জাতীয়তাবাদী শক্তিকে ধ্বংস করতে বিএনপির বিরুদ্ধে অপপ্রচারকে একটি ‘পরিকল্পিত চক্রান্ত’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, একটা জিনিস মনে রাখতে হবে, আজকে যে প্রচার ও অপপ্রচার হচ্ছে, এর পেছনে কিন্তু একেবারে সুনির্দিষ্ট চক্রান্ত রয়েছে। সে চক্রান্ত হচ্ছে বাংলাদেশে জাতীয়তাবাদী শক্তিকে ধ্বংস করে দেয়া।
গতকাল বিকালে রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। ‘তারেক রহমান: দ্য হোপ অব বাংলাদেশ’ সংকলিত গ্রন্থের প্রকাশনা উপলক্ষে এ অনুষ্ঠান হয়। গ্রন্থটি সম্পাদনা করেন কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম বাবুল।
তিনি বলেন, চক্রান্ত হচ্ছে তারেক রহমান সাহেবকে নিশ্চিহ্ন করে দেয়ার, তাকে খারাপ জায়গায় ফেলে দেয়ার চেষ্টা করার।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘বিএনপির যে একটা বিশাল যুবসমাজ আছে—ছাত্র, যুবক শক্তি আছে, এটাকে সংগঠিত করতে হবে। বিএনপির রাজনীতিটা তাদের মাথার মধ্যে ঢুকানোর চেষ্টা করতে হবে। এটা আমাদেরই করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা বিগত সময়গুলোতে শুধু লড়াই করেছি। কিন্তু সেই লড়াইটাকে সমৃদ্ধ করবার জন্য যে জ্ঞানটা, সেটা কিন্তু আমরা অনেকে অর্জন করতে পারিনি। তা না হলে যে কথাগুলো আমাদের শুনতে হচ্ছে, সেই কথাগুলো হয়তো শুনতে হতো না।’
২০০২ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার চীন সফরের কথা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ওই সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমারও যাওয়ার সুযোগ হয়েছিল। সেখানে প্রচণ্ড শীত ছিল, ডিসেম্বর মাস, বরফ পড়ছিল। বাইরে অনুষ্ঠান করা সম্ভব ছিল না। সেজন্য গ্রেট হলের ভেতরে ম্যাডামকে গার্ড অব অনার রিসিপশন দেওয়া হলো।’
তারেক রহমানের অসাধারণ দক্ষতাই তাকে নেতৃত্বে এনেছে মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘তারেক সাহেবের কাছে এ নেতৃত্বটা এসেছে অনেক দিক দিয়ে। পারিবারিক দিক দিয়ে যে কথাটা আপনারা অনেকে বলেছেন, যদিও এ কথাটা শুনতে আমার ভালো লাগে না। তার নিজস্ব গুণ আছে। যে গুণগুলোর জন্য তিনি আজকে এ পর্যন্ত এসেছেন। তারেক রহমান নিঃসন্দেহে আমাদের হোপ, আমাদের ভবিষ্যৎ।’
বিগত আন্দোলনে বিএনপি সমর্থিত অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ও ব্লগারদের ভূমিকার কথা স্মরণ
করে সবসময় তাদের পাশে থাকার কথাও বলেন মির্জা ফখরুল।
বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ইসমাইল জবিহউল্লাহের সভাপতিত্বে ও কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম বাবুলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মাহবুবউল্লাহ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক মোর্শেদ হাসান খান, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. জাহেদ উর রহমান, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদি আমিন, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেন্টাল অনুষদের ডিন সহযোগী অধ্যাপক সাখাওয়াত হোসেন সায়ন্থসহ বিএনপির মতাদর্শের অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ও ব্লগাররা।










