ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু উপজেলায় পরিবেশের ক্ষতি করে গড়ে ওঠা অবৈধ ইটভাটাগুলোতে প্রশাসনিক অভিযান থেমে আছে। প্রভাবশালী ইটভাটা মালিকদের চাপে এসব ভাটায় নির্বিঘ্নে ইট পোড়ানো চলছে।

সরকারি নীতিমালা ও আইন অনুযায়ী, আবাসিক এলাকা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, এবং কৃষিজমির এক কিলোমিটারের মধ্যে ইটভাটা স্থাপন নিষিদ্ধ। তবে হরিণাকুন্ডু উপজেলায় গড়ে ওঠা ১৭টি ইটভাটার অধিকাংশই এসব নিয়মের তোয়াক্কা না করে পরিচালিত হচ্ছে। ভাটাগুলোর বেশিরভাগের নেই পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র, জেলা প্রশাসনের লাইসেন্স বা ফায়ার সার্ভিসের অনুমোদন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব ইটভাটার কালো ধোঁয়ায় পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে। ধোঁয়ার কারণে গাছপালার পাতা ঝলসে যাচ্ছে এবং শিশু ও বৃদ্ধরা শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।

ভাটাগুলোতে কয়লার পরিবর্তে কাঠ পোড়ানো হচ্ছে। জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারের জন্য মজুদ করা হচ্ছে আম, জাম, কাঁঠাল, খেজুরসহ বিভিন্ন গাছের কাঠ। এসব কার্যক্রমের কারণে কৃষিজমির উর্বরতা কমে যাচ্ছে। স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, ইটভাটার কারণে জমির টপসয়েল নষ্ট হচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে ফসল উৎপাদনে।

এদিকে প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ভূমিকা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। স্থানীয়দের দাবি, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন থেকে শুরু করে পরিবেশ অধিদপ্তর পর্যন্ত সব পক্ষই প্রভাবশালীদের সঙ্গে মিলে ভাটাগুলো চালু রাখছে। প্রতিবছর ভাটাগুলো থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নেয়া হচ্ছে, যা এলআর ফান্ডে জমা হচ্ছে।

হরিণাকুন্ডু ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি জিয়াউর রহমান জানিয়েছেন, অধিকাংশ ভাটার ২০১৫ সালের পর থেকে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেই। ফলে লাইসেন্স নবায়ন করা সম্ভব হয়নি। তিনি আরো জানান, কয়লার দাম বেশি হওয়ায় কাঠ পোড়ানো ছাড়া উপায় নেই।

জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন ছাড়া কোনো ইটভাটা বৈধ নয়। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, এ সমস্যা সমাধানে এলআর ফান্ডে টাকা নেয়া বন্ধ করতে হবে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মুন্তাছির রহমান বলেন, অবৈধ ও পরিবেশবিধি লঙ্ঘনকারী সব ইটভাটার বিরুদ্ধে শিগগিরই কঠোর অভিযান পরিচালনা করা হবে।

স্থানীয়দের দাবি, অবৈধ ভাটাগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।