দেশে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের পর বিএনপি নেতাদের সঙ্গে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী গোয়েন লুইসের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ বৈঠকে অগ্রাধিকার পায় উন্নয়ন, সহযোগিতা, সংঘাত-সংঘর্ষে ক্ষয়ক্ষতি ও তদন্তের বিষয়গুলো। পাশাপাশি নবগঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, সার্বিক পরিস্থিতি, অর্থনৈতিক অবস্থা প্রভৃতি বিষয় নিয়েও বিস্তর আলোচনা হয়েছে বৈঠকে। গোয়েন লুইস জানান, নতুন এ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে সহযোগিতা দিয়ে যাবে জাতিসংঘ।

গতকাল গুলশানের বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সাংগঠনিক শামা ওবায়েদ ও ঢাকায় জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক বিশেষজ্ঞ হুমা খান।

বৈঠকের পর আমীর খসরু বলেন, ‘আজকে বাংলাদেশে যে বড় ধরনের পরিবর্তন হয়েছে, আমরা দ্বিতীয়বার স্বাধীনতা পেয়েছি। এর সাথে বাংলাদেশের গণসমর্থন যেভাবে ছিল তেমনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়েরও ভালো সমর্থন ছিল। বিশেষ করে বাংলাদেশে মানবাধিকার ফিরিয়ে আনতে জাতিসংঘের একটা বড় ধরনের সমর্থন ছিল। বাংলাদেশের আগামী দিনের ভবিষ্যৎ কী হবে, তা নিয়ে উন্নয়ন অংশীদারদের মধ্যে একটা দ্বিধা-দ্বন্দ্ব ছিল, আজ সেই শঙ্কা কেটে গেছে। এখন আমরা আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়তে কাজ করব। জাতিসংঘ বড় এক সহযোগী এবং তাদের সমর্থন প্রয়োজন আছে, তারা সেই সমর্থন দিতে রাজি আছে এবং সবাইকে নিয়ে কাজ করছে। সবাই মিলে একটা নতুন বাংলাদেশ গড়ব, এটাই এখানে আলোচনা হয়েছে।’

বৈঠক শেষে গোয়েন লুইস বলেন, ‘আমরা গত রাতে (বৃহস্পতিবার) ড. ইউনূসের নেতৃত্বে যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন হয়েছে সেই বিষয়ে আলোচনা করেছি। এ সরকারের প্রতি ইউনাইটেড নেশন সমর্থন জানিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে আমরা সব স্টেকহোল্ডারস, রাজনৈতিক দল, সিভিল সোসাইটির প্রতিনিধি, সংগঠনের সঙ্গে আলাপ করছি। আজ আমরা বিএনপির সঙ্গে আলোচনা করেছি। আগামীর বাংলাদেশ গড়ার জন্য কীভাবে জাতিসংঘ সহযোগিতা করতে পারে, আন্দোলন ঘিরে যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তার তদন্তে জাতিসংঘ কীভাবে সহযোগিতা করতে পারে এবং উন্নয়ন অগ্রাধিকারে সহযোগিতা করা যায়। এ নতুন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে আগামী নির্বাচনের আগ পর্যন্ত বাংলাদেশের উন্নয়নে জাতিসংঘ সহযোগিতা দিয়ে যাবে, এসব বিষয়ে আমরা আলোচনা করেছি। রাস্তায় সহিংসতা বন্ধ ও সর্বত্র শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরে আসুক এবং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন এগিয়ে যাক—এ প্রত্যাশা আমরা করছি।’