জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম পুরনো খেলা বন্ধ না হলে আরেক গণ-অভ্যুত্থানের প্রস্তুতি নেয়ার কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, ‘এই মাফিয়া সিস্টেমের সঙ্গে আমরা খেলব না, পুরনো খেলায় অংশগ্রহণ করব না। পুরনো খেলার বিরুদ্ধেই গণ-অভ্যুত্থান হয়েছে, আমরা রক্ত দিয়েছি। ফলে খেলার নিয়ম বদলাইতে হবে। কিন্তু আমরা জানি, খেলার নিয়ম এখনো বদলায় নাই। নারায়ণগঞ্জে এখনো খেলা বন্ধ হয় নাই। খেলা বন্ধ না হলে আরেকটা গণ-অভ্যুত্থানের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে।’
গতকাল বিকালে জুলাই পদযাত্রার অংশ হিসেবে নারায়ণগঞ্জ শহরে পদযাত্রা শেষে চাষাঢ়া গোল চত্বরে পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
জুলাইয়ে যে আকাঙ্ক্ষা নিয়ে গণ-অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছিল, তা বাস্তবায়ন হয়নি মন্তব্য করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘গণ-অভ্যুত্থানের পরে বাংলাদেশ রাষ্ট্রকে পরিবর্তনের কথা বলেছিলাম। এই রাষ্ট্র ব্যবস্থার পরিবর্তন করতে হবে। পুরনো রাষ্ট্র ব্যবস্থার একটা চরম উদাহরণ এই নারায়ণগঞ্জ শহর, যেখানে পরিবারতন্ত্র, মাফিয়াতন্ত্র, গডফাদারতন্ত্র সব মিলেমিশে একাকার। এই একই সিস্টেমে পুরা বাংলাদেশ এত বছর ধরে পরিচালিত হয়ে আসছে। নারায়ণগঞ্জকে কিছু পরিবার বছরের পর বছর নিয়ন্ত্রণ করেছে। এই শহরের ব্যবসা, অর্থনীতি ও রাজনীতি সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে তারা দখলদারত্ব, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস কায়েম করেছে। সেইসঙ্গে হরণ করেছে জনগণের অধিকার।’
নতুন বন্দোবস্ত নিয়ে তিনি বলেন, ‘নতুন বন্দোবস্তের যে আকাঙ্ক্ষা নিয়ে আমরা গণ-অভ্যুত্থানে লড়াই করেছিলাম, সেই বন্দোবস্ত প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করে যেতে হবে। এই যুদ্ধ সেদিনই শেষ হবে যেদিন পুরনো বন্দোবস্তের পরিবর্তন ঘটিয়ে জনগণের গণতান্ত্রিক বন্দোবস্ত প্রতিষ্ঠা করব।’
গতকাল সকালে মুন্সীগঞ্জে পদযাত্রা শেষে দুপুরে নারায়ণগঞ্জে আসেন এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা। পরে দুপুরের খাবার শেষে নগরের নিতাইগঞ্জ এলাকা থেকে পদযাত্রা শুরু হয়। দলটির নেতাকর্মী ও সমর্থকরা অন্তত তিন কিলোমিটার পথ হেঁটে চাষাঢ়ায় এসে থামেন। সেখানে সড়কের ওপর ট্রাক দিয়ে অস্থায়ী মঞ্চ করা হয়।
গণ-অভ্যুত্থানে নারায়ণগঞ্জবাসীর ভূমিকার কথা তুলে ধরে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘গণ-অভ্যুত্থানের ইতিহাসে নারায়ণগঞ্জের নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।’
পথসভায় এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, ‘সন্ত্রাসী হামলা করে আমাদের থামিয়ে রাখা যাবে না। আওয়ামী লীগকে ফেরানোর জন্য ভারতীয় শক্তিগুলো একযোগে মাঠে নেমেছে। কিন্তু আমরা আবারো রক্ত দিয়ে হলেও আওয়ামী সন্ত্রাসীদের আর কখনো ফিরে আসতে দেব না। কেয়ামত পর্যন্ত আওয়ামী লীগের রাজনীতির আর কোনো সুযোগ নাই।’
গোপালগঞ্জে এনসিপির কর্মসূচিতে আওয়ামী লীগের হামলার ঘটনায় কিছু বুদ্ধিজীবী ‘খুনিদের পক্ষ’ নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন দলটির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ।
পদযাত্রায় এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা, যুগ্ম সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল আমিন, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সার্জিস আলম, দক্ষিণাঞ্চলের সংগঠক শওকত আলী এবং নারায়ণগঞ্জ জেলার যুগ্ম সমন্বয়কারী আহমেদুর রহমান তনু উপস্থিত ছিলেন।









