সাবেক ইংলিশ ক্রিকেটার গ্রাহাম থর্প আর নেই। দীর্ঘদিন অসুস্থতার পর গতকাল শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেছেন ইংল্যান্ডের সাবেক ব্যাটসম্যান ও সহকারী কোচ। এক বিবৃতিতে খবরটি জানিয়েছে ইংল্যান্ড ও ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি)।
৫৫ বছর বয়সী থর্প ১৯৯৩ থেকে ২০০৫ পর্যন্ত ইংল্যান্ডের হয়ে ১০০টি টেস্ট খেলেন। ২০০৫ সালে চেস্টার লি স্ট্রিটে বাংলাদেশের বিপক্ষে নিজের শততম টেস্ট খেলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানান বাঁহাতি মিডল-অর্ডার ব্যাটসম্যান। এছাড়া নয় বছরের ওয়ানডে ক্যারিয়ারে ৮২টি ম্যাচ খেলেন তিনি।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ট্রেন্ট ব্রিজ টেস্টে নিজের অভিষেকে সেঞ্চুরি করেন থর্প। এরপর ক্রমেই এ সংস্করণে ইংল্যান্ডের ব্যাটিং স্তম্ভের একটি হয়ে ওঠেন তিনি। ২০০১-০২ মৌসুমে কাটান ক্যারিয়ারের সেরা সময়। ওই মৌসুমে লাহোর ও কলম্বোয় তার সেঞ্চুরির সুবাদে পাকিস্তান ও শ্রীলংকায় স্মরণীয় সিরিজ জয় করে ইংল্যান্ড। এর ১২ মাস পর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে মাত্র ২৩১ বলে ক্যারিয়ার সেরা ২০০ রান করেন থর্প।
১৯৯৬ ও ১৯৯৯ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তিনি। ২০০২ সালে বিবাহ বিচ্ছেদের পর আকস্মিক ওয়ানডে থেকে অবসর নেন থর্প। একই সঙ্গে সব ধরনের ক্রিকেট থেকে বিরতি নেন তিনি। প্রায় এক বছর পর ফিরলেও বেশি দিন আর খেলা চালিয়ে যাননি।
সাদা পোশাকে ১৬ সেঞ্চুরি ও ৩৯ ফিফটিসহ ৬ হাজার ৭৪৪ রান করেন থর্প। এছাড়া কাউন্টি দল সারের হয়ে ১৯৮৮ থেকে ২০০৫ পর্যন্ত খেলে তার নামের পাশে আছে প্রায় ২২ হাজার রান। প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে ৪৯ সেঞ্চুরি ও ১২২টি ফিফটি করেন তিনি।
এছাড়া ওয়ানডে ক্রিকেটে ২১ ফিফটিতে তার সংগ্রহ ২ হাজার ৩৮০ রান। একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সেঞ্চুরি না পেলেও লিস্ট ‘এ’ সংস্করণে ৯টি সেঞ্চুরিসহ প্রায় ১১ হাজার রান করেন তিনি।
খেলোয়াড়ি জীবন শেষ হওয়ার পর ২০১০ সালে ইংল্যান্ডের ব্যাটিং কোচের দায়িত্ব নেন থর্প। পরে ক্রিস সিলভারউডের কোচিংয়ে সহকারীর দায়িত্বও পালন করেন তিনি। ২০১৯ সালে ওয়ানডে বিশ্বকাপ জয়ের সময়ও কোচিং স্টাফে ছিলেন তিনি। ২০২২ সালের মার্চে আফগানিস্তানের প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ পান তিনি। কিন্তু গুরুতর অসুস্থ হওয়ায় দুই মাসের মধ্যে দায়িত্ব ছেড়ে দেন তিনি।










