চলতি মাসের মধ্যে জুলাই সনদ বা জাতীয় সনদ প্রণীত না হলে এর জন্য সংস্কার কমিশন, জাতীয় ঐক্য কমিশন এবং অন্তর্বর্তী সরকার দায়ী থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, বিএনপির ওপর অবিরাম দোষ চাপানোর চেষ্টা চলছে। বিএনপির কারণে নাকি সংস্কার হচ্ছে না। বাস্তবতা হচ্ছে বিএনপি ঐকমত্য পোষণের জন্য এগিয়ে আসছে। রাজধানীর পল্লবীতে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি আয়োজিত মৌন মিছিল-পূর্ব সমাবেশে গতকাল এসব কথা বলেন সালাহউদ্দিন আহমদ। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে এ মৌন মিছিলের আয়োজন করা হয়।
সমাবেশে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘যারা আজ সংস্কার কমিশনে গিয়ে আলোচনা করছে, খানাপিনা খাচ্ছে, সন্ধ্যাবেলায় চলে যাচ্ছে এবং কোনো সিদ্ধান্ত দিচ্ছে না, তারা কারা। তারা কেউ ১৩ দল, কেউ ১৪ দল, কেউ বিভিন্ন রকমের দল, যারা আওয়ামী লীগের সঙ্গেও বিভিন্ন সময়ে সংযোগে ছিল। তাদের বক্তব্য শুনে যদি সংস্কার কমিশনকে সিদ্ধান্ত নিতে হয়, জাতির জন্য দুর্ভাগ্য হবে।’
যারা বিভিন্ন ধরনের বিভ্রান্তি সৃষ্টির মধ্য দিয়ে নির্বাচনকে বিলম্বিত করতে চায় অথবা অনিশ্চিত করতে চায়, তারাই জাতীয় নির্বাচনের আগে এ অন্তর্বর্তী সরকারের অধীন স্থানীয় সরকার নির্বাচন চায় বলে মনে করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ সদস্য। তিনি বলেন, ‘যারা বলে পিআর পদ্ধতিতে (সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব) নির্বাচন চায়, তাদের উদ্দেশ্য খারাপ।’
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘যারা হাতপাখা দিয়ে ১৬ বছর আওয়ামী লীগকে বাতাস করেছে, তারা নাকি কোথাও পিআর পদ্ধতি ছাড়া নির্বাচন চায় না। তাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরেকটি দল, যে দলটি সবসময় বিভ্রান্তিমূলক রাজনীতি বাংলাদেশে করেছে। একসময় স্বাধীনতার বিরুদ্ধে গেছে। আরেক সময় জনগণের বিরুদ্ধে গেছে। আরেক সময় মানুষের সেন্টিমেন্টের (আবেগ-অনুভূতি) বিরুদ্ধে গেছে। তারা সবসময় বিভ্রান্তিমূলক রাজনীতি করে, এবার ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করার চেষ্টা করছে।’
ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হকের সভাপতিত্বে মৌন মিছিল-পূর্ব সমাবেশে আরো বক্তব্য দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন, জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এসএম জিলানী, জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের সভাপতি হাসান জাফির, জাতীয়তাবাদী যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য সচিব মোস্তাফা জামান, ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন প্রমুখ। সমাবেশ শুরুর আগে বেলা ৩টা থেকে মিরপুরের পল্লবীতে বিআরটিসির বাস ডিপোর সামনে জড়ো হতে থাকেন দলটির নেতা-কর্মীরা। সমাবেশ শেষে সেখান থেকে মিছিল বের করেন তারা। মিছিলটি মিরপুর–১১ নম্বর, মিরপুর ১০ নম্বর, কাজীপাড়া হয়ে শেওড়াপাড়ায় এসে শেষ হয়।
এদিন রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনেও শহীদদের স্মরণে দোয়া ও মৌন মিছিলের এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বিএনপি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখা। মৌন মিছিলটি নয়াপল্টন থেকে কাকরাইল, শান্তিনগর, মালিবাগ, মৌচাক হয়ে আবুল হোটেলের সামনে গিয়ে শেষ হয়।
এর আগে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা খুব তাড়াতাড়ি একটি নির্বাচন দিন। দিলে কিন্তু যেটা হবে, দেশে যে আজকের অশান্ত পরিস্থিতি, এ অশান্ত পরিস্থিতি ঠান্ডা হয়ে যাবে। আর না দিলে আমরা ভাবব, দেশকে অশান্ত করার প্রক্রিয়া আপনারাই করছেন।’
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে বিএনপি ও ছাত্রদলের প্রায় ৪২২ জন শহীদ হয়েছেন উল্লেখ করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ সদস্য বলেন, ‘পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে, ওই ঘটনাগুলো নিয়ে বিশেষ কয়েকটি দল রাজনীতি করছে এবং তাদের বিক্রি করে রাজনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার চেষ্টা করছে। শহীদেরা কোনো একক ব্যক্তি, রাজনৈতিক দলকে সমর্থন দেয়নি।’
বিএনপি ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে চায় উল্লেখ করে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘শাহাদত বরণকারী ভাইরা সবসময় একটা ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ চেয়েছিল। আমরাও একটি ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ চাই। যে ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশের মাধ্যমে বিদেশী প্রত্যাবর্তনকে রুখে দেয়া যাবে। এ দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে রক্ষ করা যাবে। এ দেশে মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার অর্জন করা যাবে।’
বিএনপি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনুর সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিনের সঞ্চালনায় মহানগর বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী দোয়া ও মৌন মিছিলে অংশ নেন।









