ছাত্রজনতার বিক্ষোভের মুখে দেশ ছেড়ে এরই মধ্যে ভারতে গেছেন শেখ হাসিনা। সঙ্গে রয়েছেন তার বোন শেখ রেহানাও। টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক খবরে বলা হয়েছে, ‘শেখ হাসিনা লন্ডনের উদ্দেশে ভারত ছাড়তে প্রস্তুত।’

খবরে বলা হয়, ‘বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সোমবার নয়া দিল্লির কাছে হিন্দন বিমানঘাঁটিতে অবতরণ করেছেন। ভারতে সংক্ষিপ্ত সময় থাকার পর তিনি লন্ডনের উদ্দেশে রওনা হবেন। সেখানে তার সঙ্গে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় শেখ হাসিনা বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি ও তার নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন।’

এদিন দুপুরের পর লকহিড সি-১৩০জে হারকিউলিস মডেলের একটি সামরিক উড়োজাহাজ শেখ হাসিনাকে নিয়ে ভারতে যায়। পদত্যাগ করে দেশত্যাগ করেন শেখ হাসিনা।

সরকার পতনের যে এক দফা দাবির মুখে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা ছাড়তে হলো, সেই এক দফার উৎপত্তি কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে। সরকারি চাকরির কোটা সংস্কার দাবিতে ওই আন্দোলন দানা বাঁধা শুরু করে গত মাসের শুরুর দিকে। সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডেকে কোটা সংস্কারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের দাবি জানায় ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’। এর মধ্যে ১৫ জুলাই আন্দোলন ঘিরে সহিংসতার সূত্রপাত। এদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা করে পুলিশসহ ক্ষমতাসীন দল ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।  পরের দিন (১৬ জুলাই) ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রংপুরে ছয়জনের মৃত্যু হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বন্ধ ঘোষণা করা হয় দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। কিন্তু সহিংসতার তীব্রতা ও ব্যাপ্তি বাড়তে থাকে। ১৮ জুলাই সারা দেশে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি দেন আন্দোলনকারীরা। এদিন মৃত্যু হয় ২১ জনের। ১৯ জুলাই নিহত হন ৫৮ জন। এর মধ্যে রাজধানীতেই প্রাণ হারান ৪৯ জন।

উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ২০ জুলাই অনির্দিষ্টকালের কারফিউ জারি করা হয়। সারা দেশে মোতায়েন করা হয় ২৭ হাজার সেনা। অন্যদিকে আন্দোলন ঘিরে সৃষ্ট সহিংসতার অভিযোগে সরকারের পক্ষ থেকে দেশজুড়ে শত শত মামলা করা হয়। এসব মামলায় হাজার হাজার মানুষকে বিনা অপরাধে গ্রেফতারের অভিযোগ ওঠে সরকারের বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে দাবি ওঠে, আন্দোলন ঘিরে সৃষ্ট সহিংসতায় নিহতদের মৃত্যুর বিচার অবিলম্বে করতে হবে।

২ আগস্ট আবার আন্দোলন ঘিরে প্রাণ ঝরে। এদিন খুলনায় এক পুলিশ সদস্য ও হবিগঞ্জে এক যুবকের মৃত্যু হয়। ৩ আগস্ট বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দেয় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। এদিন সরকার পতনের এক দফা দাবি ঘোষণা করেন আন্দোলনকারীরা। এ দাবি আদায়ে ৪ আগস্ট অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেয়া হয়। একই দিন মাঠে নামে আওয়ামী লীগও। এদিন ভয়ংকর রূপ নেয় দেশের পরিস্থিতি, মৃত্যু হয় শতাধিক মানুষের। পরের দিন (৫ আগস্ট) ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি দেয় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। এদিন কারফিউ অমান্য করে সরকার পতনের দাবিতে রাজপথে নেমে আসে লাখো জনতা। এর মধ্যে দুপুরের পর খবর আসে, পদত্যাগ করে দেশ ছেড়েছেন ২০০৯ সাল থেকে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা শেখ হাসিনা।