দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইডের সঙ্গে আপনার সম্পৃক্ততার শুরুটা কীভাবে হয়েছিল?
একেবারেই অপ্রত্যাশিতভাবে সিনেমাটির সঙ্গে যুক্ত হয়েছি। প্রথমে রুবাইয়াত আপুর সঙ্গে সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করেছিলাম, তখন আমি তাকে চিত্রনাট্য লিখতে সাহায্য করছিলাম। তখনই বুঝতে পারছিলাম, গল্পটা অসম্ভব সুন্দর এবং চরিত্রটিও অনেক বিশেষ, যা বাংলাদেশে আগে দেখিনি।
তখন থেকেই এ গল্পের প্রতি আমি খুব আকৃষ্ট ছিলাম। যখন আমাকে অডিশন দিতে বলা হলো, আমার মধ্যে একটা দ্বিধা কাজ করছিল। কারণ অভিনয় একটি সংবেদনশীল বিষয়, বিশেষ করে আমার জন্য। এছাড়া আমি আগে কখনো অভিনয় করিনি। কিন্তু গল্পটির ভাবনার গভীরতা আর রুবাইয়াত আপুর মতো বুদ্ধিমান একজন নির্মাতার সঙ্গে কাজের বিষয়টি আমাকে আকৃষ্ট করে। এরপর অডিশন দিলাম। এভাবেই সিনেমার সঙ্গে যুক্ত হওয়া।
চরিত্রের জন্য কী ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছিলেন?
রুবাইয়াত আপু তার কাজে যেসব গবেষণাধর্মী লেখা, বই, সিনেমা ও তথ্যচিত্রের সাহায্য নিয়েছিলেন, সেগুলো আমাকে পাঠিয়েছিলেন। আমি সেগুলো দেখেছি। তাকে প্রচুর প্রশ্ন করেছি। চিত্রনাট্য হাতে পাওয়ার পর যেকোনো বিষয় মাথায় এলেই তাকে জিজ্ঞেস করতাম। তার নিজের অভিজ্ঞতা সম্পর্কেও জানতে চাইতাম। এছাড়া বাংলাদেশে আমার যেসব বন্ধু বিয়ে করেছে, তাদের সঙ্গেও কথা বলেছি। তাদের অভিজ্ঞতা কেমন ছিল, বিয়ের প্রস্তুতি কেমন ছিল, সেসব জানার চেষ্টা করেছি।
প্রথমবার অভিনয় করাটা কতটা চ্যালেঞ্জ ছিল?
সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল নিজের নার্ভাসনেস কাটিয়ে ওঠা। আমি চিত্রনাট্য ও চরিত্র ভালোভাবে বুঝে সেটে এসেছি। কিন্তু কোনো বিষয় মাথায় ভালোভাবে বোঝা আর ক্যামেরার সামনে সেটি অভিনয়ের মাধ্যমে প্রকাশ করা এক বিষয় নয়।
সামনে ক্যামেরা থাকে, অন্তত চার-পাঁচজন, কখনো ২০ জন মানুষ দাঁড়িয়ে দেখছে। অথচ এমনভাবে অভিনয় করতে হয়, যেন তারা সেখানে নেই। প্রথমবার ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানো আসলেই আমার জন্য বেশ কঠিন ছিল।
সেটে কোন দৃশ্যগুলো আপনার জন্য বেশি চ্যালেঞ্জপূর্ণ ছিল?
বিশেষ করে যখন খুব আবেগপূর্ণ কোনো দৃশ্য ছিল, চরিত্র কাঁদছে বা খুব ভয় পাচ্ছে, এমন দৃশ্য আমার জন্য চাপপূর্ণ ছিল। আমি চেয়েছিলাম, অভিনয়ের মধ্যে সত্যতা থাকুক। কীভাবে সেটা নকল করতে হয়, সেটাও আমি জানতাম না। বিষয়টি যেন সত্যি এবং বাস্তব মনে হয়, সেটাই চেয়েছি।
পরিচালক ও সহশিল্পীদের কাছ থেকে কেমন সহযোগিতা পেয়েছেন?
এক্ষেত্রে রুবাইয়াত আপুর নির্দেশনা তো ছিলই। চরিত্রের অভিজ্ঞতার মধ্যে নিজেকে কীভাবে স্থাপন করতে হবে এবং গল্পের আবেগের কেন্দ্রটা কীভাবে খুঁজে নিতে হবে, সে বিষয়ে তার কাছ থেকে সাহায্য পেয়েছি। এছাড়া আমার সহশিল্পী বাঁধন, সুনেরাহ ও শিমুর কাছ থেকেও অভিনয় কীভাবে করতে হয়, সে বিষয়ে পরামর্শ পেয়েছি।
আমি যখন খুব নার্ভাস হয়ে থাকতাম, তারা সবসময় পাশে থাকতেন। বলতেন, ‘চিন্তা করো না, একটু ঠাণ্ডা হও, কিছুক্ষণ বসো, গল্প করো, একটু ফুচকা খাও, আমরা একসঙ্গে একটু গান শুনি।
সেটে দেশী সহশিল্পীদের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক শিল্পী-কলাকুশলীরাও ছিলেন। তাদের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?
আন্তর্জাতিক শিল্পীদের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা খুব ভালো ছিল। বিশ্বের বিভিন্ন জায়গা থেকে অনেক শিল্পী ছিলেন এবং তারা সবাই অসাধারণ প্রতিভাবান ও নিবেদিত ছিলেন। তারা অন্য দেশ থেকে নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এসেছেন।
পর্তুগালে যেভাবে চলচ্চিত্র নির্মাণ হয় বা অভিনয় করা হয়, শিল্পচর্চার প্রতি তাদের যে দৃষ্টিভঙ্গি, তা ফ্রান্স, বাংলাদেশ বা ভারতের চেয়ে আলাদা। সেটে আমাদের এসব ভিন্ন ধরনের পদ্ধতি ও দৃষ্টিভঙ্গি ছিল। আমার মনে হয়, এতে সিনেমাটি আরো সমৃদ্ধ হয়েছে।
এ সিনেমার আগে আপনি কোন ধরনের কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন?
পর্দার পেছনের কাজটা আমি খুব বেশি দিন করিনি। চলচ্চিত্রে এ সিনেমাই আমার প্রথম কাজ। আমাকে যখন সহকারী পরিচালক হিসেবে নেয়া হয়েছিল, সেটিও আমার জন্য নতুন অভিজ্ঞতা ছিল। আমি সবসময়ই একজন সৃজনশীল মানুষ ছিলাম। নিজেকে একজন বহুমাত্রিক শিল্পী হিসেবে দেখেছি। নিয়মিত ডেস্কের চাকরি করলেও শিল্পচর্চার জন্য সময় বের করেছি। কবিতা, প্রবন্ধ ও গল্প লিখেছি, ছবি এঁকেছি, নতুন বাদ্যযন্ত্র শেখার চেষ্টা করেছি, কোলাজ করেছি। আমি কোনো একটি মাধ্যমের মধ্যে নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখতে চাই না।
এখন কী নিয়ে এগোচ্ছেন? অভিনয় নাকি পরিচালনা?
আমি এখন ফিল্ম স্কুলে পরিচালনা নিয়ে পড়াশোনা করছি। অভিনয়ও আমার কাছে সবসময় আকর্ষণীয়। আমি দুটোই করতে চাই।
বাংলাদেশে নারী পরিচালকের সংখ্যা কম—এ বাস্তবতার পেছনে প্রধান কারণ কী বলে মনে করেন?
আমার মনে হয়, নারীদের পরিচালনায় উৎসাহ দেয়া হয় না। আমাদের দেশে নারীপ্রধান চলচ্চিত্রও খুব বেশি নেই। আমাদের চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রিতে নারীরা কী ধরনের কাজ করবে, তার মধ্যেও এক ধরনের লিঙ্গভিত্তিক ধারণা আছে। একটি মেয়ে হলে সে শুধু নায়িকা হবে, এ ধরনের প্রচলিত ধারণা আছে। আমার মনে হয়, এগুলো ভাঙা খুব দরকার।
একজন নারী যখন পরিচালকের চেয়ারে বসে, তখন তার জীবনের যে অভিজ্ঞতা সে নিয়ে আসে, তা একজন পুরুষ যা তৈরি করছে তার চেয়ে স্বাভাবিকভাবেই আলাদা হবে। আমরা যদি সিনেমায় বৈচিত্র্য চাই, আমাদের কাজের প্রচলিত সীমা ও ধারণাগুলোকে এগিয়ে নিতে চাই, তাহলে নারীদের অবশ্যই এ জায়গাগুলোয় আসতে দিতে হবে এবং নারীপ্রধান গল্পকে গুরুত্ব দিতে হবে।










