বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় ও প্রভাবশালী অভিনেত্রী রানী মুখার্জি। নব্বইয়ের দশকে চলচ্চিত্রে অভিষেকের পর থেকেই তিনি অভিনয় দক্ষতা ও স্বতন্ত্র কণ্ঠস্বর দিয়ে দ্রুতই দর্শকের মন জয় করেন। নারীকেন্দ্রিক শক্তিশালী চরিত্র বেছে নেয়ার জন্যও তিনি প্রশংসিত।
আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে টাইমস অব ইন্ডিয়াকে দেয়া সাক্ষাৎকারে ‘মর্দানি’-তারকা বলেছেন, ‘বর্তমান সময়ের নারীরা আগের মতো নীরব থাকতে চান না; তারা এখন নিজেদের কণ্ঠস্বর স্পষ্টভাবে তুলে ধরছেন। সমাজে নারীদের আত্মবিশ্বাস ও সচেতনতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে এবং এই পরিবর্তন ইতিবাচক ভবিষ্যতের ইঙ্গিত দেয়।’
প্রায় তিন দশকের অভিনয়জীবনে ৭০টিরও বেশি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন রানী মুখার্জি। রোমান্স, ড্রামা, কমেডি থেকে শুরু করে সামাজিক বার্তাধর্মী সিনেমা—বিভিন্ন ধারার গল্পে তিনি কাজ করেছেন। এ দীর্ঘ যাত্রায় খুব কাছ থেকে দেখেছেন, সময়ের সঙ্গে নারীর সামাজিক অবস্থান এবং চলচ্চিত্রে তাদের উপস্থাপনা কীভাবে বদলে গেছে।
রানী বলেন, ‘আজকের নারীরা আর চুপ করে থাকতে রাজি নন। তারা নিজেদের মতামত প্রকাশ করছেন এবং সমাজে নিজেদের জায়গা দাবি করছেন।’
তার মতে, এই পরিবর্তনের পেছনে রয়েছে সচেতনতা, সাহস এবং নিজের অধিকার সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা।
তিনি মনে করেন, চলচ্চিত্রে শক্তিশালী নারী চরিত্রের উপস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এমন চরিত্র শুধু বিনোদন দেয় না, বরং সমাজে একটি ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দেয়। রানি বলেন, ‘শক্তিশালী নারী চরিত্র দর্শকদের অনুপ্রাণিত করতে পারে এবং তরুণ প্রজন্মকে সাহস জোগাতে পারে।’
অভিনেত্রীর মতে, নারীদের নিজেদের মধ্যে ঐক্য ও পারস্পরিক সমর্থনও অত্যন্ত প্রয়োজন। তিনি বলেন, ‘নারীরা যদি একে অপরকে সমর্থন করেন এবং একসঙ্গে এগিয়ে যান, তবে সমাজে বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব।’
রানী মুখার্জি দীর্ঘদিন ধরেই শক্তিশালী নারী চরিত্রে অভিনয়ের জন্য পরিচিত। তার ভাষায়, একজন শিল্পী হিসেবে তিনি সব সময় এমন গল্প ও চরিত্র বেছে নিতে চেষ্টা করেন, যা সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এবং নারীদের আত্মবিশ্বাসী করে তুলতে সাহায্য করে।
সাক্ষাৎকারে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, বর্তমান সময়ের নারীরা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি দৃঢ় ও আত্মবিশ্বাসী। তারা অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলতে জানে এবং নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আর পিছিয়ে থাকার মানুষ নয়। এই পরিবর্তনই ভবিষ্যতের সমাজকে আরো সমতাভিত্তিক ও ন্যায়সংগত করে তুলতে পারে।










