নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামকে খেলার উপযোগী করতে সংস্কার করা হচ্ছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) নিজস্ব অর্থায়নে দীর্ঘ ৮ বছর পর মাঠটির সংস্কার করছে। গতকাল দুপুরে মাঠের সংস্কারকাজ পরিদর্শন করেন ক্রিকেট গ্রাউন্ড ও উন্নয়ন কমিটির চেয়ারম্যান আকরাম খান এবং বিসিবির পরিচালক তানভীর আহমেদ টিটু।
মাঠ পরিদর্শন শেষে আকরাম খান জানান, ক্রিকেট খেলোয়াড়দের মাঠের সুযোগ বাড়ানোর জন্যই ক্রিকেট বোর্ডের প্রেডিডেন্টের নির্দেশে খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামটির সংস্কারকাজ শুরু হয়েছে। ক্রিকেট বোর্ড খেলোয়াড়দের সুযোগ আরো বাড়ানোর জন্য ঢাকা ও এর বাইরে বেশ কয়েকটি মাঠ নিয়ে চিন্তা করছে।
তবে তিনি মাঠটি সংস্কার করতে কত ব্যয় হচ্ছে তা জানাতে অপারগতা প্রকাশ করে বলেন, ‘আগামী এক বছরের মধ্যে মাঠটি খেলার উপযোগী করে তোলা হবে। আগামী মৌসুমে এখানে সব ধরনের খেলা অনুষ্ঠিত হবে।’
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের খেলা নিয়ে আকরাম খান বলেন, ‘আমাদের দলের শুরুটা ভালো হয়েছিল। কিন্তু পরের ম্যাচগুলো আশানুরূপ হয়নি। যে কারণে আমাদের সেমিফাইনাল খেলার বিষয়টি কঠিন হয়ে গেছে। বাকি ম্যাচগুলো ভালো করলে একটি ভালো অবস্থানে যেতে পারব।’
ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক (মিডিয়া) ও নারায়ণগঞ্জ জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক তানভীর আহমেদ টিটু জানান, স্টেডিয়ামটি বাংলাদেশ ক্রীড়া পরিষদের (এনইসির) সংস্কার করার কথা থাকলেও নানা কারণে তাদের সময় লাগছে। এজন্য বিসিবি নিজস্ব অর্থায়নে মাঠটি সংস্কার করছে। মাঠে যেন পানি জমে থাকতে না পারে, এজন্য ৪-৬ ফুট উঁচু করে পরে ক্রিকেট বোর্ড মাঠের গ্রাউন্ড তৈরি করবে। মাঠ সংস্কার হলে নিয়মিত ফার্স্ট ডিভিশন, সেকেন্ড ডিভিশন, প্রিমিয়ার লীগসহ সব ধরনের খেলা হবে।
প্রায় ২৫ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতাসম্পন্ন স্টেডিয়ামে তিনটি টেস্ট ম্যাচ, ওডিআই ক্রিকেট ম্যাচসহ অসংখ্যা খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আইসিসি অনুমোদিত টেস্ট প্লেয়িং আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মাঠের একটি ভেনু এটি। এ মাঠে ২০১১ সালে ক্রিকেট বিশ্বকাপের ইংল্যান্ড বানাম পাকিস্তানের প্রস্তুতি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ২০১৪ সালের এশিয়া টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের অন্যতম অনুশীলন ভেনু ছিল এ মাঠটি। এছাড়া ২০১৫ সালে সর্বশেষ ভারত বনাম বাংলাদেশ টেস্ট ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছিল এ মাঠে। তারপর থেকেই পানি জমে থাকতে থাকতে মাঠটি পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে।
সংকট কাটাতে ঢাকার পাশের মাঠটি সংস্কারের উদ্যোগ নেয় বিসিবি। এনইসির সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমেই ক্রিকেট বোর্ডের নিজস্ব অর্থায়নে মাঠের সংস্কারকাজ শুরু হয়েছে। আউটার স্টেডিয়াম এবং ইনডোর স্টেডিয়ামে যাতে পানি জমে থাকতে না পারে, সেজন্য মাঠের ভেতর এবং বাইরে ৪-৬ ফুট বালি ফেলে উঁচু করা হবে।










