যশোর জেলা যুবদলের সিনিয়র সহসভাপতি বদিউজ্জামান ধোনীকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যার দুদিনেও কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ। গতকাল দুপুরে শহরের বেজপাড়া কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়। তবে স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আলোচিত এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে পুলিশ প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছে। পরিচিত লোকজনই তাকে কুপিয়ে খুন করেন বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।
এ ঘটনায় নিহতের ভাই মনিরুজ্জামান মনি গতকাল রাতে আটজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো পাঁচ-ছয়জনের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন।
অভিযুক্তরা হলেন বেজপাড়া টিবি ক্লিনিক ফুড গোডাউন এলাকার আশ্রম সড়কের আব্দুল আলীমের ছেলে আকাশ (২৫), মোহাম্মদ
ফরিদের ছেলে রায়হান (২৪), শংকরপুর
চোপদারপাড়া আকবরের মোড়ের মৃত আব্দুর রশিদের ছেলে শামীম আহমেদ মানুয়া (৪৮), টিবি
ক্লিনিক ফুড গোডাউনের পাশের মিরাজ বিশ্বাসের ছেলে মন্টু (২২), একই
এলাকার রইস উদ্দিনের ছেলে আল আমিন ওরফে চোর আল আমিন (২৫), আফসারের
ছেলে মিলন (২৪), শংকরপুর
হারান কলোনি এলাকার বাবু মীরের ছেলে ইছা মীর (২০) এবং চোপদারপাড়া সড়কের লাভলুর ছেলে রিজভী (২৬)।
মঙ্গলবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে শহরের শংকরপুর চোপদারপাড়া আকবরের মোড়ের কাছে নিজ বাড়ির সামনে জেলা যুবদলের সিনিয়র সহসভাপতি বদিউজ্জামান ধোনীকে (৫২) কুপিয়ে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা।
নিহতের শ্যালক তপু রহমান জানান, মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় বাড়ি থেকে বের হয়ে সামনের একটি ফার্মেসিতে বসে ছিলেন বদিউজ্জামান ধোনী। এ সময় সন্ত্রাসী রায়হান, রহিম, আকাশসহ চার-পাঁচজন সন্ত্রাসী তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা তাকে উপর্যুপরি কুপিয়ে ফেলে রেখে চলে যায়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ভর্তির কিছুক্ষণ পর তিনি মারা যান।
তার দাবি, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে শামীম আহমেদ মানুয়া নামে এক ব্যক্তি তার ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীদের দিয়ে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। মানুয়াকে ধরতে পারলেই এ হত্যার রহস্য উদঘাটন হবে বলে তিনি মনে করেন।
পুলিশ ও স্থানীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে, এলাকায় সজ্জন হিসেবে পরিচিত থাকলেও যুবদল নেতা বদিউজ্জামান ধোনীর বিরুদ্ধে হত্যাসহ সন্ত্রাসবিরোধী ও বিস্ফোরক আইনে ১২টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে যুবলীগ কর্মী ইয়াসিন আরাফাত হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ছিলেন ধোনী। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি বেজপাড়া ব্রাদার্স ক্লাবের সামনে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন ইয়াসিন আরাফাত। এ মামলায় মাসখানেক আগে ধোনী জেল থেকে বের হয়েছেন। স্থানীয়ভাবে যে মানুয়ার সঙ্গে ধোনীর বিরোধ ছিল, তিনি এ ইয়াসিন আরাফাতের শ্বশুর। ধোনী হত্যাকাণ্ডের প্রাথমিক তদন্তে রায়হান নামে এক হামলাকারীকে শনাক্ত করেছে পুলিশ। তাকে আটক করতে পারলে হত্যাকাণ্ডের জট খুলবে বলে ধারণা পুলিশের।
যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন জানান, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এ হত্যার ঘটনা ঘটেছে। মানুয়া বিএনপির রাজনীতিতে পিছিয়ে পড়ে। আর ধোনীর অবস্থা ছিল ভালো। এর আগে নিহত ইয়াসিন মানুয়ার মেয়ের জামাই। যে কারণে তিনি এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। প্রাথমিকভাবে রায়হান নামে এক হামলাকারীকে শনাক্ত করা হয়েছে। রায়হান মানুয়ার ভাগ্নে। তাকে আটক করতে পারলেই হত্যাকাণ্ডের জট খুলবে।










