জেলায় জেলায় ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বাড়িঘর, ধর্মীয় উপাসনালয়, মন্দির ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা এবং নির্বিচারে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, যানবাহনে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনায় গভীর হতাশা প্রকাশ করে ও তীব্র নিন্দা জানিয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) বলেছে, ছাত্র-জনতার অভূতপূর্ব প্রাণহানি, ত্যাগ ও তিতিক্ষার বিনিময়ে বৈষম্যহীন, ন্যায়বিচার ও সুশাসিত রাষ্ট্র বিনির্মাণের যে শুভক্ষণ আমাদের সামনে উপস্থিত হয়েছে, এ জাতীয় স্বার্থান্ধ ও সাম্প্রদায়িক কর্মকাণ্ড তা নস্যাৎ, ভূলুণ্ঠিত ও প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য যথেষ্ট বলে মনে করছে সংস্থাটি। ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের অনতিবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণেরও জোর দাবি জানাচ্ছে টিআইবি।
গতকাল এক বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘সাম্য, সম্প্রীতি ও সবার সমান অধিকারের দাবিতে পরিচালিত আন্দোলনে শত শত ছাত্র-জনতার রক্তে রঞ্জিত অভূতপূর্ব বিজয়ের মাহেন্দ্রক্ষণে এসে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদ বিনষ্ট ও লুটপাট থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাতে হচ্ছে, যা খুবই বেদনাদায়ক ও হতাশার। চলমান বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন জাতি-ধর্ম-শ্রেণী-পেশা নির্বিশেষে সাধারণ জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের ফলেই সফল হয়েছে। এ আন্দোলনে ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেছেন! শহীদ হয়েছেন! আহত হয়েছেন! তাদের পরিবারকে আমরা কী জবাব দেব? সংখ্যালঘুদের ওপর এমন আক্রমণ বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মূল চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। কার স্বার্থরক্ষায়, কোন বিবেচনায় এ জাতীয় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টকারী কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে? ছাত্র-জনতার ত্যাগ-তিতিক্ষার বিনিময়ে অর্জিত রাষ্ট্র বিনির্মাণের এ অভাবনীয় সুযোগ যেন কোনোভাবেই সাম্প্রদায়িক শক্তি ও সংকীর্ণ স্বার্থের চোরাবালিতে আটকে না যায়, সে ব্যাপারে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের উদাত্ত আহ্বান জানাই।’
সংসদ ভবন, আদালত প্রাঙ্গণ ও প্রধান বিচারপতির বাসভবন থেকে শুরু করে বিভিন্ন সরকারি স্থাপনা, থানা, বাসাবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনা উল্লেখ করে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলছেন, ‘যেকোনো রাষ্ট্রীয় সম্পদ এ দেশের জনগণের, সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত সম্পদের করের টাকায় এসব প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করা হয়েছে। আজ যারা প্রতিশোধপ্রবণ হয়ে এ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করছে, তাদের ভাবতে হবে, যে সরকারই আসুক না কেন, দেশ পরিচালনা করতে হলে এসব স্থাপনা অবশ্যই পুনর্নির্মাণ করতে হবে। আর তাই যেকোনো ধরনের রাষ্ট্রীয় স্থাপনা ও প্রতিষ্ঠানে অংগ্নিসংযোগ করা অর্থই হবে—আমরা আমাদের সম্পত্তি ধ্বংস করছি। এ জাতীয় আত্মঘাতী কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে যারা দায়িত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছেন, তাদের পাশাপাশি সব জনগণকেই সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।’










