করোনায় বিধ্বস্ত যুক্তরাষ্ট্রকে এ মুহূর্তে কি একটু স্বস্তি দিচ্ছে গ্রেহাউন্ড? অনেকে তো তা-ই মনে করছেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে আমেরিকান আদর্শ আর অবদানের একটি উপস্থাপনা দেখা গেছে টম হ্যাংকস অভিনীত সদ্য মুক্তি পাওয়া ছবি গ্রেহাউন্ডে।
হলিউডে আমেরিকার আদর্শ পুরুষকে তুলে ধরতে সম্ভবত সবচেয়ে বেশি কাজ করেছেন টম হ্যাংকস। সেভিং প্রাইভেট রায়ান, অ্যাপোলো থার্টিন, ফরেস্ট গাম্প, সালি, ক্যাপ্টেন ফিলিপস, ব্রিজেস অব স্পাইস ছবিগুলো আমেরিকার আদর্শ নায়কের চরিত্রকে সামনে এনেছে। আর সবগুলোতেই সেই প্রতীকটি হয়ে উঠেছেন টম হ্যাংকস।
গ্রেহাউন্ড দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকে ভিত্তি করে নির্মিত সিনেমা। ছবিটি নির্মিত হয়েছে সিএস ফোরস্টারের দ্য গুড শেফার্ড উপন্যাস অবলম্বনে। কাহিনীর মূল অবশ্য বাস্তব ঘটনা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ১৯৪২ সালে ৩৭টি জাহাজের একটি কনভয়কে নিরাপদে আটলান্টিক পার করে দেয়ার কঠিন দায়িত্ব নিয়েছিলেন ক্যাপ্টেন আর্নেস্ট ক্রাউস। আর এ ক্যাপ্টেনের ভূমিকাতেই দেখা গেছে টম হ্যাংকসকে আর তার যুদ্ধজাহাজটির নাম গ্রেহাউন্ড।
যুক্তরাষ্ট্র থেকে ব্রিটেনে সরবরাহ বন্ধে আটলান্টিকে অনেকগুলো সাবমেরিন মোতায়েন করে অক্ষশক্তি। এগুলোকে মোকাবেলা করে বাণিজ্য জাহাজের কনভয় লিভারপুলে পৌঁছে দেয়া ছিল গ্রেহাউন্ডের ক্যাপ্টেন ক্রাউসের দায়িত্ব। যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনের বিমানগুলো পুরো পথ বহরটিকে পাহারা দিতে পারেনি। কারণ তাদের বিমানের ওড়ার রেঞ্জ ততটা ছিল না।
আটলান্টিকের বুকে নািস ইউ বোটের মুখোমুখি হতে হয় টম হ্যাংকসকে। সাগরের সে অংশটি ‘ব্ল্যাক পিট’
নামে পরিচিত ছিল।
গ্রেহাউন্ড ছবির চিত্রনাট্য টম হ্যাংকস নিজেই লিখেছেন। পরিচালক অ্যারন শ্নাইডার চরিত্র নির্মাণের চেয়ে যুদ্ধের অভিজ্ঞতাই বেশি দেখাতে চেয়েছেন।
উন্নত যন্ত্রপাতি না থাকায় সে সময় সাবমেরিনের মোকাবেলা করাটা ছিল যুদ্ধজাহাজের জন্য বেশ কঠিন কাজ। গ্রেহাউন্ডের কমান্ডার টম হ্যাংকসকে তাই দারুণ চাপের মধ্যে কাজ করতে হয়। তবে তার চরিত্রে নায়কোচিত কোনো প্রকাশ দেখা যায় না। যা দেখা যায় তার পুরোটাই এক দায়িত্ববান ক্যাপ্টেনের চেহারা।
ছবিতে সিজিআই ব্যবহূত হয়েছে বেশ। টম হ্যাংকস ছাড়া সেভাবে আর কোনো চরিত্রের বিকাশ ছিল না। বলতে গেলে যুদ্ধের দিনলিপি আর টম হ্যাংকস—এ নিয়েই গ্রেহাউন্ড।
গত ১২ জুন গ্রেহাউন্ড থিয়েটারে মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু করোনা মহামারী তা হতে দেয়নি। ১০ জুলাই অ্যাপল টিভি প্লাসে মুক্তি পেয়েছে গ্রেহাউন্ড।
গ্রেহাউন্ড লম্বা ছবি নয়। ৯০ মিনিট। পুরোটা সময়ই দর্শক থাকবেন উত্তাল, ধূসর আটলান্টিকের বুকে। ছবিটি চমকে দেয়ার মতো হয়নি। তবে টম হ্যাংকস একে মর্যাদাপূর্ণ একটা অবস্থানে নিয়েছেন। মোটাদাগে এই হলো সমালোচকদের মূল্যায়ন।
সূত্র: মিলিটারি টাইমস










