পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা বলেছেন, আপনাদের ছেলে মেয়েরা শিক্ষিত হতে পারছে না, কারণ এলাকায় বিদ্যালয় নাই। প্রত্যেকের জীবনমান উন্নয়ন হোক আমরা এ প্রত্যাশা করি। কফি-কাজু আবাদ সম্প্রসারণ করার পরিকল্পনা রয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের। বান্দরবানে প্রচুর পরিমাণে কফি-কাজু উৎপাদন হচ্ছে। আপনারা কফি, কাজুসহ নানান অর্থকরী ফসল আবাদ করেন। আপনারা আপনাদের জীবনমান উন্নত করবেন। আপনাদের জন্য বাড়ি করে দেয়া হবে। আপনারা আপনাদের অধিকার নিয়ে এ জায়গায় থাকবেন। কারণ এই জায়গা ছাড়া আপনাদের কোনো কিছু নাই। আপনারা আপনাদের অধিকারকে হাতছাড়া করবেন না।
শুক্রবার (২৭ ডিসেম্বর) সকালে বান্দরবানের সরই ইউনিয়নে অগ্নিসংযোগে ক্ষতিগ্রস্ত টঙ্গঝিরি পূর্ব বেতছড়াপাড়া পরিদর্শন শেষে আয়োজিত আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
উপদেষ্টার কাছে স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন, ক্ষমতার অপব্যবহার করে সরই ইউনিয়নে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন ৮ হাজার একর, এলজিআরডির সাবেক মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম ও তার স্ত্রী ফৌজিয়া ইসলাম তিনশ একর, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ ৬০ একর স্থানীয়দের জমি দখলে করে নিয়েছে। এর ফলে নিজ জমি থেকে উচ্ছেদ হয়ে বর্তমানে মানবেতর জীবন যাপন করছে শতাধিক ভুক্তভোগী পরিবার। বেনজীর লাপাত্তা হবার পর নিজেদের ভূমিতে বাড়ি করে বসবাস করছেন ১৯ পরিবার। কিন্তু গত মঙ্গলবার রাতে বড়দিন উপলক্ষে ধর্মীয় কাজে টঙ্গঝিরি গেলে পাড়ায় মানুষ না থাকার সুযোগে অগ্নিসংযোগ করে বেতছড়াপাড়ার ১৭ টি বাড়ি ভষ্মীভূত করেছে বেনজীরের লোকেরা। এছাড়া কৃষি জমি রক্ষার্থে সরই ইউনিয়নের সরই ও পোলো খালের বিভিন্ন স্থানে নির্বিচারে বালি উত্তোলন বন্ধ করারও আবেদন জানান স্থানীয়রা।
এ পরিপ্রেক্ষিতে উপদেষ্টা বলেন, আপনারা কীভাবে এই জিনিসটা বন্ধ করবেন। পাহাড়ের খাস ভূমি আজকে গাজী গ্রুপ নিয়েছে, আমি উপদেষ্টা হয়েছি, আমিও ক্ষমতাবান হয়েছি, পরশু তিনশ একর জায়গা নেব। এ ধরনের কোনো ঘটনা যাতে না ঘটে এ বিষয়ে খেয়াল রাখতে জেলা প্রশাসক ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন উপদেষ্টা। বালি উত্তোলন, ইটভাটা সংক্রান্ত বিষয় পরিবেশ উপদেষ্টাকে অবগত করবেন বলে জানান তিনি।
আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান থানজামা লুসাই, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান (যুগ্ম সচিব) রিপন চাকমা, জেলা প্রশাসক শাহ্ মোজাহিদ উদ্দিন, পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ কাওছার প্রমুখ। আলোচনা শেষে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতি পরিবারকে দুই বান ঢেউটিন, দুটি কম্বল ও ৩০ কেজি ওজনের এক বস্তা চাল বিতরণ করা হয়।










