বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘সরকারের দায়িত্ব মানুষের জানমালের নিরাপত্তা হেফাজত করা। কিন্তু সরকার কেন ব্যর্থ হচ্ছে, এ প্রশ্ন আমাদের সরকারের কাছে। তারা এখন আশ্রয় দিচ্ছে, প্রশ্রয় দিচ্ছে।’ জুলাই অভ্যুত্থানে নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের সঙ্গে রাজধানীর একটি হোটেলে মতবিনিময় সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এ কথা বলেন।

পুরান ঢাকায় নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে তারেক রহমান বলেন, ‘যে ঘটনাটি ঘটেছে, যাকে সরাসরি হত্যা করতে ভিডিওতে দেখা গেছে তাকে কেন গ্রেফতার করা হচ্ছে না? তাহলে কি আমরা ধরে নেব, যারা বিভিন্নভাবে মব সৃষ্টি করছে, একটা পরিস্থিতি তৈরি করতে চাচ্ছে, সেখানে সরকারের প্রচ্ছন্ন কোনো প্রশ্রয় আছে, প্রশাসনের কারো কারো প্রশ্রয় আছে।’

গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শেষ হয়ে যায়নি মন্তব্য করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমি আজ থেকে আট-নয় মাস আগে বলেছিলাম, অদৃশ্য শত্রু আছে। আপনারা নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন, ধীরে ধীরে দৃশ্যমান হচ্ছে সেই অদৃশ্য শত্রু। তারা বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে মানুষের গণতন্ত্র ও অধিকারের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল, ভিন্ন অবস্থান গ্রহণ করেছিল, জনগণের বিপরীতে অবস্থান নিয়েছিল। আমরা অন্তর্বর্তী সরকারকে বারবার বলেছি, অন্যায়কারী যেই হোক আমরা প্রশ্রয় দেব না। যে অন্যায় করবে, অন্যায়ই। তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা হবে। অন্যায়কারী কখনো কোনো দলের হতে পারে না।’

বিভিন্ন স্থানে অনেক ঘটনা ঘটছে উল্লেখ করে তারেক রহমান প্রশ্ন তোলেন, ‘কারা সুষ্ঠু পরিবেশ বাধাগ্রস্ত করছে? জোরগলায় প্রশ্ন তুলুন, কেন জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদের বিচার বিলম্বিত হচ্ছে, মব সৃষ্টি করছে। খুলনায় যুবদল কর্মীকে হত্যা করা হয়েছে, কেন সেটা নিয়ে কথা বলা হচ্ছে না? সেই হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করা হলে কেন বলা হচ্ছে, বিএনপি লাশ নিয়ে মিছিল করছে। এ প্রশ্নের জবাব খুঁজতে হবে। এ প্রশ্নের জবাবের সঙ্গে বাংলাদেশের অস্তিত্বের সম্পর্ক রয়েছে। ইতিহাস দেখতে হবে, কারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব নিয়ে কথা বলেছে, অবস্থান নিয়েছে, কারা বিরোধিতা করেছে, এ বিষয়গুলো আমাদের বিবেচনায় নিতে হবে।’

বিচারের ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘গত ১৫-১৬ বছরে বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলের বহু নেতাকর্মী নিহত হয়েছেন। বিএনপি ছাড়াও অনেক দলের নেতাকর্মী হত্যার শিকার হয়েছেন। এমনকি নিরপেক্ষ অনেকেও নিহত হয়েছেন দেশের মানুষের অধিকার রক্ষা করতে গিয়ে। আগামীতে বিএনপি দেশের মানুষের সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করতে পারলে এসব হত্যার বিচার সুষ্ঠুভাবে হবে। এ বিষয়ে সর্বোচ্চ উদ্যোগ নেবে বিএনপি।’

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ও ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল। সভাপতিত্ব করেন ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাসির।