ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভ, মহাসড়ক অবরোধ ও সংঘর্ষের ঘটনায় গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলের অন্তত ৩০টি পোশাক কারখানা একদিনের জন্য ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। আজ রোববার সকালে কালিয়াকৈর, কোনাবাড়ী, মৌচাক ও সফিপুর এলাকায় শ্রমিকদের বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়লে এ সিদ্ধান্ত নেয় কারখানা কর্তৃপক্ষ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশের পাশাপাশি পাঁচ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে।

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় ন্যূনতম মজুরি বাড়িয়ে ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে গত দুই সপ্তাহ ধরে গাজীপুরের বিভিন্ন শিল্প এলাকায় থেমে থেমে শ্রমিক অসন্তোষ চলছিল। এর ধারাবাহিকতায় আজ সকাল সাড়ে ৮টার দিকে কালিয়াকৈর উপজেলার রতনপুর, মৌচাক ও কোনাবাড়ী এলাকার বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা লাঠিসোঁটা নিয়ে মহাসড়কে নেমে আসেন। শ্রমিকরা প্রতিদিনের মতো কারখানায় প্রবেশ করে হাজিরা দিলেও পরে কাজ বন্ধ রেখে বেরিয়ে এসে বিক্ষোভে যোগ দেন।

আন্দোলনকারীরা সফিপুর বাজার, চন্দ্রা পল্লী বিদ্যুৎ, মৌচাক ও তেলিচালা এলাকায় অবস্থান নিলে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। এতে মহাসড়ক ও সংযোগ সড়কগুলোতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। ভোগান্তিতে পড়েন দূরপাল্লার বাসসহ বিভিন্ন যানবাহনের হাজার হাজার যাত্রী।

সকাল ১০টার দিকে কোনাবাড়ী মোড়ে উত্তেজিত শ্রমিকরা মহাসড়কের পাশে থাকা ট্রাফিক পুলিশ বক্সে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে ভাঙচুর চালায়। একপর্যায়ে বক্সের ভেতরের আসবাবপত্র বাইরে এনে আগুন ধরিয়ে দেন তারা। এ সময় পুলিশ সদস্যরা নিরাপদ স্থানে সরে যান। মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে কাঠ ও টায়ার জ্বালিয়ে পিকেটিং করেন বিক্ষোভকারীরা।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পুলিশ, শিল্প পুলিশ ও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) সদস্যরা মহাসড়ক থেকে শ্রমিকদের সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদুনে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে। সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন শ্রমিক ও পুলিশ সদস্য আহত হন।

গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জেলার বিভিন্ন পয়েন্টে পাঁচ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। প্রয়োজন হলে বিজিবির সদস্যসংখ্যা আরো বাড়ানো হবে।

গাজীপুর শিল্প পুলিশের শিল্পাঞ্চল-২-এর পুলিশ সুপার মো. আমজাদ হোসেন বলেন, শ্রমিকরা মূলত ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে সকাল থেকে মহাসড়কে বিক্ষোভ শুরু করেন। অপ্রীতিকর ঘটনা ও কারখানার ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে বেশ কয়েকটি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে পুলিশের পাশাপাশি বিজিবি মোতায়েন রয়েছে।

বিকালের দিকে পুলিশ ও বিজিবির উপস্থিতিতে মহাসড়কে সীমিত পরিসরে ধীরগতিতে যান চলাচল শুরু হয়।