জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় সরকার পুনর্ব্যবহাযোগ্য জ্বালানিতে গুরুত্ব দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন।

আজ রোববার রাজধানীর এক পাঁচ তারকা হোটেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও স্টকহোম বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যেগে আয়োজিত ‘সাইন্স পলিসি ডায়লগ অন ব্ল্যাক কার্বন অ্যান্ড আদার শর্ট লাইভড ক্লাইমেট পল্যুটেন্টস’ — শীর্ষক এক সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

মাহদী আমিন বলেন, অতীতের নীতির কারণে জ্বালানি খাতে আমাদের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে এসে আমরা জ্বালানির উৎস বহুমুখী করতে চাই। সরকার পুনর্ব্যবহারযোগ্য জ্বালানিতে গুরুত্ব দিচ্ছে। এ ক্ষেত্রে সৌরবিদ্যুৎকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদনের প্রকল্পও চালু আছে।

তিনি আরো বলেন, আমাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে তেলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পরিবেশবান্ধব যানবাহনের ব্যবহার বাড়ানো। এ কারণে নতুন যেসব প্রকল্প নেয়া হচ্ছে, সেগুলোতে বৈদ্যুতিক যানবাহনকে বেশি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।

সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ঐতিহাসিক খাল খনন কর্মসূচি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সিএনজির মতো পরিবেশবান্ধব যানবাহন চালুর উদ্যেগের কথা উল্লেখ করে শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, জলবায়ু সহনশীলতা বাড়াতে কার্যকর নীতি প্রণয়নে বিএনপির সমৃদ্ধ ইতিহাস ও ঐতিহ্য রয়েছে। এ ছাড়া প্লাস্টিক ও পলিথিন নিষিদ্ধকরণ এবং পাটজাত ও পরিবেশবান্ধব পণ্যের প্রসারেও উদ্যোগ নিয়েছিল বিএনপি সরকার।

বিগত বিএনপি সরকারের সময়েও দেশব্যাপী সাপ্তাহিক, মাসিক ও বার্ষিক ভিত্তিতে বৃক্ষরোপন কর্মসূচি ও বৃক্ষমেলার আয়োজন করা হয়েছে উল্লেখ করেন তিনি আরো বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে আমরা সেই সংস্কৃতিকে আবার নতুন করে ফিরিয়ে আনতে ও আরো বিকশিত করতে চাই।

মাহদী আমিন বলেন, আমরা সবাই এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে উন্নয়নের নামে প্রকৃতি ধ্বংস করা হবে না; বরং প্রকৃতিকে সংরক্ষণ করা হবে।

এ সময় তিনি আরো বলেন, আমরা এমন প্রকল্প ও উন্নয়ন কার্যক্রম হাতে নিতে চাই, যেখানে পরিবেশ সংরক্ষণকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। কারণ, আগামীর বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য প্রাণ, প্রকৃতি ও পরিবেশের ভারসাম্য নিশ্চিত করতে হবে।

শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বিশুদ্ধ ও নির্মল বাতাসে নিঃশ্বাস নিতে পারবে। আর সে জন্য আমাদেরকে বহুমুখী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে পরিবেশবান্ধব কার্যক্রমগুলোকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের কথা উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, পদ্মা ব্যারেজ ও তিস্তা ব্যারেজের মহাপরিকল্পনার মাধ্যমে আমরা জলাধার তৈরি করতে চাই। এর ফলে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ধরে রাখা ও পানিসম্পদের ব্যবস্থাপনা আরো সহজ হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক আব্দুস সালাম ও স্টকহোম বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ওরজান গুসটাফসোনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন— পরিবেশ, বন ও জলবায়ু প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক ড. এ এস এম আব্দুল আওয়াল ও সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইকস প্রমুখ।