বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে পৃথক প্রসিকিউশন সার্ভিস গঠন ও সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠার কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ। আজ শনিবার (১ ফেব্রুয়ারি) রাজশাহীর গ্র্যান্ড রিভার ভিউ হোটেলে এক আঞ্চলিক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট ও ইউনাইটেড ন্যাশনস ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের (ইউএনডিপি) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম।

এতে রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন জেলার বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তারা অংশ নেন। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের প্রশিক্ষণ শাখা গত ১৬ জানুয়ারি এ সংক্রান্ত সরকারি আদেশ জারি করে।

সেমিনারে প্রধান বিচারপতি তার বক্তব্যে ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন নিশ্চিত করতে বিচার বিভাগের ভূমিকা তুলে ধরেন। তিনি বিচার বিভাগ সংস্কারের জন্য তার ঘোষিত রোডম্যাপের অগ্রগতি ব্যাখ্যা করেন।

তিনি বলেন, দুর্বল তদন্ত ও অপেশাদার প্রসিকিউশন ন্যায়বিচারের অন্যতম অন্তরায়। তাই স্বাধীন প্রসিকিউশন সার্ভিস চালু করা জরুরি। প্রসিকিউটরদের প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে তাদের ভূমিকা আরো কার্যকর করতে হবে।

এছাড়া, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, বিচার বিভাগের স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করতে পৃথক সচিবালয় দরকার। এটি বিচারিক নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন, বাজেট বরাদ্দ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বিচারকদের বদলি ও পদোন্নতিতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে।

তিনি জানান, সরকারের কাছে পৃথক সচিবালয় গঠনের একটি প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এটি এখন সক্রিয় বিবেচনাধীন রয়েছে।

সেমিনারে স্বাগত বক্তব্যে ইউএনডিপি বাংলাদেশের রেসিডেন্ট রিপ্রেজেন্টেটিভ স্টেফান লিলার বলেন, বাংলাদেশের বিচার বিভাগ সংস্কারের রোডম্যাপ যুগোপযোগী একটি পদক্ষেপ। ইউএনডিপি এই আধুনিকায়ন প্রক্রিয়ায় উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে পাশে থাকবে।

আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম বলেন, প্রধান বিচারপতি ঘোষিত বিচার বিভাগ সংস্কার রোডম্যাপ বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় আইনি সংস্কার জরুরি। এর ফলে বিচারপ্রার্থীরা বিচার বিভাগের স্বাধীনতার বাস্তব সুফল ভোগ করতে পারবেন।