লক্ষ্মীপুর জেলায় এবার খরিপ মৌসুমে ৩৫ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে বিনা জাতের বোরো ধান চাষের লক্ষ্যে কাজ করছে কৃষি বিভাগ। এবার চাষকৃত জমির পরিমাণ গত বছরের তুলনায় ৫০৯ হেক্টর বেশি। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রায়ও গত বছরের তুলনায় বেড়েছে। এবার ১ লাখ ৫৪ হাজার ১৫৯ টন ধান উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষি বিভাগ। গত বছর জেলায় ৩৪ হাজার ৭৯১ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হয়েছিল। এ থেকে ধান উৎপাদন  হয়েছিল ১ লাখ ৫১ হাজার ৩৭৩ টন।

কৃষক জানান, তারা জমি চাষ ও ধান রোপণের কাজ করছেন। জেলার পাঁচটি উপজেলায় ধান চাষে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। এ কাজ দ্রুত শেষ করতে ও শ্রমিক সংকট দূর করতে ভোলা ও রংপুরসহ বিভিন্ন জেলা থেকে কৃষি শ্রমিক নিয়ে এসেছেন তারা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষা ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং যথাযথভাবে সেচ, সার ও কীটনাশক দেয়া গেলে জেলায় এবার ১ লাখ ৫৪ হাজার ১৫৯ টন ধান উৎপাদন হবে। গত বছরের তুলনায় এবার ২ হাজার ৭৮৬ টন ধান বেশি উৎপাদন হবে বলে প্রত্যাশা কৃষি কর্মকর্তাদের।

লক্ষ্মীপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. জাকির হোসেন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘এবার জেলায় হাইব্রিড জাতের বোরো ধানের চাষ হচ্ছে ১৬ হাজার ৭১০ হেক্টর জমিতে। প্রতি হেক্টর জমিতে হাইব্রিড ধান ৪ দশমিক ৮২ টন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। গত বছর উৎপাদন হয়েছিল ৪ দশমিক ৮০ টন। এবার জেলায় হাইব্রিড ধান উৎপাদন হবে ৮০ হাজার  ৫৪২ টন, যা গত বছর উৎপাদন হয়েছিল ৭৮ হাজার ৭৬৮ টন। এছাড়া উফশী জাতের ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৮ হাজার ৫৯০ হেক্টর জমিতে। প্রতি হেক্টর জমিতে ৩ দশমিক ৯৬ টন উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হলে এবার জেলায় ৭৩ হাজার ৬১৬ টন উফশী জাতের ধান উৎপাদিত হবে। গত বছর জেলায় প্রতি হেক্টরে উফশী জাতের ধান উৎপাদন হয়েছিল ৩ দশমিক ৯৫ টন হারে ৭২ হাজার ৬০৫ টন।’

জেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, ধান উৎপাদন বাড়াতে এবার কৃষকের মাঝে বীজ ও সার বিতরণ বাড়ানো হয়েছে। সেচ পাম্প ও গভীর নলকূপগুলোয় আগেভাগে বিদ্যুৎ সংযোগের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকের সঠিক পদ্ধতিতে চাষাবাদের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন। এরই মধ্যে জেলার ৭০ শতাংশ জমিতে বোরো চাষ শেষ হয়েছে। জানুয়ারির মধ্যেই কৃষক তাদের জমিতে ধান চাষ শেষ করতে পারবেন বলে ধারণা  করা হচ্ছে।

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা কেন্দ্রীয় কৃষি সমবায় সমিতির চেয়ারম্যান মামুনুর রশিদ জানান, সবচেয়ে বেশি বোরো চাষ হয় লক্ষ্মীপুর সদর ও রামগঞ্জ উপজেলায়। সমিতির অধীনে নিবন্ধিত ৩০০ কৃষি সমিতি রয়েছে। এছাড়া কেন্দ্রীয় সমিতির অধীনে বর্তমানে নয়টি গভীর নলকূপ রয়েছে। প্রতিটি নলকূপ সমিতির মধ্যস্থতায় এবার আগেভাগেই চালু হয়েছে। কেন্দ্রীয় সমিতির পক্ষ থেকে কৃষকদের চাষাবাদে উদ্বুদ্ধও করা হচ্ছে।

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার কংশ নারায়ণপুর কৃষি সমবায় সমিতির সভাপতি মো. সামছুল ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘দেশে ধান-চালের দাম বেড়ে যাওয়ায় কৃষক এবার অন্য বছরের তুলনায় বোরো চাষে বেশি আগ্রহী। আমাদের সমিতির অধীনে নলকূপগুলো যথাসময়ে চালু করায় বোরো ধান চাষ শেষ পর্যায়ে রয়েছে।’