আগামী ছয় মাসের মধ্যে সংস্কার করে নির্বাচন সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক কমিটির মুখপাত্র ও জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক সারজিস আলম।
শুক্রবার (১৭ জানুয়ারি) দুপুরে পঞ্চগড় মকবুলার রহমান সরকারি কলেজ চত্বরে শীতবস্ত্র বিতরণ করতে এসে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘এত বড় অভ্যুত্থানের চাওয়া শুধুমাত্র নির্বাচনে সীমাবদ্ধ না, স্বচ্ছ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের প্রতিনিধি হয়ে ক্ষমতায় যেতে কোনো সমস্যা নেই। কিন্ত আগামী ছয় মাসের মধ্যে নতুন একটি ভোটার তালিকা হালনাগাদ, নির্বাচন কমিশন ঠিক করা, বিচার বিভাগ সংস্কার করা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তাদের সঠিক জায়গায় ভূমিকা রাখার জায়গায় ফিরিয়ে আনা একেবারেই অসম্ভব।’
সংস্কারের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সংস্কার আগে পরে এটি বিষয় না। আমরা মনে করি সংস্কার এবং নির্বাচন একই দিক থেকে চলবে। যারা এ সংস্কার প্রক্রিয়া নিয়ে কাজ করছে তারা নির্বাচনের জন্য বসে থাকবে, এমনটা না। নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে যারা কাজ করছে ভোটার তালিকা হালনাগাদসহ তারা তাদের জায়গা থেকে কাজ করবে। দুটো আলাদা প্রতিষ্ঠান, আলাদা মানুষ কাজ করছে। অন্তর্বর্তী সরকার তাদের জায়গা থেকে স্বচ্ছ নির্বাচনের জন্য যে সময়টাকে উপযুক্ত মনে করবে ওই সময়টুকু যদি দেয়া হয় তাহলে আমার মনে হয় একটি স্বচ্ছ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের প্রকৃত প্রতিনিধিরা ক্ষমতায় আসবে।’
আগামী সংসদ নির্বাচনে সারজিস সংসদ সদস্য পদে নির্বাচন করবেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘অভ্যুত্থানের পূর্ববর্তী সময় থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত আমরা নিজেরা কোনো কিছু ঠিক করিনি। মানুষ যা চেয়েছে আমরা সেটাই করেছি। বাংলাদেশের প্রত্যেকটা জায়গায় মানুষের ভেতরে একটা নতুন জিনিস এসেছে। যে তরুণরা সাহসিকতার সঙ্গে নেতৃত্ব দিয়ে এত বড় একটা অভ্যুত্থান ঘটিয়েছে সে অভ্যুত্থান বিগত ১৬ বছরে অন্য রাজনৈতিক দল ঘটাতে পারেনি। এটি অস্বীকার করার উপায় নেই। তরুণদের সে সক্ষমতা রয়েছে নির্দিষ্ট কোনো একটা জায়গা থেকে জনগণের প্রতিনিধিত্ব করবে। তাদের যোগ্যতা আছে যে তারা সংসদে গিয়ে জনগণের কথা বলবে। বাংলাদেশের মানুষের চাওয়া শুরু হয়েছে যে অভ্যুত্থানে নেতৃত্বদানকারীরা সংসদে গিয়ে জনগণের প্রতিনিধিত্ব করুক। সে জায়গায় পঞ্চগড়ের মানুষ যদি তাদের জায়গা থেকে মনে করে আমিসহ নতুন প্রজন্মের যে কেউ সংসদে গিয়ে তাদের প্রতিনিধিত্ব করতে পারে তাহলে আমিসহ নতুন প্রজন্মের যে কেউ এ দায়িত্বটা নেয়া উচিত। জনগণ যদি চায় তাহলে দায়িত্বটা একটা আমানত।’
জুলাই ঘোষণাপত্র নিয়ে সারজিস বলেন, ‘এত বড় একটা গণঅভ্যুত্থান, এটার লিখিত স্বীকৃতি থাকা উচিত। যারা রক্ত দিয়েছে, জীবন দিয়েছে তাদের একটা স্বীকৃতি থাকা উচিত। আমরা মনে করি খুব দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই ঘোষণাপত্রটি আসবে।’
এ সময় পঞ্চগড় বারের সরকারী কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট এম এ বারি, পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আদম সূফি, স্থানীয় সমন্বয়ক মোকাদ্দেসুর রহমান সান, ইউপি চেয়ারম্যান মনোয়ার হোসেন দিপুসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে পঞ্চগড় পৌরসভার নয়টি ওয়ার্ডের প্রায় দেড় হাজার দরিদ্র শীতার্তদের মাঝে কম্বল তুলে দেন সারজিস।










