বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের রাজনীতির মৃত্যু হয়েছে, আর দাফন করা হয়েছে ভারতের দিল্লিতে। শেখ মুজিব ও শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ এ দেশে আর রাজনীতি করার অধিকার রাখে না। তারা নিজেরাই রাজনীতিকে ধ্বংস করেছে—খুন, গুম, এবং দেশের গণতন্ত্র ধ্বংস করে জনগণকে নিঃশেষ করেছে। হাসিনা এখন বিশ্বব্যাপী খুনি হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হোক, সেটা দেশের প্রতিটি নাগরিক চায়।
সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২টায় কক্সবাজার গোলচত্বর মাঠে জেলা বিএনপি আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ সদস্য অন্তর্বর্তী সরকারকে ইঙ্গিত করে বলেন, ‘সংস্কার বলে সময় ক্ষেপণ করবেন না। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করুন, জনগণের বিরুদ্ধে যাবেন না। এখনো আমলা-পুলিশ প্রশাসনে ফ্যাসিস্টদের দোসররা আছে, তাদের বিতাড়িত করুন। দ্রুত প্রয়োজনীয় সংস্কার করে নির্বাচনী রোডম্যাপ প্রকাশ করুন।
লবণ শিল্পের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, লবণ চাষিদের সঙ্গে নিমকহারামি করবেন না। কক্সবাজারে উৎপাদিত লবণ দিয়ে পুরো দেশের চাহিদা মেটানো সম্ভব। বিদেশ থেকে লবণ আমদানির কোনো প্রয়োজন নেই।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টাকে উদ্দেশ্য করে সাবেক প্রতিমন্ত্রী বলেন, ডিসেম্বরের আগেই দ্রুত জাতীয় নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করুন। কিছু উপদেষ্টা জনগণের মনোভাব বোঝেন না, তাদের নসিহত করুন, অথবা বিদায় দিন। জনগণের বিরুদ্ধে যাবেন না। গণঅভ্যুত্থানের গতি অনুযায়ী নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ করুন, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি করুন। পতিত হাসিনার দোসরদের অস্থিরতা সৃষ্টির অপচেষ্টা শক্ত হাতে দমন করুন।
তিনি বলেন, অনুপাতভিত্তিক নির্বাচন যারা চান, তারা রাজনৈতিক বাস্তবতা বোঝেন না। স্থানীয় নির্বাচন দিয়ে জাতীয় নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা যায় না। এ দেশের মানুষ বৈষম্যের বিরুদ্ধে রক্ত দিয়েছে। বৈষম্যহীন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য নির্বাচন কমিশনকে ছাত্র-জনতা ম্যান্ডেট দিয়েছে। ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য জাতীয় সংসদ নির্বাচন সর্বাগ্রে প্রয়োজন। তাই গণতন্ত্র রক্ষার সকল পদক্ষেপ জাতীয় সংসদেই নির্ধারিত হবে।
দেশব্যাপী কেন্দ্রীয় বিএনপি ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজিত এ জনসভায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি সহনীয় পর্যায়ে রাখা, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, দ্রুত গণতান্ত্রিক উত্তরণ নিশ্চিত করা এবং ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদসহ বিভিন্ন দাবি তুলে ধরা হয়।
জনসভায় সাবেক প্রতিমন্ত্রী বলেন, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে পাকিস্তানি স্বৈরশাসক আইয়ুব খানের পতন ঘটে। ১৯৭৫ সালে শেখ মুজিব একদলীয় বাকশাল কায়েম করে নিজেই নিজের কবর রচনা করেন। তার কন্যা শেখ হাসিনা ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগের কবর রচনা করেন এবং দিল্লিতে গিয়ে তার দাফন সম্পন্ন করেন। হাসিনা এখন কাফন পরে দিল্লিতে বসে কথা বলছে। এ দেশে মৃতদের কথা বলা জায়েজ নয়।
কক্সবাজার জেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক (চট্টগ্রাম বিভাগ) মাহবুবের রহমান শামীম, কেন্দ্রীয় মৎস্যজীবী বিষয়ক সম্পাদক লুৎফর রহমান কাজল, কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হারুন অর রশিদ, বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মীর হেলাল উদ্দিন, সাবেক এমপি আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ।
অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন কক্সবাজার জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি এটিএম নুরুল বশর চৌধুরী, সহ-সভাপতি এনামুল হক, মমতাজুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট নুরুল আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক জামিল ইব্রাহিম চৌধুরী, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট হাসান ছিদ্দিকী, কক্সবাজার পৌর বিএনপির সভাপতি আলহাজ রফিকুল হুদা চৌধুরী, জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট তাওহীদুল আনোয়ার, জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি রফিকুল ইসলাম, যুবদলের সভাপতি অ্যাডভোকেট ছৈয়দ আহমদ উজ্জ্বল, কৃষক দলের আহ্বায়ক গিয়াস উদ্দিন আফসেল, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ ইউনুছ, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি শাহাদাত হোসেন রিপন ও সাধারণ সম্পাদক ফাহিমুর রহমান প্রমুখ।










