প্রতীক্ষার অবসান হয়েছে। অবশেষে পদ্মা সেতু দিয়ে ঢাকায় যাবে বেনাপোল-যশোরের পরিবহনগুলো। তবে নড়াইল দিয়ে নয়, যেতে হবে ফরিদপুরে ভাঙ্গা দিয়ে। এ নিয়ে দ্বিধায় ছিলেন যশোরের পরিবহন সংশ্লিষ্টরা। বহুল প্রত্যাশিত পদ্মা সেতুর উদ্বোধন হয়েছে গতকাল। আজ থেকে উন্মুক্ত করে দেয়া হচ্ছে যানবাহন চলাচলের জন্য।
যশোরাঞ্চলের মানুষ এতদিন সড়ক পথে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া হয়ে রাজধানীতে যাতায়াত করত। সড়ক পথে এটি ছিল প্রধান মাধ্যম। মাওয়া-জাজিরা পয়েন্টে পদ্মার ওপর সেতু নির্মিত হওয়ায় এখন এ অঞ্চলের মানুষের ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যন্ত সহজ হবে। যশোর থেকে মাত্র সাড়ে তিন ঘণ্টায় যাওয়া যাবে ঢাকায়। এতে একদিকে যেমন ভোগান্তি কমবে, তেমনি যাত্রার ব্যয়ও সাশ্রয় হবে। সব মিলিয়ে সুফল পাবে খুলনাসহ ২১ জেলার মানুষ। এতে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য যেমন সম্প্রাসরণ হবে, তেমনি জীবন-মান উন্নত হবে। আর এ নিয়ে উচ্ছ্বসিত এ এলাকার মানুষ।
যশোরের ঈগল পরিবহনের স্বত্বাধিকারী পবিত্র কাপুড়িয়া বলেন, আমাদের ননএসি পরিবহনগুলো নড়াইল হয়ে পদ্মা সেতু দিয়ে চলাচল করবে। আপাতত সাড়ে ৫০০ টাকা ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া অন্য পরিবহনগুলোও আজ থেকে চলাচল শুরু করছে।
সোহাগ পরিবহন যশোরের ম্যানেজার পলাশ কুমার ঘোষ জানান, আগামীকাল থেকে চারটি করে পরিবহন পদ্মা সেতু হয়ে ঢাকায় যাবে। এর মধ্যে একটি ননএসি ও তিনটি এসি বাস চলবে। তিনি বলেন, বেনাপোল থেকে যশোর হয়ে ফরিদপুরের ভাঙ্গা দিয়ে পদ্মা সেতু পার হবে পরিবহনগুলো। কেননা নড়াইলের কালনা সেতু চালু না হওয়ায় এ বিকল্প ব্যবস্থা।
গ্রিনলাইনের যশোরের ম্যানেজার সুব্রত ঘোষ জানান, আমাদের পাঁচটি এসি পরিবহন বেনাপোল থেকে ছেড়ে যাবে। বেনাপোল থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা এবং যশোর থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা দিয়ে যাত্রীকে যেতে হবে। আপাতত পরিবহনগুলো ফরিদপুর হয়ে যাবে। এতে মাগুরার কিছু যাত্রী পাওয়া যাবে।
যশোর বাস মালিক সমিতির সভাপতি বদরুজ্জামান বাবলু বলেন, আমাদের বাস পদ্মা সেতু দিয়ে চলাচল করলে জ্বালানি খরচ কমবে। আজ থেকে কিছু পরিবহন পদ্মা সেতু হয়ে চলাচল শুরু করছে। কালনা সেতু চালু হলে পূর্ণাঙ্গভাবে সবাই চলাচল করবে।
পদ্মা সেতু দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলসহ পুরো বাংলাদেশের জন্য নতুন দিগন্তের সূচনা করতে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, পদ্মা সেতু চালু হওয়ার কারণে যশোর থেকে সাড়ে ৩ ঘণ্টায় ঢাকায় চলে যেতে পারবেন যাত্রীরা। এতে এ অঞ্চলের অর্থনীতির গতি বেড়ে যাবে।










