দীর্ঘদিন ধরেই নিজস্ব কৌতুকধর্মী ধারা, সাহসী বক্তব্য এবং মৌলিক গল্প বলার জন্য তিনি পরিচিত। ‘সুপারবেড’, ‘পাইনঅ্যাপেল এক্সপ্রেস’ ও ‘দ্য স্টুডিও’-র মতো কাজের মাধ্যমে তিনি হলিউডে আলাদা অবস্থান তৈরি করেছেন। এবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে চিত্রনাট্য লেখার প্রবণতার বিরুদ্ধে কঠোর মন্তব্য করে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন তিনি।
চলতি কান চলচ্চিত্র উৎসবে ব্রুটকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে রোগেন জানান, গল্প বা স্ক্রিপ্ট লেখার জন্য যারা এআইয়ের ওপর নির্ভর করেন, তাদের লেখক হওয়া উচিত নয়। তার ভাষায়, ‘যদি আপনার প্রবণতা হয় এআই ব্যবহার করা এবং প্রকৃত সৃজনশীল প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে না যাওয়া, তাহলে আপনি লেখক নন। অন্য কিছু করুন।’
বর্তমানে হলিউডজুড়ে এআই নিয়ে তীব্র বিতর্ক চলছে। বিশেষ করে চিত্রনাট্য লেখা, ভয়েস ক্লোনিং এবং ডিজিটাল পারফরম্যান্স নিয়ে শিল্পীদের উদ্বেগ বাড়ছে। ২০২৩ সালের হলিউড ধর্মঘটেও এআই ছিল অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। লেখক ও অভিনয়শিল্পীদের সংগঠনগুলো দাবি তোলে, এআই যেন মানবশিল্পীদের কাজ প্রতিস্থাপন করতে না পারে।
এ প্রেক্ষাপটে রোগেনের বক্তব্য আরো তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তিনি বলেন, ‘এমন কোনো প্রযুক্তির ধারণা, যা আমাকে কম লিখতে সাহায্য করবে সেটি আমার কাছে আকর্ষণীয় নয়। কারণ আমি লিখতে ভালোবাসি।’ তার মতে, লেখালেখির মূল আনন্দই হলো দীর্ঘ সৃজনশীল প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাওয়া।
কানে রোগেন এসেছেন তার নতুন অ্যানিমেটেড চলচ্চিত্র ‘ট্যাংগেলস’-এর প্রচারণায়। সিনেমাটি এক তরুণীর গল্প নিয়ে, যে তার মায়ের আলঝেইমার রোগ নির্ণয়ের পর মানসিক সংকট ও একাকিত্বের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যায়। রোগেন বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, সিনেমাটিতে কোনো এআই ব্যবহার করা হয়নি। এটি সম্পূর্ণ হাতে আঁকা অ্যানিমেশন। তার ভাষায়, ‘প্রতিটি ফ্রেমে মানুষের স্পর্শ রয়েছে, আর সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’
সিনেমার প্রযোজক মিলার রোগেন জানান, তার নিজের মাও আলঝেইমারে আক্রান্ত ছিলেন। তাই গল্পের সঙ্গে তিনি ব্যক্তিগতভাবে গভীর সম্পর্ক অনুভব করেছেন। তিনি জানান, রোগ নির্ণয়ের পর যে ভয়, অস্বীকার ও একাকিত্ব তৈরি হয়, সেটি সিনেমায় খুব মানবিকভাবে উঠে এসেছে।
প্রযুক্তিনির্ভর বিনোদনশিল্পের এ পরিবর্তনের সময়ে সেথ রোগেনের বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
ছবি ও সূত্র: ভ্যারাইটি










