মূল আকর্ষণে রয়েছেন শৈল্পিক চলচ্চিত্র নির্মাতারা (অট্যুর)। এবার বাণিজ্যিক সিনেমার চেয়ে শিল্পমানের সিনেমাই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।
এ পরিবর্তনকে অনেকেই নতুন দিকনির্দেশনা বলছেন। কারণ সাম্প্রতিক বছরগুলোয় বড় বাজেটের সিনেমার আধিপত্য বেড়েছিল। কিন্তু ২০২৬ সালে সে প্রবণতা ভেঙে গেছে। এবার গল্প বলার শক্তি ও নির্মাণশৈলীই মূল আলোচনায়।
প্রতিযোগিতা বিভাগে আসছেন শৈল্পিক চলচ্চিত্র নির্মাতারা। ইরানের আসগর ফারহাদি নতুন সিনেমা নিয়ে ফিরেছেন। স্পেনের পেদ্রো আলমোদোভার তার স্বতন্ত্র ধাঁচে হাজির। জাপানের হিরোকাজু কোরে-এদা আবারো মানবিক গল্প বলবেন। একইভাবে রিউসুকে হামাগুচি নতুন পরীক্ষামূলক কাজে অংশ নিচ্ছেন।
এ নির্মাতারা সবাই চিত্রনাট্য, শট ও এডিটিংয়ে নিজের সুনির্দিষ্ট সৃজনশীল কাজের জন্য পরিচিত। তাদের সিনেমায় থাকে ব্যক্তিগত ভাষা। থাকে গভীর চিন্তা ও সূক্ষ্ম অনুভূতি। এ কারণেই তাদের বলা হয় অট্যুর নির্মাতা।
বৃহস্পতিবার নির্বাচিত সিনেমা ঘোষণার সূচনায় কান উৎসবের দীর্ঘদিনের প্রধান থিয়েরি ফ্রেমো বলেন, ‘৯৫ শতাংশ সিনেমার নাম এরই মধ্যে প্রকাশ করা হয়েছে। তবে কিছু চলচ্চিত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যে চূড়ান্ত করা হবে। কিছু ক্ষেত্রে ছোটখাটো বিষয় নিয়ে দেরি হয়, যার কারণে আমাদের একটু পরে কাজ শেষ করতে হয় এবং শেষ পর্যায়ের সংযোজন করতে হয়। আশা করছি, আগামী সপ্তাহ কিংবা তার পরের সপ্তাহের মধ্যেই সব সম্পন্ন হবে।’ থিয়েরি ফ্রেমো জানান, এবারের নির্বাচনের জন্য মোট ২ হাজার ৫৪১টি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র জমা পড়েছে।
এবারের আসরে যুক্তরাষ্ট্রের চলচ্চিত্র নির্মাতাদের উপস্থিতি তুলনামূলক কম। শুধু ইরা সাক্স প্রতিযোগিতায় আছেন। তার সিনেমা একটি সংগীতধর্মী কল্পকাহিনী নিয়ে নির্মিত।
অন্যদিকে ইউরোপীয় নির্মাতাদের উপস্থিতি বেশ শক্তিশালী। পোল্যান্ডের পাওয়েল পাওলিকোভস্কি নতুন কাজ নিয়ে এসেছেন। হাঙ্গেরির ল্যাসলু নেমেসও আছেন প্রতিযোগিতায়। তাদের সিনেমা সাধারণত ইতিহাস ও মানবজীবনের গভীর দিক তুলে ধরে।
উৎসবে তারকাবহুল সিনেমাও রয়েছে। কিন্তু সেগুলোও শিল্পধর্মী গল্পের সঙ্গে যুক্ত।
জনপ্রিয় অভিনেতারা এখানে চরিত্রের গভীরতায় গুরুত্ব দিচ্ছেন। এটি এ আসরের বড় বৈশিষ্ট্য।
এবার নারী নির্মাতাদের অংশগ্রহণও উল্লেখযোগ্য। একাধিক নারী পরিচালক প্রতিযোগিতায় জায়গা পেয়েছেন। তাদের গল্প বলার ধরন ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে। নারী অভিজ্ঞতা ও দৃষ্টিভঙ্গি উঠে আসছে নতুনভাবে।
এশিয়ার উপস্থিতি বিশেষভাবে চোখে পড়ার মতো। জাপান ও কোরিয়ার একাধিক চলচ্চিত্র প্রতিযোগিতায় রয়েছে। এ অঞ্চল থেকে নির্মিত সিনেমাগুলো আন্তর্জাতিকভাবে সমাদৃত। তাদের গল্পে থাকে সংস্কৃতি, বাস্তবতা ও মানবিকতা।
জুরিপ্রধান হিসেবে দায়িত্বে আছেন পার্ক চান উক। তিনি নিজেও একজন প্রভাবশালী চলচ্চিত্র নির্মাতা। তার নেতৃত্বে বিচার প্রক্রিয়া আরো আকর্ষণীয় হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
উৎসব কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে নির্মাতারা অংশ নিয়েছেন। এটি প্রমাণ করে সিনেমার প্রতি মানুষের আগ্রহ কমেনি। বরং নতুনভাবে বিস্তৃতি লাভ করছে। চলচ্চিত্রসংশিষ্টদের আরো আকর্ষণ করেছে।
কান উৎসবের সভাপতি আইরিস নোব্লখ। তিনি ২০২২ সালে এ মর্যাদাপূর্ণ উৎসবের প্রথম নারী সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন; ২০২৮ সাল পর্যন্ত পরবর্তী মেয়াদের জন্য পুনর্নির্বাচিত হন। তিনি এ বছরের উৎসব নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন।
তিনি বলেন, ‘অনিশ্চিত সময়েও সিনেমা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এটি মানুষের ভাবনা ও স্বাধীনতার প্রতীক। চলচ্চিত্র মানুষের মধ্যে সংযোগ তৈরি করে।’
এ আসরে আরেকটি বিষয় স্পষ্ট। স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাতারা নতুন শক্তি নিয়ে ফিরছেন। স্টুডিও নির্ভরতা কমে যাচ্ছে ধীরে ধীরে। সৃজনশীল স্বাধীনতা বাড়ছে।
এবারের কান উৎসব ভিন্ন মাত্রার। আর্টিস্টিক নির্মাতাদের এ প্রাধান্য একটি বার্তা দেয়। সিনেমা শুধু বিনোদন নয়। এটি এক ধরনের শিল্পচর্চা। সে শিল্পই এবার কান উৎসবের মূল আকর্ষণ।
সূত্র: ভ্যারাইটি










