আকারের দিক থেকে বিশ্বের ৩৫তম অর্থনীতি বাংলাদেশকে ২০তম স্থানে উন্নীত করতে চায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। ২০৪০ সালের মধ্যে অর্থনীতিকে ২ ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার পাশাপাশি মাথাপিছু আয় দাঁড়াবে ১০ হাজার ডলার। এজন্য প্রযুক্তিভিত্তিক কৃষি, স্মার্ট ম্যানুফ্যাকচারিং, আইসিটি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও আর্থিক খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হবে। গতকাল ঘোষণা করা দলটির নির্বাচনী ইশতাহারে এসব পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে।

রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে গতকাল দলের নির্বাচনী ইশতাহার তুলে ধরেন জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান। ‘একটি নিরাপদ ও মানবিক বাংলাদেশ’ গড়ার প্রত্যয়ে ‘চলো সবাই একসাথে গড়ি বাংলাদেশ’ স্লোগানকে সামনে রেখে ঘোষিত এ ইশতাহারে ১০টি মৌলিক প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে, অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে ২৬টি বিষয়ে। জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা পূরণের লক্ষ্যে জনপ্রত্যাশা বাস্তবায়নে বিভিন্ন শ্রেণী, পেশা ও সাধারণ মানুষের মতামত নিয়ে তৈরি করা এ ইশতাহার ঘোষণা করেছে দলটি। জামায়াতের পক্ষ থেকে বলা হয়, ইশতাহার প্রণয়নে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন পেশার ২৫০ জনের বেশি বিশেষজ্ঞের ভূমিকার পাশাপাশি জনগণের মতামতকেও গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, রাজনৈতিক নেতা, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, শিক্ষক, অর্থনীতিবিদ, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার বিশিষ্টজনরা উপস্থিত ছিলেন।

ইশতাহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে জামায়াত আমির বলেন, ‘আমরা আগামীতে কোনো দলীয় সরকার গঠন করতে চাই না। আমরা সাম্য ও ইনসাফের এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই যেটি হবে জনতার, জনগণের। তাই বলছি আমাদের ইশতাহার একটি জনবান্ধব, ব্যবসাবান্ধব, শান্তি ও শৃঙ্খলাবান্ধব ইশতাহার। আমরা যদি নেতৃত্বের সুযোগ পাই তাহলে এ দেশের চা শ্রমিকের সন্তান চা বাগান থেকে বেরিয়ে এসে দেশের প্রধানমন্ত্রী হবে। এ দেশের তরুণরা বেকার থাকবে না। আমরা যুবকদের বেকার ভাতা দিতে চাই না। এটা তাদের জন্য অপমান। আমরা তাদের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করব। যুবকদের বাংলাদেশ নামের উড়োজাহাজের ককপিটে বসিয়ে দেব। আমরা বসব যাত্রীর আসনে। কারণ এ দেশকে আগামীতে নেতৃত্ব দেবে তরুণরা।’

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী যদি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়, তাহলে পাঁচ বছরে ২৬টি বিষয়ে অগ্রাধিকার দিয়ে সরকার পরিচালনার ইশতাহার তুলে ধরা হয়। এগুলো হলো—‘জাতীয় স্বার্থে আপসহীন বাংলাদেশ’ স্লোগানের আলোকে স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থে আপসহীন রাষ্ট্র গঠন; বৈষম্যহীন, ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক একটি মানবিক বাংলাদেশ গঠন; যুবকদের ক্ষমতায়ন ও রাষ্ট্র পরিচালনায় তাদের প্রাধান্য দেয়া; নারীদের জন্য নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক রাষ্ট্র গঠন; আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির সার্বিক উন্নয়নের মাধ্যমে মাদক, চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসমুক্ত একটি নিরাপদ রাষ্ট্রে বিনির্মাণ; সব পর্যায়ে সৎ নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের মাধ্যমে দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গঠন; প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক ও স্মার্ট সমাজ গঠন; প্রযুক্তি, ম্যানুফ্যাকচারিং, কৃষি ও শিল্পসহ নানা সেক্টরে ব্যাপকভিত্তিক কর্মসংস্থান সৃষ্টি; সরকারি চাকরিতে বিনামূল্যে আবেদন, মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ ও সব ধরনের বৈষম্য দূরীকরণ; ব‍্যাংকসহ সার্বিক আর্থিক খাত সংস্কারের মাধ্যমে আস্থা ফিরিয়ে এনে বিনিয়োগ ও ব্যবসাবান্ধব টেকসই স্বচ্ছ অর্থনীতি বিনির্মাণ; সমানুপাতিক (পিআর) পদ্ধতির নির্বাচনসহ সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ সৃষ্টি ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা শক্তিশালী করে সুসংহত ও কার্যকর গণতন্ত্র নিশ্চিত করা; কৃষিতে প্রযুক্তির ব্যবহার ও কৃষকদের সহযোগিতা বাড়ানোর মাধ্যমে কৃষিতে বিপ্লব সৃষ্টি করা; ২০৩০ সালের মধ্যে সম্পূর্ণ ভেজালমুক্ত খাদ্যনিরাপত্তা এবং ‘তিন শূন্য ভিশন’ (পরিবেশগত অবক্ষয়ের শূন্যতা, বর্জ্যের শূন্যতা ও বন্যা-ঝুঁকির শূন্যতা) বাস্তবায়নের মাধ্যমে সবুজ ও পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ’ গড়া; ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের বিকাশের পাশাপাশি শিল্প প্রতিষ্ঠা, দেশী-বিদেশী বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতের মাধ্যমে ব্যাপকভিত্তিতে শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান তৈরি; শ্রমিকদের মজুরি ও জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি এবং মানসম্মত কাজের পরিবেশ, বিশেষ করে নারীদের নিরাপদ কাজের পরিবেশ সৃষ্টি করা; প্রবাসীদের ভোটাধিকারসহ সব অধিকার নিশ্চিতকরণ এবং দেশ গঠনে আনুপাতিক ও বাস্তবসম্মত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা; সংখ্যাগুরু-সংখ্যালঘু (মেজরিটি-মাইনরিটি) নয়, বরং বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে সবার নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং পিছিয়ে থাকা নাগরিক ও শ্রেণী-গোষ্ঠীর জন্য বিশেষ সুবিধা নিশ্চিত করা; আধুনিক ও সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা প্রদান এবং গরিব ও অসহায় জনগোষ্ঠীর জন্য পর্যায়ক্রমে বিনামূল্যে উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করা; সমসাময়িক বিশ্বের চাহিদাকে সামনে রেখে শিক্ষা ব্যবস্থার মৌলিক সংস্কার এবং পর্যায়ক্রমে বিনামূল্যে শিক্ষা নিশ্চিত করা; দ্রব্যমূল্য ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রেখে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এবং অন্যান্য মৌলিক চাহিদার পূর্ণ সংস্থানের নিশ্চয়তা; যাতায়াত ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো এবং রাজধানীর সঙ্গে বিভাগীয় শহরগুলোর সড়ক বা রেলপথের দূরত্ব পর্যায়ক্রমে ২-৩ ঘণ্টায় নামিয়ে আনা। দেশের আঞ্চলিক যোগাযোগ ও ঢাকার অভ্যন্তরীণ যাতায়াত ব্যবস্থায় মৌলিক পরিবর্তন আনা; নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য স্বল্পমূল্যে আবাসন নিশ্চিত করা; ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার পূর্ণ বিলোপে চলমান বিচার ও সংস্কার কার্যক্রমকে অব্যাহত রেখে বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার পুনর্জন্ম রোধ করা; সর্বজনীন সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করার মাধ্যমে নিরাপদ কর্মজীবন ও পর্যায়ক্রমে সব নাগরিকের আন্তর্জাতিক মানের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা; সব পর্যায়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির মাধ্যমে সুশাসন নিশ্চিত করে একটি সুখী ও সমৃদ্ধ কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা।

জামায়াতের নির্বাচনী ইশতাহারে আটটি অধ্যায়ে ৪১টি খাতের বিষয়ে রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে তৃতীয় ভাগে টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও ব্যাপকভিত্তিক কর্মসংস্থানের বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ’মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর অর্থনীতি’ শিরোনামে বলা হয়েছে, বিশ্বের ৩৫তম অর্থনীতি থেকে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে ২০তম স্থানে এ উন্নীত করতে চায় জামায়াত।

অর্থনৈতিক পরিকল্পনা নিয়ে ইশতাহারে বলা হয়েছে, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড গতিশীল করতে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ক্রমান্বয়ে ৭ শতাংশে উন্নীত করা, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এবং সব পদ্ধতিগত জটিলতা দূর করার মাধ্যমে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি এবং বেসরকারি বিনিয়োগ বিশেষভাবে উৎসাহিত করা, বিনিয়োগকে গতিশীল করার লক্ষ্যে ইনভেস্টমেন্ট বন্ড মার্কেট গড়ে তোলা, প্রয়োজনীয় কাঠামোগত সংস্কার, সহজীকরণ ও করের আওতা সম্প্রসারণের মাধ্যমে রাজস্ব আহরণ জিডিপির ১৪ শতাংশে উন্নীত করা হবে। এছাড়া রাজস্ব আয় বৃদ্ধির মাধ্যমে ঋণের ওপর নির্ভরশীলতা হ্রাস, রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধির পাশাপাশি সরকারি বিনিয়োগসহ মোট ব্যয় জিডিপির ২০ শতাংশে উন্নীত করা, নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণীর জীবনযাত্রা সহজ করার জন্য করমুক্ত আয়ের সীমা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি করে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এছাড়া দেশের বাজেট ঘাটতি যাতে কোনোক্রমেই জিডিপির ৫ শতাংশ অতিক্রম না করে তা নিশ্চিত করা, সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন স্কেল বাস্তবায়ন, করপোরেট ট্যাক্স পর্যায়ক্রমে ২০ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনা, দুর্নীতি, অপচয় ও অদক্ষতা দূর করে সরকারি ব্যয়ের কার্যকারিতা বৃদ্ধি, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন ও ব্যাংক খাতে সুশাসন নিশ্চিত করা, ব্যাংক ও ব্যাংক-বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর খেলাপি ঋণ দ্রুততম সময়ে সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনা, আর্থিক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, আর্থিক খাত সংস্কার কমিশন গঠন, বিদেশে পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনার লক্ষ্যে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। টাকা পাচার ঠেকাতে বিদ্যমান মুদ্রা পাচার আইনসহ আর্থিক খাতের অন্যান্য আইনের প্রয়োজনীয় সংস্কার করা হবে। শেয়ারবাজারে সব প্রকার অনিয়ম ও কারসাজি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া এবং আস্থাহীনতা দূর করে শেয়ারবাজারকে গতিশীল ও কার্যকর করা, রফতানি বহুমুখীকরণের মাধ্যমে রফতানি আয় বৃদ্ধি, প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির বাধা অপসারণ এবং বাংলাদেশকে বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে কার্যকর অংশীদার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা, রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠান/কোম্পানিগুলোকে লাভজনক ও প্রতিযোগী সক্ষম প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর এবং অলাভজনক শিল্পপ্রতিষ্ঠানের স্থলে প্রয়োজনে অন্যান্য শিল্প স্থাপন করা হবে। দুর্নীতিরোধে সরকারি ক্রয় ও টেন্ডারে স্মার্ট কন্ট্রাক্টভিত্তিক স্বচ্ছ ব্যবস্থা চালু করা হবে।

ইশতাহার প্রকাশ অনুষ্ঠানে শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে জামায়াতে ইসলামীর নানা প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘নির্বাচিত হলে আমরা প্রাইভেট ভেঞ্চারকে বেশি উৎসাহিত করব। শিল্প মালিকদের সমাজের আইকন হিসেবে তুলে ধরব। শিশুকে যেমন মা লালন-পালন করে তেমনি শিল্পকে শিশুর মতো লালন-পালন করব। আমরা মালিক ও শ্রমিক পক্ষকে মুখোমুখি করব না। শিল্পকে বাঁচাতে দুই পক্ষকে বসিয়ে বোঝাব। কারণ শিল্পকে বাঁচাতে মালিক ও শ্রমিক উভয়কে দরকার।’

কর্মসংস্থান সৃষ্টির অন্যতম প্রধান খাত হিসেবে এসএমইকে অগ্রাধিকারের পাশাপাশি বিদেশে জনশক্তি রফতানির ক্ষেত্রে তাদের দক্ষতা বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে ইশতাহারে। রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের জন্য সামাজিক অন্তর্ভুক্তমূলক তহবিল গঠনের কথা জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ‘আমরা দুইটা রেমিট্যান্স চাই যা আমাদের অর্থনীতির চাকা ঘুরানোর জন্য দরকার। এর মধ্যে একটা আসবে আমাদের রফতানি ব্যবসা থেকে। আরেকটি আসবে রেমিট্যান্স থেকে। আমাদের রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের জন্য কিছুই করা হয় না। তারা দেশে ফিরে যাতে বেকার হয়ে না পড়ে বা পরিবারের বোঝা না হয় তার জন্য আমরা সামাজিক অন্তর্ভুক্তমূলক তহবিল গঠন করব।’

সমাজে নারীদের অধিকার রক্ষায় নারী উদ্যোক্তা তৈরিসহ নানা পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে। ইশতাহারে বলা হয়েছে গ্রামীণ নারীদের ব্যবসার জন্য প্রণোদনার ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া মাতৃত্বকালীন সময়ে মায়েদের সম্মতি সাপেক্ষে তাদের কর্মঘণ্টা ৫-এ নামিয়ে আনা হবে। এ বিষয়ে জামায়াতে আমির বলেন, ‘নারীদের কর্মঘণ্টা কমিয়ে আনার বিষয়টি ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। এটা নিয়ে একটি দল বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে, আমার দিকে মিসাইল ছুড়ছে। একটি পক্ষ এ সুযোগ নিয়েছে। কিন্তু এটা করা হয়েছে একজন মাকে সম্মান দেখাতে। চাকরির সঙ্গে মায়ের সন্তানের জীবন আছে, সেটিকে সমন্বয় করতে হবে। বিশ্বের অনেক দেশেই নারীদের কর্মঘণ্টা কমানোর চিত্র রয়েছে। আমরা এটা নিশ্চিত করব নারীদের যেন চাকরি ছাড়তে না হয়। ৩ ঘণ্টা তাকে কাজ করতে হবে না। আবার ৫ ঘণ্টা কাজ করতে না পারলে ৩ ঘণ্টা কাজ করবে। বাকি সময়ের জন্য প্রতিষ্ঠানগুলো খণ্ডকালীন চাকরির ব্যবস্থা করবে। এতে করে আরো নতুন কর্মসংস্থানও সৃষ্টি হবে।’

ইশতাহারে সুনীল অর্থনীতি গঠন, অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করতে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় জাকাত সংগ্রহ ও সুষ্ঠু বণ্টন, ইসলামী ব্যাংক ও বীমা খাতের বিকাশে সহায়তা, সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন খাতের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগকে শক্তিশালী করা, বাণিজ্য নীতিমালা সংস্কার ও আধুনিকায়ন, রফতানি বহুমুখীকরণ ও উন্নয়ন, এফডিআই পাঁচ বছরে ১৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা, ই-কমার্স ও ডিজিটাল বাণিজ্য অবকাঠামোর উন্নতি, ভোক্তা অধিকার সুরক্ষা ও ন্যায্য বাণিজ্য তৈরি এবং পাঁচ বছরে প্রধান আমদানিজাত দ্রব্যের ওপর নির্ভরতা ৩০ শতাংশ হ্রাস করাসহ নানা উদ্যোগের কথা জানানো হয়েছে।