চরম ইঞ্জিন সংকট মোকাবেলায় বিদেশী সংস্থার সহায়তা নিয়ে দ্রুত রেলের ইঞ্জিন মেরামতের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। কোরিয়ার একটি প্রতিষ্ঠানের পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তায় প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ আমদানি করে ওয়ার্কশপে ইঞ্জিন সংস্কার করা হবে।
আজ বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি) চট্টগ্রামের পাহাড়তলী ওয়ার্কশপ ও ডিজেল অ্যান্ড ক্যারেজ শপ পরিদর্শন শেষে এসব তথ্য জানান বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেন।
মহাপরিচালক বলেন, বাংলাদেশ রেলওয়ে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ প্রকৌশল সংস্থা। তবে বাজেট ঘাটতি ও প্রয়োজনীয় মালামাল সংগ্রহে জটিলতার কারণে আমরা সংকটে পড়েছি। এখন আমরা নিজস্ব ওয়ার্কশপের মাধ্যমে ইঞ্জিন ও কোচ মেরামতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি। দক্ষ কর্মীদের মাধ্যমে দ্রুত মেরামত কাজ সম্পন্ন করতে বিশেষ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, জনবল নিয়োগ, কর্মীদের আবাসন সমস্যা সমাধান ও পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) প্রকল্পগুলো কার্যকর করার মাধ্যমে রেলওয়ের সেবার মান উন্নত করা হবে।
এ সময় মহাপরিচালক তার সফরে সেন্ট্রাল রেলওয়ে বিল্ডিংয়ের (সিআরবি) ব্রিটিশ আমলে নির্মিত ভবনের নকশা ঠিক রেখে নতুন নির্মাণ কার্যক্রম, চিটাগাং পোর্ট ইয়ার্ড ও রেলওয়ের আঞ্চলিক ট্রেনিং সেন্টার পরিদর্শন করেন। সফর শেষে তিনি কক্সবাজার স্পেশাল ট্রেনে কক্সবাজার সফর করবেন এবং শনিবার ট্রেনে ঢাকায় ফিরবেন।
পরিদর্শনকালে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম, পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মো. সুবক্তগীন, প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম, প্রধান প্রকৌশলী মো. আবু জাফর মিঞা, বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক এ বি এম কামরুজ্জামানসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে প্রতিদিন ১১৬টি লোকোমোটিভ প্রয়োজন হলেও বর্তমানে ৭০-৭৫টি ইঞ্জিন চালু রয়েছে। বিকল ইঞ্জিনের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় ট্রেন চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। গত ছয় মাসে পূর্বাঞ্চলে ১২২টি ইঞ্জিন বিকল হয়েছে। এর মধ্যে শুধু ডিসেম্বরেই বিকল হয়েছে ৩৮টি ইঞ্জিন।










