জামায়াতে ইসলামীর সমাবেশে সভাপতির সমাপনী বক্তব্য দিচ্ছিলেন দলের আমির শফিকুর রহমান। বক্তব্যের এক পর্যায়ে হঠাৎ তিনি পড়ে যান। নেতাকর্মীদের সহযোগিতায় উঠে দাঁড়ালেও আবারো অসুস্থ হয়ে পড়ে যান। পরে বসেই নিজের বক্তব্য শেষ করেন জামায়াত আমির। গতকাল বিকাল সোয়া ৫টার দিকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জামায়াতের সমাবেশের মঞ্চে এ ঘটনা ঘটে।

প্রথমে ডায়াসে দাঁড়িয়ে বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি বলেন, ‘একটা লড়াই হয়েছে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে, আরেকটা লড়াই হবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে। জামায়াত যে দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়বে, তার প্রথম প্রমাণ হচ্ছে...।’ কথা শেষ করার আগেই তিনি পড়ে যান।

নেতাদের সহযোগিতায় কিছুক্ষণের মধ্যেই উঠে দাঁড়িয়ে জামায়াত আমির বলেন, ‘সবাই নিজ নিজ জায়গায় অবস্থান গ্রহণ করুন। আল্লাহ তাআলার শুকরিয়া আদায় করি, আবার আপনাদের সামনে দাঁড়াতে পেরেছি। আমি বলেছিলাম, দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ আমরা সবাইকে নিয়ে গড়ব। আমরা কথা দিচ্ছি, আল্লাহর মেহেরবানি ও জনগণের ভালোবাসা নিয়ে জামায়াত যদি সরকার গঠন করে, তাহলে...।’ এ কথা শেষ করার আগেই আবারো অসুস্থ হয়ে তিনি ধীরে ধীরে নিচে বসে পড়েন। এ সময় মাইকে বলা হয়, আমিরে জামায়াত একটুখানি অসুস্থ হয়েছেন গরমের কারণে।

এরই মধ্যে জামায়াতের আমির নিচে বসেই মাইকে আবার বক্তৃতা শুরু করেন। তিনি বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহ যত সময় হায়াত দিয়েছেন, তত সময় মানুষের জন্য লড়াই করব, ইনশাআল্লাহ। এ লড়াই বন্ধ হবে না। বাংলার মানুষের মুক্তি অর্জন না হওয়া পর্যন্ত আমাদের লড়াই অব্যাহত থাকবে। বলছিলাম, জামায়াত যদি আল্লাহর ইচ্ছা ও জনগণের ভালোবাসায় দেশের মানুষের সেবা করার সুযোগ পায়, তাহলে মালিক হবে না, সেবক হবে, ইনশাআল্লাহ। আজ আমি ঘোষণা দিচ্ছি, লক্ষ জনতাকে সঙ্গে নিয়ে জামায়াত থেকে যারা আগামী দিনে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হবেন...।’

তিনি বলেন, ‘যদি আল্লাহর ইচ্ছায় ও জনগণের ভালোবাসায় জামায়াত থেকে সংসদ সদস্যরা নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করেন, তাহলে কোনো এমপি-মন্ত্রী আগামী দিনে সরকারি কোনো প্লট গ্রহণ করবেন না। কোনো এমপি ও কোনো মন্ত্রী ট্যাক্সবিহীন কোনো গাড়ি চড়বেন না। কোনো এমপি ও কোনো মন্ত্রী নিজের হাতে কোনো টাকা চালাচালি করবেন না। কোনো এমপি ও কোনো মন্ত্রী যদি তার নির্দিষ্ট কোনো কাজের জন্য বরাদ্দ পেয়ে থাকেন, কাজ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশের মানুষের কাছে তারা তার প্রতিবেদন তুলে ধরতে বাধ্য থাকবেন।’

শফিকুর রহমান বলেন, ‘চাঁদা আমরা নেব না, দুর্নীতি আমরা করব না। চাঁদা আমরা নিতে দেব না, দুর্নীতি সহ্য করব না। এই বাংলাদেশটাই আমরা দেখতে চাই। যুবকদের স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, তোমাদের সঙ্গে আমরা আছি।’

বক্তব্যের শেষাংশে জামায়াত আমির বলেন, ‘আল্লাহর ইচ্ছা, শরীর আমাকে সাময়িকভাবে সহযোগিতা করেনি। এটাও আল্লাহর ইচ্ছা যে এখন আল্লাহ আমাকে কথা বলার সুযোগ দিচ্ছেন। আমার মউত আল্লাহ নির্ধারিত সময় থেকে এক সেকেন্ড আগে হবে না এবং হায়াত যা দিয়েছেন, তার এক সেকেন্ড আগেও আমি যাব না।’

বক্তব্য শেষে জামায়াত আমির নেতাদের সঙ্গে মঞ্চে দাঁড়ান। তখন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘প্রচণ্ড গরমে অনেকে যেমন অসুস্থ হয়েছেন, আমাদের আমিরে জামায়াতও সাময়িক অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। মহান আল্লাহ তাআলা তাকে কথা বলা ও সমাপ্ত ঘোষণার তৌফিক দিয়েছেন।’ এ সময় জামায়াত আমিরকে দুই পাশ থেকে ধরে ছিলেন দুজন নেতা।

পরে সমাবেশস্থল থেকে শফিকুর রহমানকে রাজধানীর ধানমন্ডির ইবনে সিনা হাসপাতালে নেয়া হয়।

জামায়াত আমিরকে দেখতে হাসপাতালে মির্জা ফখরুল: এদিকে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানকে দেখতে হাসপাতালে যান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল রাত সাড়ে ৮টার দিকে তিনি ইবনে সিনা হাসপাতালে যান। তার সঙ্গে ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান।

বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, হাসপাতালে বিএনপি মহাসচিব জামায়াত আমিরের সঙ্গে কথা বলেন এবং তার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন।

জানা গেছে, বিএনপি মহাসচিব জামায়াতের আমিরের শয্যার পাশে বসে তার সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। এ সময় জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের ও সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার উপস্থিত ছিলেন।