‘দামু’, ‘আত্মীয় স্বজন’, ‘দেশ’, ‘দেবীপক্ষ’, ‘কৃষ্ণকান্তের উইল’, ‘ল্যাবরেটরি’ ও ‘মায়া মৃদঙ্গ’র মতো সিনেমা দিয়ে বাংলা চলচ্চিত্রে আলাদা জায়গা তৈরি করেছিলেন তিনি। চলচ্চিত্র, তথ্যচিত্র ও টেলিভিশন—তিন মাধ্যমেই কাজ করেছেন এ নির্মাতা।

বাংলা চলচ্চিত্রের এ প্রবীণ পরিচালক আর নেই। ১৬ আগস্ট সকালে কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। তার বয়স হয়েছিল ৭০ বছর। বেশ কিছুদিন ধরেই শারীরিক নানা জটিলতায় ভুগছিলেন রাজা সেন। সম্প্রতি নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার পর তার ফুসফুসের কার্যকারিতাও কমে যায়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে ভেন্টিলেশন সাপোর্টে থাকাকালে তার মৃত্যু হয়।

প্রায় এক দশক আগে মায়া মৃদঙ্গ সিনেমার শুটিংয়ের সময় পড়ে গিয়ে কোমরে গুরুতর আঘাত পেয়েছিলেন রাজা সেন। এর পর থেকেই শারীরিক নানা সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি। ধীরে ধীরে হাঁটাচলায়ও সমস্যা তৈরি হয়। চলতি বছরের শুরুতে তার শরীরের নিম্নাংশ অবশ হতে শুরু করলে চিকিৎসকরা পরীক্ষা করে জটিল স্নায়বিক সমস্যার কথা জানান। অস্ত্রোপচারের পর কিছুটা সুস্থ হলেও পরে আবার অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি।

রাজা সেনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর শোক নেমে এসেছে টলিউডে। সহকর্মী ও শিল্পীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে স্মরণ করছেন। অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় শোক জানিয়ে লিখেছেন, ‘একজন কিংবদন্তির বিদায় সবসময়ই বেদনাদায়ক। বাংলা চলচ্চিত্রে তার অবদান আমাদের কাছে অমূল্য। রাজাদা, আপনাকে শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি। আপনার সৃষ্টি ও স্মৃতি চিরকাল থেকে যাবে।’

১৯৯৬ সালে মুক্তি পাওয়া রাজা সেনের দামু তার ক্যারিয়ারের অন্যতম উল্লেখযোগ্য সিনেমা। সিনেমাটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সেরা শিশু চলচ্চিত্রের সম্মান পায়। এর আগে সুচিত্রা মিত্রকে নিয়ে তার নির্মিত তথ্যচিত্রও জাতীয় পুরস্কার পেয়েছিল। পরে আত্মীয় স্বজন সিনেমার জন্যও জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান তিনি।

শুধু চলচ্চিত্র নয়, বাংলা টেলিভিশনেও রাজা সেনের কাজের পরিচিতি ছিল। তার পরিচালনায় ‘সুবর্ণলতা’, ‘আদর্শ হিন্দু হোটেল’, ‘আরোগ্য নিকেতন’ ও ‘তারাশঙ্করের ছোট গল্প’র মতো ধারাবাহিক দর্শকের কাছে জনপ্রিয় হয়। বিশেষ করে সুবর্ণলতা তাকে টেলিভিশন দর্শকের কাছে ব্যাপক পরিচিত করে তোলে।

দীর্ঘ ক্যারিয়ারে কখনো বড় পর্দা, কখনো তথ্যচিত্র, আবার কখনো টেলিভিশনের জন্য কাজ করেছেন রাজা সেন। সাহিত্যনির্ভর গল্প এবং ইতিহাস ও সমাজের নানা বিষয়কে নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গিতে তুলে ধরার মধ্য দিয়ে তৈরি করেছিলেন নিজের নির্মাণ ভাষা। তার প্রয়াণে বাংলা চলচ্চিত্র হারাল আরো একজন গুণী নির্মাতাকে। তার রেখে যাওয়া কাজের মধ্য দিয়েই দর্শকের কাছে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবেন রাজা সেন।