অনেক নাটকীয়তার পর এল সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন বিজয়। তবে এবার থালাপতি নয়, শপথ নিলেন চন্দ্রশেখর জোসেফ বিজয়। এটাই তার নাম এবং এই নামেই শপথ নিলেন। নিয়ম অবশ্য সেটাই। যতই থালাইভা, থালাপতি বলা হোক, শপথের সময় আসল নামটাই উচ্চারণ করতে হয়। সেখানে থাকে না সিনেমা, জনতার মাধ্যমে দেয়া খেতাব। নেতা তখন ব্যক্তিতে পরিণত হন এবং তাকে বিধি মোতাবেক নিজ নামে নিজ কর্তব্য পালনের শপথ নিতে হয়। বিজয়ও সেটাই করলেন।

তবে শপথ নেওয়ার আগেও তার ‘থালাপতি’ স্বত্বাকে অভিনন্দিত করলেন ভক্ত অনুসারীরা। নেহরু ইডোর স্টেডিয়ামে শপথ শুরু হওয়ার আগে তার নামে জয়ধ্বনি করে তার সমর্থকরা। এমনকি সেই সোল্লাস চিৎকারের কারণে শপথ নেয়ার আগে সামান্য বিরতিও নেন বিজয়। গভর্নর যখন শপথ পড়ার তখন বিজয় তার হাতে থাকা লিখিত শপথের দিকে না তাকিয়েই শপথবাক্য পাঠ করেছেন।

শপথে বিজয় বলেন, ‘ আমি, সি জোসেফ বিজয়, ঈশ্বরের নামে শপথ করছি যে, আইন দ্বারা প্রতিষ্ঠিত ভারতের সংবিধানের প্রতি আমি সত্যনিষ্ঠ বিশ্বাস ও অটল আনুগত্য বজায় রাখব; আমি ভারতের অতুলনীয় সার্বভৌমত্ব ও ঐক্য রক্ষা করব; আমি তামিলনাড়ু সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে আমার দায়িত্ব সত্যনিষ্ঠা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করব; এবং সংবিধান ও আইনের আলোকে, ভয়, পক্ষপাত, পছন্দ বা অপছন্দ ছাড়াই, সমাজের সকল শ্রেণির মানুষের জন্য ন্যায়সঙ্গত কাজ করব।’

বিজয়ের শপথ গ্রহণের পর, তামিলাগা ভেট্রি কায়াগম (টিভিকে)-এর বিশিষ্ট নেতা ও বিধায়ক এন আনন্দ, আধব অর্জুন এবং সেঙ্গোট্টাইয়ানসহ আরও নয়জন পর্যায়ক্রমে মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে শপথ নেন। নির্বাচনে মাত্র ১০৮টি আসন জয় করায় দলটি ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সঙ্গে জোট গঠন করেছে, আর সিপিআই, সিপিআই (এম), আইইউএমএল এবং ভিডিসিকে দলগুলো বাইরে থেকে সমর্থন দেওয়ার সম্মতি জানিয়েছে।

রাজনীতিতে বিজয়ের উত্থান ছিল অস্বাভাবিক দ্রুত। ২০২৪ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে টিভিকে গঠনের পর, মাত্র দুই বছরের মধ্যেই এই অভিনেতা তাঁর বিপুল ভক্তসমর্থনকে নির্বাচনী সাফল্যে রূপ দিতে সক্ষম হন। তার এই সাফল্য ইতোমধ্যেই কিংবদন্তি অভিনেতা-রাজনীতিবিদদের সঙ্গে তুলনার জন্ম দিয়েছে।