এ প্রেক্ষাপটে তাৎক্ষণিক উত্তরণের পরিবর্তে কাঠামোগত সংস্কারেই সরকার অগ্রাধিকার দেবে।’ চট্টগ্রাম নগরের মেহেদীবাগে নিজ বাসভবনে গতকাল বিকালে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এ কথা বলেন।
এর আগে সকালে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী চট্টগ্রামে পৌঁছান। দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় এবং সার্বিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেন। পরে নিজ বাসভবনে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়ে অংশ নেন নবনির্বাচিত অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী।
দেশের শেয়ারবাজারের সাম্প্রতিক সূচক বৃদ্ধিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও এটাকে স্থায়ী পুনরুদ্ধার বলতে রাজি নন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের পর সরকার গঠনের ফলে আস্থাজনিত একটি “কসমেটিক” উত্থান হতে পারে। গণতান্ত্রিক সরকার গঠনের প্রত্যাশা থেকে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে যে আস্থা তৈরি হয়েছে, সেটির প্রতিফলন ঘটেছে বাজারে। তবে সূচক বাড়লেই বাজারের মৌলিক সমস্যা দূর হবে না। পুঁজিবাজারে পূর্ণাঙ্গ পরিবর্তন আনতে হলে আইনকানুন ও নিয়ন্ত্রক কাঠামোয় সংস্কার জরুরি। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের কার্যকারিতা ও জবাবদিহিতা জোরদার করে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে।’ এক্ষেত্রে কোনো ধরনের আপস করা হবে না বলে জানিয়েছেন তিনি।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘ভালো ও লাভজনক কোম্পানিকে বাজারে নিয়ে আসা, দেশী-বিদেশী ফান্ড আকৃষ্ট করা এবং বিনিয়োগকারীদের হারানো আস্থা ফিরিয়ে আনাই হবে মূল লক্ষ্য। এসব কাজ বাস্তবায়ন করা গেলে শুধু শেয়ারবাজার নয়, সার্বিক শিল্প-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ পরিস্থিতিরও উন্নতি হবে। দেশের উৎপাদনশীল খাতের প্রবৃদ্ধি, রফতানি প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।’ সব মিলিয়ে দ্রব্যমূল্যের স্থিতিশীলতা এনে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতিও কমে আসবে বলে মন্ত্রী জানিয়েছেন।
বিএনপির আগামী বাজেট প্রসঙ্গে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘গতানুগতিক ধারার বাজেট প্রণয়ন করা হবে না। এমন একটি বাজেট দেয়া হবে, যেখানে দেশের সব শ্রেণীর মানুষ যেন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সমান সুযোগ পায়। বাজেটে সবার জন্য একটি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা হবে। পৃষ্ঠপোষকতানির্ভর সুবিধা ও বিশেষ গোষ্ঠীকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক নীতির অবসান ঘটিয়ে উন্নয়নের সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়াই হবে বর্তমান সরকারের লক্ষ্য।’
বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে ‘খুবই খারাপ’ আখ্যা দিয়ে মন্ত্রী আমীর খসরু বলেন, ‘বিভিন্ন সূচকে দারিদ্র্য বৃদ্ধির ইঙ্গিত মিলছে, বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান কমেছে, মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানি কমে গেছে এবং উদ্যোক্তারা ঋণ গ্রহণে অনাগ্রহী। সব মিলিয়ে অর্থনীতি গভীর চাপে রয়েছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে ডিরেগুলেশন ও লিবারালাইজেশনের মাধ্যমে অর্থনীতিকে মুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ ও ওভার-রেগুলেশন কমিয়ে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরির মাধ্যমে প্রতিযোগিতামূলক বাজার ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার কাজ শুরু করেছে।’
মেগা প্রকল্প ও ঋণের প্রসঙ্গে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘বিপুল পরিমাণ ঋণ নেয়া হলেও তা অনেক ক্ষেত্রে সঠিকভাবে ব্যবহৃত হয়নি; বরং লুটপাট ও অপচয়ের অভিযোগ রয়েছে। যে সম্পদ বাস্তবে নেই বা ধ্বংস হয়ে গেছে, তার দায় এখন বর্তমান সরকারকে বহন করতে হচ্ছে। সামনে ঋণ পরিশোধের বড় চাপ রয়েছে। পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনতে সরকার এরই মধ্যে সরকার-টু-সরকার পর্যায়ে উদ্যোগ নিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক পেশাদার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা চলছে।’
চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ঘোষিত বরাদ্দ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘উন্নয়ন কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলবে; তবে প্রতিটি প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করা হবে। নতুন সরকারের লক্ষ্য আস্থা, পুনর্গঠন, স্বচ্ছ অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা, অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে স্থবির অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করা।’










