গতকাল ভোরে হালিশহরের এইচ ব্লকের এসি মসজিদসংলগ্ন এলাকায় এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

দগ্ধদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় আনার পথে রানী আক্তার (৪০) নামের এক নারীর মৃত্যু হয়। তার শরীরের শতভাগ দগ্ধ হয়েছিল। বর্তমানে তার স্বামী-সন্তানসহ পরিবারের আরো আটজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

দগ্ধ অন্যরা হলেন শাখাওয়াত হোসেন (৪৬), মো. শিপন (৩০), মো. সুমন (৪০), মো. শাওন (১৭), মো. আনাস (৭), মো. আইমান (৯), আয়েশা আক্তার (৪), পাখি আক্তার (৩৫)।

তাদের প্রথমে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। এর মধ্যে চারজনের অবস্থাই আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছিলেন চিকিৎসকেরা।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে গতকাল সন্ধ্যায় তাদের ঢাকায় জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে আনা হয়। সেখানেই রানীকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক ডা. শাওন বিন রহমান বলেন, ‘এখানে পৌঁছার আগেই রানীর মৃত্যু হয়।’

রানী ছাড়াও পাখি ও সাখাওয়াতের ত্বকে পোড়ার মাত্রা শতভাগ। এছাড়া শিপনের ৮০, সুমন ও শাওনের ৪৫, আইমান ও আনাছের ২৫, আয়েশার ২০ শতাংশ পুড়েছে।

ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, ভোর সাড়ে ৪টার দিকে হালিমা মঞ্জিল নামে একটি ছয়তলা ভবনের তৃতীয় তলার একটি বাসায় এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের পর ওই ঘরে আগুন ধরে যায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। প্রায় ২ ঘণ্টার চেষ্টার পর তারা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছার আগেই দগ্ধ ব্যক্তিদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান স্থানীয় বাসিন্দারা।

বিভাগীয় ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী আলমগীর হোসেন বলেন, ‘ওই বাসায় এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহার করা হয় না। কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির গ্যাসের সংযোগ রয়েছে। কোনো কারণে চুলা থেকে হয়তো গ্যাস লিক হয়েছিল, যে কারণে রান্নাঘরে গ্যাস জমে যায়। সেই জমে থাকা গ্যাসের বিস্ফোরণে সবাই দগ্ধ হয়েছেন।’

রায়েরবাজারে গ্যাসের আগুনে শিশুসহ দগ্ধ ৪: ঢাকার রায়েরবাজার এলাকার একটি বাসায় ‘গ্যাস লাইন লিকেজ থেকে’ আগুনে এক পরিবারের চারজন দগ্ধ হয়েছেন। গতকাল ভোর পৌনে ৫টার দিকে দগ্ধ অবস্থায় তাদের জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নেয়ার কথা জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির সহকারী অধ্যাপক ডা. শাওন বিন রহমান।

দগ্ধরা হলেন মো. রোমান (৪০), তার স্ত্রী পিংকি (৩৫), এই দম্পতির সন্তান মায়ান (৩) ও পিংকির ভাই অপু (২২)।]

শাওন বিন রহমান বলেন, ‘রোমানের শরীরের ২৫ শতাংশ, পিংকির ৭৫ শতাংশ, মায়ানের ২৪ শতাংশ ও অপুর ৭ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। তাদের চিকিৎসা চলছে।’

রোমানের গ্রামের বাড়ি নেত্রকোনার খালিয়াজুরী থানার মোহাম্মদপুর এলাকায়।