সাত দফা দাবিতে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় সমাবেশ করছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। আজ বেলা ২টায় সমাবেশের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। সমাবেশকে কেন্দ্র করে এরই মধ্যে সব আয়োজন সম্পন্ন করেছে দলটি। বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো দলটি এককভাবে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় সমাবেশ করছে। এর আগে বিএনপির সঙ্গে যৌথভাবে কয়েকটি সমাবেশে অংশ নিলেও এককভাবে এটিই প্রথম। এ সমাবেশে সভাপতিত্ব করবেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান।
জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাত দফা দাবিতে ডাক দেয়া হয়েছে এ জাতীয় সমাবেশের। দাবিগুলো হলো ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ও অন্যান্য সময় সংঘটিত সব গণহত্যার বিচার, রাষ্ট্রের সব স্তরে প্রয়োজনীয় মৌলিক সংস্কার, ঐতিহাসিক জুলাই সনদ ও ঘোষণাপত্রের পূর্ণ বাস্তবায়ন, জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের পরিবারের পুনর্বাসন, জনগণের প্রকৃত মতামতের প্রতিফলন ঘটাতে পিআর (প্রপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন) পদ্ধতিতে জাতীয় নির্বাচন আয়োজন, প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার জন্য সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা গ্রহণ এবং রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের জন্য সমান সুযোগ ও ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করা।
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় সমাবেশ প্রসঙ্গে দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ সমাবেশ হবে তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জমায়েত। এ লক্ষ্যে প্রতিদিনই রাজধানীসহ দেশজুড়ে চলছে মিছিল, মিটিং ও গণসংযোগ। সমাবেশ সফল করতে ট্রেন ও লঞ্চ ছাড়াও ভাড়া করা হয়েছে ১০ হাজারের মতো বাস। সমাবেশে ১০ লাখের বেশি নেতাকর্মীর উপস্থিতি আশা করা হচ্ছে। শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা রক্ষায় ছয় হাজার স্বেচ্ছাসেবক দায়িত্ব পালন করবেন।
দলটি আরো জানায়, সমাবেশস্থলে ১৫টি মেডিকেল বুথ ও বিভিন্ন জেলা থেকে আসা গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য ১৫টি স্পট থাকবে। সমাবেশ বাস্তবায়নে জামায়াত আটটি উপকমিটি গঠন করেছে।
এদিকে সমাবেশকে কেন্দ্র করে এরই মধ্যে জোরেশোরে চালানো হচ্ছে প্রচার। রাজধানীসহ সারা দেশের মহানগর, জেলা-উপজেলা, এমনকি পাড়া-মহল্লায়ও চলে প্রচার-প্রচারণা। রাজধানীতে একাধিক প্রচার মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এদিকে গতকাল সমাবেশস্থল পরিদর্শন করেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। এ সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘জাতীয় সমাবেশে কয়েক লাখ মানুষ রাজধানীতে প্রবেশ করবেন, যার ফলে সাময়িক দুর্ভোগ সৃষ্টি হতে পারে। তবে সেই দুর্ভোগ যতটা সম্ভব সীমিত রাখা যায়, সেজন্য দলের পক্ষ থেকে নানা প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।’
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ‘শুক্রবার রাত থেকেই স্থল, নৌ, সড়ক ও রেলপথে মানুষ ঢাকায় প্রবেশ শুরু করবে। আমরা চাই, কেউ যেন হয়রানির শিকার না হন এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশে যেন জাতীয় সমাবেশটি সম্পন্ন হয়।’
তিনি বলেন, ‘আমরা দেশবাসীর কাছে দোয়া চাই, যেন সমাবেশটি যথাযথভাবে সম্পন্ন করতে পারি। লাখ লাখ মানুষ রাজধানীতে প্রবেশ করার কারণে হয়তো যানজট হবে, যার ফলে জনদুর্ভোগ তৈরি হতে পারে। এজন্য জামায়াতের পক্ষ থেকে রাজধানীবাসীসহ দেশবাসীর কাছে আগাম ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।’
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ‘সমাবেশকে ঘিরে ছয় হাজারের মতো স্বেচ্ছাসেবক আটটি বিভাগে দায়িত্ব পালন করছেন। তারা সমাবেশস্থলের শান্তি-শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা ও আগত অতিথিদের সেবা দিতে কাজ করবেন।’
এ সময় সমাবেশ নির্বিঘ্ন করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে বলে জানান জামায়াতের এ নেতা। তিনি বলেন, ‘আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় আমরা সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, ডিএমপি কমিশনার ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে আলোচনা করেছি। তারা আমাদের আশ্বস্ত করেছেন, সাধ্য অনুযায়ী প্রশাসনিক সহযোগিতা ও নিরাপত্তা দেবেন।’
মিয়া গোলাম পরওয়ার আরো বলেন, ‘ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার জন্য পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের সঙ্গে আমাদের নেতারা একাধিকবার বৈঠক করেছেন। ঢাকার বাইরে থেকে আসা বাসগুলো কোন কোন স্থানে থামবে, সে বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।’
এদিকে ঢাকায় সমাবেশে নেতাকর্মীদের আনা-নেয়ার জন্য তিন জোড়া বিশেষ ট্রেন ভাড়া করেছে দলটি। এসব ট্রেন একবার করে চলবে রাজশাহী-ঢাকা-রাজশাহী, সিরাজগঞ্জ-ঢাকা-সিরাজগঞ্জ ও ময়মনসিংহ-ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটে। জামায়াতের ট্রেন চাওয়ার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের সহকারী চিফ অপারেটিং সুপারিনটেনডেন্ট আব্দুল আওয়াল, ডেপুটি চিফ অপারেটিং সুপারিনটেনডেন্ট-১ আরফিন নাহার এবং রেলওয়ের উপপরিচালক খায়রুল কবির পৃথক চিঠিতে ট্রেন বরাদ্দ দেন। বিশেষ এই তিন ট্রেন অগ্রিম ভাড়া, সার্ভিস চার্জ ও অন্যান্য পাওনা পরিশোধ সাপেক্ষে চলবে।
জামায়াতে ইসলামীর রাজশাহী মহানগরীর সেক্রেটারি ইমাজ উদ্দিন মন্ডল গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমরা গতকাল ট্রেনের ১ হাজার ১৭৯টি টিকিটের মূল্য হিসেবে প্রায় ১২ লাখ ৭ হাজার টাকা পরিশোধ করে রসিদ নিয়েছি। ১৪ বগির এ ট্রেনে কেবল আমাদের নেতাকর্মীরা থাকবেন।’
তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন উপজেলা থেকে ৭ থেকে ১০টি বাস নেতাকর্মীদের নিয়ে যাবে। শুক্রবার সকালেও অনেকে ঢাকায় গিয়েছেন। সমাবেশ সফল করতে রাজশাহী জেলা ও মহানগর থেকে প্রায় ১২ হাজার নেতাকর্মী অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।’









