২১ কোটি ৫৭ লাখ ২৯ হাজার টাকায় নির্মিতব্য যশোরের চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৫০ শয্যা থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীতকরণ কাজে চরম অব্যবস্থাপনা এবং নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে নির্মাণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ কাজে অতি নিম্নমানের ইট, নিম্নমানের বালি, স্বল্প গ্রেডের রড, নিম্নমানের পাথর ব্যবহার এবং যথাযথ নির্মাণ প্রক্রিয়া না মানাসহ নানা অভিযোগ উঠেছে। কাজটির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এবং স্বাস্থ্য প্রকৌশল দপ্তরের যোগসাজশে এ নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। স্থানীয়ভাবে উপজেলা প্রশাসন বা উপজেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় না করার অভিযোগও রয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে।
প্রসূতি সেবায় জাতীয় পর্যায়ে বারবার উপজেলা পর্যায়ের দেশসেরা হাসপাতাল হওয়ায় ২০১৮ সালে হাসপাতালটিকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। এরপর নানা জটিলতা শেষে প্রথমে ২০২১ সালের ২৯ এপ্রিল এবং পরে একই বছরের ২৯ আগস্ট কাজটির কার্যাদেশ দেয়া হয়। ব্যয় নির্ধারণ করা হয় ২১ কোটি ৫৭ লাখ ২৯ হাজার ৮০৪ টাকা। ১৮ মাসের মধ্যে কাজটি নির্মাণের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়। এরপর এমসিএল-এসএইই কনসোর্টিয়াম নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি নির্মাণ শুরু করে। কাজ শুরুর পর থেকেই নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ করার অভিযোগ ওঠে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ জুন অনুষ্ঠিত চৌগাছা উপজেলা পরিষদের মাসিক আইনশৃঙ্খলা সভায় বিষয়টি উত্থাপন করেন সিংহঝুলী ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হামিদ মল্লিক। সভায় বিষয়টি বিস্তারিত আলোচনা শেষে চৌগাছা উপজেলা প্রকৌশলী রিয়াসাত ইমতিয়াজকে আহ্বায়ক করে সিংহঝুলী ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হামিদ মল্লিক এবং ধুলিয়ানী ইউপি চেয়ারম্যান এসএম মোমিনুর রহমানকে সদস্য করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটি ঘটনাস্থলে গিয়ে এর সত্যতা পান।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, স্বাস্থ্য প্রকৌশল দপ্তরের প্রকৌশলীরা ঢালাইয়ের দিন ছাড়া ঘটনাস্থলেই আসেন না। তাদের নিশ্চুপ থাকার সুযোগে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এভাবে অনিয়ম করে যাচ্ছে। রোববার বিকালে ঘটনাস্থলে গেলে সেখানে থাকা স্বাস্থ্য প্রকৌশল দপ্তর যশোরের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আরিফ এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলী ইমরান এ বিষয়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।
চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোছা. লুত্ফুন্নাহার বলেন, আমরা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বারবার ভালো মালপত্র দিয়ে কাজ করার জন্য তাগাদা দিলেও তারা বিষয়টি আমলে নিচ্ছেন না। বিষয়টি আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।
চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইরুফা সুলতানা বলেন, এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি করা হয়। কমিটি নিম্নমানের মালপত্র দিয়ে কাজ করার সত্যতা পেয়েছে।










