রাজধানীর মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে ভাঙারি ব্যবসায়ী সোহাগ (৩৯) হত্যাকাণ্ডে মূল আসামিদের এখনো গ্রেফতার না করা এবং মামলার এজাহার থেকে মূল তিন আসামিকে বাদ দেয়া ‘রহস্যজনক’ বলে প্রশ্ন তুলেছে বিএনপির তিন সংগঠন।

এ বিষয়ে যুবদলের সভাপতি এম মোনায়েম মুন্না বলেন, ‘এই ঘটনায় যারা সরাসরি সংশ্লিষ্ট, ভিডিও ফুটেজ ও সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে যাদের দেখা গেছে, বিস্ময়করভাবে তাদের মামলার প্রধান আসামি করা হয়নি। যারা প্রাণঘাতী আঘাতগুলো করেছে তারা অদ্যাবধি গ্রেফতারও হয়নি। এর কারণ আমাদের বোধগম্য নয়।’

গতকাল পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির তিন সংগঠন যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের পক্ষে তিনি এ মন্তব্য করেন।

গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনাদের (গণমাধ্যম) মাধ্যমে আমরাও জানতে চাই, কারা কেন এই তিন আসামিকে বাদ দিয়ে নতুন করে অন্যজনকে আসামি করল, এটা আমরা জানতে চাই। আর ঘটনাটি বুধবারের। শুক্রবার এ ঘটনা ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়েছে। দুইদিন আগের ঘটনা কেন দুইদিন পর প্রচার হলো, এর পেছনে কারা জড়িত সেটাও খুঁজে দেখা উচিত। গণমাধ্যমে মামলার এজহারে উল্লিখিত বাদীর মেয়ে বলেছেন, মামলার এজহারে খুনের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত তিন খুনিকে পুলিশ কৌশলে বাদ দিয়ে নিরাপরাধ তিনজনকে আসামি করেছে। ঘটনার ৬০ ঘণ্টার বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও খুনের প্রমাণাদি হাতে থাকার সত্ত্বেও মূল আসামিদের গ্রেফতার করা গেল না। এটা একটি বিরাট প্রশ্ন ও রহস্য।’

তিনি আরো বলেন, ‘বিদ্যমান পরিস্থিতিতে আমরা মনে করছি, সরকার ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর হওয়ার কোনো বিকল্প নেই। এখানে আমাদের যদি কোনো ধরনের সহযোগিতার প্রয়োজন হয়, আমরা তা করতে সর্বদা প্রস্তুত আছি। দেশের জনগণকে অনুরোধ করছি, আপনারা সতর্ক থাকুন। আইন-শৃঙ্খলার নাজুক পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কোনো সুযোগসন্ধানী রাজনৈতিক দল বা অগণতান্ত্রিক শক্তি যাতে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, সেই বিষয়ে অনুগ্রহপূর্বক সতর্ক থাকুন।’

পুরান ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে গত বুধবার এক ভাঙারি ব্যবসায়ীকে প্রকাশ্যে মাথা থেঁতলে হত্যা করা হয়। নৃশংস ওই হত্যাকাণ্ড এবং তার পরের ঘটনাপ্রবাহের বেশকিছু ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘুরছে। সেসব দৃশ্য দেখে শিউরে উঠেছে মানুষ, তৈরি হয়েছে তীব্র ক্ষোভ। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার রাতে যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদল ৫ জনকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করেছে।

সংবাদ সম্মেলনে স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এসএম জিলানি, সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসান, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন, সিনিয়র সহসভাপতি রেজাউল করীম পল, ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির উপস্থিত ছিলেন।