়ে জনপ্রিয় তারকাদের একজন সালমান খানের কথা। জীবনের শুরুতে নানা বাধা আর চরম আর্থিক টানাপড়েনের মুখোমুখি হতে হলেও নিজের যোগ্যতায় আজ সাফল্যের শিখরে পৌঁছেছেন তিনি।
সম্প্রতি প্রকাশ পাওয়া এমথ্রিএম হুরুন ইন্ডিয়া রিচ লিস্ট ২০২৬-এর তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে ভারতে বিনোদন জগতের অন্যতম শীর্ষ ধনী সালমান খান। তার বর্তমান সম্পদের পরিমাণ প্রায় তিন হাজার কোটি রুপি। এই তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন শাহরুখ খান, যার সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১০ হাজার কোটি রুপি। আর চার হাজার কোটি রুপির সম্পদ নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছেন অমিতাভ বচ্চন। অথচ এই বিপুল অর্থবিত্তের মালিক সালমান খানের শৈশব কেটেছিল চরম আর্থিক সংকটে।
কাজল ও টুইঙ্কল খান্নার অনুষ্ঠান ‘টু মাচ’-এ সালমান জানান, চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ার সময় একবার তাকে ক্লাসের বাইরে দাঁড় করিয়ে শাস্তি দেয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে তার বাবা সেলিম খান স্কুলে এসে শিক্ষকের সঙ্গে কথা বললে জানতে পারেন, বেতনের টাকা পরিশোধ না করার কারণেই শিশু সালমানকে বাইরে রেখে দেয়া হয়েছে। সে সময় সেলিম খান অধ্যক্ষের কাছে গিয়ে দ্রুত সেই বকেয়া মেটানোর বন্দোবস্ত করেন। কিন্তু দুঃখজনকভাবে দুই সপ্তাহ পর আবার একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে এবং কর্তৃপক্ষ সালমানকে স্কুল থেকে বের করে দেয়।
সেই সময় একই স্কুলে পড়া চিত্রনায়ক আমির খানও এই একই অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে জানান, বেতন দিতে না পারায় প্রাত্যহিক সমাবেশে তাদের নাম প্রকাশ্যে ঘোষণা করা হতো।
সালমান খানের বাবা বিখ্যাত চিত্রনাট্যকার সেলিম খানের শুরুর জীবনও মোটেও সহজ ছিল না। ষাটের দশকে যখন তিনি মুম্বাইয়ে প্রথম আসেন, তখন মেরিন ড্রাইভের একটি গেস্টহাউজে মাসে ৫৫ রুপিতে অর্ধেক কক্ষ ভাড়া নিয়ে থাকতেন। তার মূল ইচ্ছা ছিল পুরো একটি ঘর ১১০ রুপিতে ভাড়া নেয়া, কিন্তু সাধ্য না থাকায় সেই স্বপ্ন অপূর্ণ থেকে যায়। প্রাথমিক জীবনে অভিনেতা হওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে পরে তিনি লেখক হিসেবে কাজ শুরু করেন। পরবর্তীতে জাভেদ আখতারের সঙ্গে জুটি বেঁধে শোলে, জঞ্জির ও দিওয়ারের মতো কালজয়ী সিনেমা লিখে তিনি সফলতার মুখ দেখেন।

‘কুরবান’ সিনেমার একটি দৃশ্যে সালমান খান ও আয়েশা জুলকা
পরবর্তীতে বাবার পথ ধরে সালমান খানও সহকারী পরিচালক হিসেবে বিনোদন জগতে নিজের কাজ শুরু করেন। ১৯৮৮ সালে ‘বিবি হো তো অ্যায়সি’ দিয়ে অভিনয়ে অভিষেকের পর ১৯৮৯ সালে ‘ম্যায়নে পেয়ার কিয়া’ তাকে নায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে। তখন কাজের প্রতি সালমানের একাগ্রতা দেখে প্রথম ছবির পারিশ্রমিক ৩১ হাজার রুপি থেকে বাড়িয়ে তাকে ৭৫ হাজার রুপি দেয়া হয়েছিল। তবে মাত্র ১৪ বছর বয়সে মুম্বাইয়ের তাজ হোটেলে ব্যাকগ্রাউন্ড ড্যান্সার হিসেবে পারফর্ম করে সালমান জীবনে প্রথম আয় করেছিলেন মাত্র ৭৫ রুপি। তবে ছবিটি ব্যবসাসফল হলেও পরের চার-পাঁচ মাস কোনো কাজ পাননি সালমান।
বর্তমানে সালমান খান তার পরবর্তী সিনেমা ‘মাতৃভূমি: মে ওয়ার রেস্ট ইন পিস’ মুক্তির অপেক্ষায় আছেন। এছাড়া প্যান-ইন্ডিয়া সিনেমা ‘মনস্টার’-এ নয়নতারার বিপরীতে তাকে দেখা যাবে। ছবিটি প্রযোজনা করছেন ‘গেম চেঞ্জার’-এর প্রযোজক দিল রাজু।
—ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস থেকে তথ্য নেয়া










