আজসহ ২০ ও ২১ আগস্ট বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির স্টুডিও থিয়েটার ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হবে এ আয়োজন।
উৎসবের শেষ দুইদিনে স্বপ্নদলের ‘চিত্রাঙ্গদা’ ও ‘হরগজ’ প্রযোজনার দুটি করে মোট চারটি প্রদর্শনী থাকছে। ঐতিহ্যের ধারায় গবেষণাগার পদ্ধতিতে নির্মিত দুই প্রযোজনারই নির্দেশনা দিয়েছেন নাট্যাচার্যের ছাত্র জাহিদ রিপন।
আজ সকাল ১০টায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরনো কলাভবন থেকে সেলিম আল দীনের সমাধি অভিমুখে স্মরণ-শোভাযাত্রা হবে। পরে সমাধিতে পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ করা হবে। এছাড়া নাট্যাচার্যের প্রতিকৃতি দিয়ে শিল্পকলা একাডেমির চত্বর সাজানো এবং তার জীবন, কর্ম ও দর্শন নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন থাকছে।
২০ আগস্ট বিকাল সাড়ে ৫টা ও সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির স্টুডিও থিয়েটারে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাব্যনাট্য ‘চিত্রাঙ্গদা’র ১২৪ ও ১২৫তম মঞ্চায়ন হবে। অন্যদিকে ২১ আগস্ট বিকাল ৫টা ও সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় একই ভেন্যুতে সেলিম আল দীনের কালজয়ী সৃষ্টি ‘হরগজ’-এর ৫২ ও ৫৩তম প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে।
মহাভারত অবলম্বনে রচিত চিত্রাঙ্গদায় মণিপুরের রাজকন্যা চিত্রাঙ্গদার প্রেম, আত্মপরিচয় ও অস্তিত্বের সংকট উঠে এসেছে। অর্জুনের ভালোবাসা পাওয়ার জন্য নিজের রূপ পরিবর্তনের পর চিত্রাঙ্গদার মনে তৈরি হয় নানা দ্বন্দ্ব। পৌরাণিক কাহিনীর আড়ালে প্রযোজনাটিতে সমকালীন নারী-পুরুষের সম্পর্ক, মানসিক টানাপড়েন ও পারস্পরিক সম্মানের বিষয়ও উঠে এসেছে।

১৯৮৯ সালে মানিকগঞ্জের হরগজে সংঘটিত ভয়াবহ টর্নেডোর অভিজ্ঞতা অবলম্বনে সেলিম আল দীন রচনা করেন হরগজ। ঝড়ের পর উদ্ধারকারী দলের সেখানে যাওয়া এবং ধ্বংসস্তূপের মধ্যে মানুষের অস্তিত্বের সংকটকে কেন্দ্র করে এগিয়েছে নাটকটির কাহিনী। প্রযোজনাটিতে প্রাকৃতিক দুর্যোগের পাশাপাশি ভেঙে পড়া মানবজগতের রূপকও তুলে ধরা হয়েছে।
নাট্যাচার্যের জন্ম ও প্রয়াণদিবস স্মরণে স্বপ্নদলের নিয়মিত উৎসব আয়োজনের এটি ৩৪তম আসর। এবারের স্লোগান, ‘ঐতিহ্যধারায় সম্মুখযাত্রী বাংলা নাট্যরথ, রবীন্দ্রনাথ-সেলিম আল দীনে পায় পূর্ণতার পথ।’










