‘এত মানুষের দুর্ভোগের মুখে নীরব থাকা নিরপেক্ষতা নয়, বরং অন্যায়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততা’—টুগেদার ফর প্যালেস্টাইন অনুষ্ঠানে এভাবেই নিজের ক্ষোভ আর মানবিক তাড়নার কথা প্রকাশ করেছেন হলিউড তারকা ফ্লোরেন্স পিউ। গাজা ও ফিলিস্তিনের নিপীড়িত মানুষের পক্ষে শুরুতেই বেশ সরব ছিলেন তিনি।

বর্তমানে গাজা ও ফিলিস্তিনের সার্বিক পরিস্থিতি এক চরম মানবিক বিপর্যয়ের মুখে। একের পর এক বিমান হামলা, খাদ্যাভাব, সুপেয় পানির সংকট আর চিকিৎসাসেবার অভাবে প্রতিটি মুহূর্ত সেখানে বেঁচে থাকার লড়াই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিদিন ভেসে ওঠে হাজারো শিশুর প্রাণহানি আর মা-বাবার আর্তনাদের ছবি। ভ্যানিটি ফেয়ারকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে পিউ জানান, নিজের আনন্দের মুহূর্ত ভাগ করে নেয়া কঠিন হয়ে পড়ে, যখন একই পর্দায় চোখে পড়ে মা-বাবাহীন কোনো শিশুর ছবি কিংবা বিপর্যস্ত মানুষের দুর্দশা। এ নৃশংস বাস্তবতার সামনে দাঁড়িয়ে যখন পুরো হলিউড প্রায় নীরব, তখনো নিজের অবস্থান থেকে সরে আসেননি পিউ।

তবে তার এ অবস্থানের মূল্যও দিতে হয়েছে। ফিলিস্তিনের পক্ষে জোরালো কণ্ঠ তোলার খেসারত হিসেবে গত কয়েক বছর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েক লাখ অনুসারী হারিয়েছেন এ তারকা। অন্যদের নীরবতা তাকে যেমন বিস্মিত ও বিভ্রান্ত করেছে, তেমনি আরো জোরালোভাবে সরব হওয়ার প্রয়োজনীয়তাও অনুভব করিয়েছে।

গত বছর আয়োজিত ‘টুগেদার ফর প্যালেস্টাইন’ অনুষ্ঠানে পিউর অংশগ্রহণ তুমুল আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। ওই অনুষ্ঠানে মানবিক সহায়তার জন্য ২০ লাখ ডলারের বেশি তহবিল সংগ্রহ হয়। এখানে পারফর্ম করেন গরিলাজ, ব্রায়ান এনো, জেমস ব্লেক, সামফাসহ আরো শিল্পীরা। অনুষ্ঠানে পিউর বক্তব্য ছিল, ‘সহমর্মিতা দেখানো এত কঠিন হওয়ার কথা নয়, কখনই এমন হওয়া উচিত ছিল না।’

পিউয়ের কাছে তাই ফিলিস্তিনের পক্ষে সরব হওয়া কেবল কোনো রাজনৈতিক অবস্থান নয়, বরং মানুষের দুর্ভোগের মুখে মানবিক দায়বদ্ধতার প্রকাশ।

সূত্র: ভ্যারাইটি