বছরের শেষ দিনে কুয়াশায় ঢাকা পড়েছে উত্তরের হিম অঞ্চল পঞ্চগড়। পৌষের মাঝামাঝি সময়ে কুয়াশা ও হিমেল বাতাসে বেড়েছে শীতের মাত্রা। গতকাল রাত থেকে বৃষ্টির মত পড়ছে কুয়াশা। কুয়াশায় আচ্ছন্ন চারদিক। সূর্য আলো ছড়াতে পারেনি। এতে মানুষের সঙ্গে পশুপাখিরাও কাবু হয়ে যাচ্ছে। গত কয়েকদিন ধরে জেলায় তাপমাত্রা ১২ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘরে ওঠানামা করছে।
আবহাওয়া অধিদফতরের দেয়া তথ্যমতে, আগামী দিনগুলোতে বঙ্গোপসাগর থেকে আসা জলীয় বাষ্পের পরিমাণ কমে যাবে। এতে নতুন বছরের শুরুতে তাপমাত্রা কমে শীত বাড়তে পারে। মাসের শুরু থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে শৈত্যপ্রবাহ চলতে পারে। সেই সঙ্গে কুয়াশাও বাড়তে পারে।
মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়ায় ১০ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৯৭ শতাংশ। এর আগে, সকাল ৬টায় তেঁতুলিয়ায় ১১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। সোমবার সকাল ৯টায় এখানে ৯ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়।
স্থানীয়রা বলছেন, এ শীত মৌসুমে তারা দিনের তুলনায় রাতে বেশি শীত অনুভব করছেন। দিন-রাতে দুই রকম তাপমাত্রা। রাতে তাপমাত্রা মাইনাস জিরো ডিগ্রিতে নেমে আসছে এমন অনুভব করছেন তারা। উপায়ন্তর না পেয়ে সন্ধ্যা-ভোরে খড়কুটো জ্বালিয়ে ঠাণ্ডা কমানোর চেষ্টা করছেন তারা। দিনে রাতে দুই রকম তাপমাত্রার কারণে বেড়েছে শীতজনিত বিভিন্ন রোগব্যাধিতে আক্রান্তের সংখ্যা। জেলা ও উপজেলার হাসপাতালগুলোর বহির্বিভাগে জ্বর, সর্দি, ডায়রিয়া, নিউমোনিয়াসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন রোগীরা।
ট্রাকচালক রহিমুল ইসলাম জানান এত বেশি ঘন কুয়াশা যে সামনে দশ গজ দেখা যায় না। এক ঘণ্টার রাস্তা দুই ঘণ্টাতেও পাড়ি দেয়া যায়।
পৌরসভা এলাকার ইজিবাইক চালক আজাদ জানান আজ শরীর কাঁপছে। একদিকে ঘন কুয়াশা আর অন্যদিকে ঠাণ্ডা বাতাসে ইজিবাইক চালানোই মুশকিল।
জেলার প্রথম শ্রেণির তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ বলেন, বছরের শেষ দিনে আজ মঙ্গলবার সকাল ৯টায় তাপমাত্রা রেকর্ড হলো ১০ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বছরের শুরুতে জানুয়ারির ১ তারিখে তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছিল ১১ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বরে তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছিল ১৩ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বিগত কয়েক বছরে এ দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৩ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক সাবেত আলী জানান, এ জেলার পাঁচ উপজেলায় ১২ হাজার কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। আরো ৩৩ লাখ টাকার কম্বল ক্রয়ের জন্য বরাদ্দ পাওয়া গেছে। তবে বিরাট অংকের জনগোষ্ঠির জন্য আবারও কম্বলের জন্য আবেদন করা হয়েছে।










