ক্ষমতার ভাগ-বাটোয়ারা ছাড়া দেশ সংস্কারের কোনো বিষয়ে সমর্থন পাওয়া যায়নি উল্লেখ করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের নেতারা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির উদ্যোগে আমরা দেশের সংস্কার চেয়েছি, বিচার চেয়েছি এবং নতুন সংবিধান চেয়েছি। কিন্তু এসব জনদাবির বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে যাচ্ছে একটি পক্ষ। তারা পুরনো বন্দোবস্তকে টিকিয়ে রাখতে চায়, তারা পুরনো রাজনীতিকে টিকিয়ে রাখতে চায়। তারা চায় চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসকে টিকিয়ে রাখতে। কিন্তু আমরা বলেছি, গণ-অভ্যুত্থানের পর এত মানুষের জীবনদানের পরে তারা যদি মনে করে আগের পুরনো রাজনীতি করবে তা এত সহজ হবে না। গণ-অভ্যুত্থানের শক্তি এখনো মাঠে আছে।’
সাতক্ষীরার খুলনা রোড মোড়ের আসিফ চত্বরে গতকাল এনসিপির পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে নাহিদ ইসলাম এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘তারা ভেবেছিল দু-তিনটা আসন দেখিয়ে, ক্ষমতার ভাগ-বাটোয়ারার লোভ দেখিয়ে গণ-অভ্যুত্থানের শক্তিকে কিনে নেবে। কিন্তু যারা বিপ্লবের শক্তি, যারা মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছেন, তাদের কেনার সাধ্য বাংলাদেশের কোনো রাজনৈতিক দলের হয়নি।’
এনসিপির এ নেতা বলেন, ‘বলা হয়েছে, দরজা নাকি খোলা আছে। আমরা বলছি, ৫ আগস্ট দরজা আমরা খুলে দিয়েছিলাম। আমরা এ অভ্যুত্থানের নেতারা আপনাদের জন্য দরজা খুলে দিয়েছিলাম। ৫ আগস্ট বলেছিলাম দেশটাকে পুনর্গঠন করি। সব বিভাজন, সবকিছুর ঊর্ধ্বে গিয়ে বাংলাদেশকে নতুন করে গড়ে তুলি। কিন্তু তারা আমাদের সেই প্রস্তাবে সায় দেয়নি। তারা বলেছিল তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন দিতে হবে। আবার বলেছি ছয় মাসের মধ্যে নির্বাচন দিতে হবে। ক্ষমতা ও ভাগ-বাটোয়ারা ছাড়া সংস্কার তারা চায়নি। আমরা বলেছিলাম দেশের মধ্যে আমরা শত্রু তৈরি করতে চাই না। ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ পুনর্গঠন করতে চাই। আমরা এখনো বলছি, নির্বাচনী ভাগ-বাটোয়ারা নয়, দেশ সংস্কারে আমাদের দরজা এখনো খোলা আছে। যদি এবার দরজা বন্ধ হয়, তাহলে জনগণ আর আপনাদের ক্ষমা করবে না।’
এর আগে এনসিপির নেতারা গতকাল দুপুরে খুলনা থেকে গাড়িতে করে সাতক্ষীরার তালা উপজেলার কুমিরায় এসে পৌঁছান। পরে বেলা দেড়টার দিকে সাতক্ষীরার এক পথসভায় মিলিত হন। পথসভা শেষে জুলাই বিপ্লবে শহীদ ও আহত ব্যক্তিদের পরিবারের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তারা। এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমের সঞ্চালনায় পথসভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন যুগ্ম আহ্বায়ক তাসনিম জারা, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, দক্ষিণাঞ্চলের যুগ্ম মুখ্য সংগঠক মেজবাহ কামাল, সাতক্ষীরা এনসিপির সদস্য ডা. মনিরুজ্জামান প্রমুখ।










