শাহরুখ খান মানেই ভিন্ন কিছু। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি দর্শক মাতিয়ে যাচ্ছেন। বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় তারকাও তিনি। কিন্তু এ তারকার জন্যই পিছিয়ে গিয়েছিল মুম্বাইয়ের কয়েক শত বিয়ে। কেবল শাহরুখ নন, এ ঘটনার সঙ্গে যুক্ত সঞ্জয় লীলা বানসালিরও নাম। কেননা, 'দেবদাস' সিনেমার জন্যই ঘটেছিল এই ঘটনা। সম্প্রতি ‘দেবদাস’ সিনেমার সিনেমাটোগ্রাফার বিনোদ প্রধান এ কথা প্রকাশ করেছেন।

বিনোদ জানান, ‘দেবদাস’ ছবির প্রোডাকশন স্কেল অনেক বড় ছিল। প্রায় ১ কিলোমিটার জুড়ে চন্দ্রমুখীর কোঠা (বিশাল বাড়ি) বানানো হয়েছিল মুম্বাইয়ে। তিনি বলেন, 'আমি আমার সহকারীদের নিয়ে দেখতে গিয়েছিলাম যে কীভাবে সেট বানানো হচ্ছে। যা দেখলাম তাতে রীতিমতো চমকে যাই। আমরা ভাবতে শুরু করি যে কীভাবে এতে আলো লাগানো হবে। সেটের একদম শেষ মাথায় ১০০ ওয়াটের একটি লাইট লাগাতে বলি আমার এক সহকারীকে। তারপর ধীরে ধীরে গোটা সেটে আলো লাগানো হয়। মুম্বাইয়ে যত জেনারেটর ছিল সব ব্যবহার করে ফেলি সেটের জন্য।’

সাধারণত মুম্বাইয়ের বিয়ে জাঁকজমক করে হয়। সেখানে করা হয় আলোকসজ্জা। প্রয়োজন হয় জেনারেটর। কিন্তু মুম্বাইয়ের জেনারেটরগুলো ছিল ‘দেবদাস’ সিনেমার কব্জায়। এ নিয়ে বিনোদ বলেন, ‘এ ঘটনার জন্য বহু বিয়ে পিছিয়ে গিয়েছিল। আমরাই সব জেনারেটর ব্যবহার করে ফেলেছিলাম। জায়গাটা এতটাই বড় ছিল যে আমাদের প্রচুর জেনারেটর ব্যবহার করতে হয়েছিল। ওরা আমায় বলেছিল যে এত জেনারেটর আমরা ব্যবহার করেছি যে বহু মানুষ বিয়ে পিছিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছেন। কারণ বিয়েতে ব্যবহার করার মতো কোনো জেনারেটর আর ছিল না।’

WhatsApp Image 2025-03-12 at 16.28.39

‘দেবদাস’ সিনেমার একটি দৃশ্যে দেবদাস চরিত্রে শাহরুখ খান ও পারু বা পার্বতী চরিত্রে ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস অবলম্বনে ‘দেবদাস’ নির্মিত হয়েছে বহুবার। কিন্তু বানসালির সিনেমাটি প্রায় সবাইকে ছাড়িয়ে গিয়েছিল। এ সিনেমায় দেবদাস চরিত্রে ছিলেন শাহরুখ, পারু বা পার্বতী চরিত্রে ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন ও চন্দ্রমুখী চরিত্রে মাধুরী দীক্ষিত। সিনেমাটি ২০০২ সালে কান চলচ্চিত্র উৎসবে প্রিমিয়ার হওয়ার পর ওই বছর জুনে ভারতসহ সারা বিশ্বে মুক্তি পায়। ওই সময়ে ৫০ কোটি রুপি খরচ করেছিলেন বানসালি। সিনেমাটি সারা বিশ্ব থেকে ১৬৮ কোটি রুপি আয় করেছিল।

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস