মঞ্চে অপমান ও হেনস্তার শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তী। ভারতের উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁয় একটি অনুষ্ঠানে পারফরম্যান্স চলাকালীন তাকে জোর করে মঞ্চ থেকে নামিয়ে দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে আয়োজক সংস্থার কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘিরে ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক।

ঘটনার পুরো বিবরণ মিমি চক্রবর্তী নিজের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে তুলে ধরেছেন। পাশাপাশি তিনি বনগাঁ থানায় আনুষ্ঠানিকভাবে হেনস্তার অভিযোগও দায়ের করেছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে বলে জানা গেছে।

মিমি চক্রবর্তীর অভিযোগ অনুযায়ী, মঞ্চে তার সঙ্গে যে আচরণ করা হয়েছে, তা অপমানজনক ও অসম্মানজনক। তিনি মনে করেন, এ ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে এখনই প্রতিবাদ না করলে ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি আরও বাড়বে।

ঘটনাটি ঘটে রোববার (২৫ জানুয়ারি)। বনগাঁর নয়া গোপাল গুঞ্জ যুব সংঘের আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে অংশ নেয়ার কথা ছিল অভিনেত্রীর। অনুষ্ঠানে পৌঁছাতে তার প্রায় এক ঘণ্টা দেরি হয় বলে জানা যায়। এরপর তিনি মঞ্চে ওঠেন। সে সময় তাকে এক ঝলক দেখতে এবং ছবি তুলতে বিপুলসংখ্যক দর্শক অপেক্ষা করছিলেন।

অভিযোগ রয়েছে, পারফরম্যান্স চলাকালীন হঠাৎ করেই তাকে কার্যত জোর করে মঞ্চ থেকে নামিয়ে দেয়া হয়। দেরিতে আসার বিষয়টি সামনে এনে তাকে আর অনুষ্ঠান চালিয়ে যেতে দেয়া হয়নি। এ ছাড়া মিমির সঙ্গে ছবি তোলার অপেক্ষায় থাকা দর্শকদেরও সেখান থেকে সরিয়ে দেয়া হয়, যা কোনো ধরনের পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই ঘটে।

এ ঘটনায় তনয় শাস্ত্রী নামে এক ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে, যিনি নয়া গোপাল গুঞ্জ যুব সংঘের সদস্য এবং পেশায় জ্যোতিষী বলে পরিচিত। অভিযোগ রয়েছে, তিনিই মিমিকে মঞ্চ থেকে নামিয়ে দেন। তবে এ বিষয়ে পুলিশ প্রশাসন এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

অন্যদিকে উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে ভিন্ন দাবি করা হয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, চুক্তি অনুযায়ী মিমি চক্রবর্তীর অনুষ্ঠানে পৌঁছানোর কথা ছিল সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার মধ্যে। কিন্তু তিনি পৌঁছান রাত সাড়ে ১১টার পর। এতে দর্শকদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। সেই কারণেই তাকে পারফর্ম করতে দেয়া হয়নি বলে উদ্যোক্তাদের দাবি।

মিমি চক্রবর্তীর দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা কী এবং এই ঘটনার আইনি পরিণতি কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, সে দিকেই এখন নজর সবার।