জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, বিএনপি এখন চাঁদাবাজদের দলে পরিণত হয়েছে। সন্ত্রাসীদের দল তৈরি হয়েছে। মুজিববাদের নতুন পাহারাদার হিসেবে তাদের আবির্ভাব ঘটেছে।
গতকাল বিকালে পটুয়াখালী সার্কিট হাউজসংলগ্ন ‘হৃদয় তরুয়া চত্বরে’ জুলাই পদযাত্রা উপলক্ষে আয়োজিত পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন। পরে সন্ধ্যায় বরগুনায় পথসভায় বক্তব্য দেন নাহিদ ইসলাম।
পটুয়াখালীর পথসভায় তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রতি মানুষের যে সমর্থন, আস্থা ও উচ্ছ্বাস রয়েছে সেটি সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করবে। আমরা বলেছিলাম, মুজিববাদ বাংলাদেশের সংবিধানে বিভাজন তৈরি করেছে, রাষ্ট্রকে এগোতে দেয়নি। অথচ এখন বিএনপি সেই ’৭২ সালের মুজিববাদী সংবিধান টিকিয়ে রাখতে চাইছে।’
নাহিদ আরো বলেন, ‘আমরা অনৈক্য বা বিভাজন চাই না। কিন্তু যদি কেউ জনগণের বিরুদ্ধে দাঁড়ায়, যদি কেউ জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় তবে তাদের সঙ্গে আমাদের কোনো ঐক্য সম্ভব নয়।’
তিনি বলেন, ‘জুলাই ঘোষণাপত্র এবং জুলাই সনদ আগামী ৩ আগস্ট ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে আদায় করে ছাড়ব। সেখানে আপনাদের সঙ্গে দেখা হবে।’
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমরা বলেছিলাম, শত্রু বাংলাদেশের ভেতরে নয়, বাইরে রয়েছে। সেই বাইরের শত্রুর বিরুদ্ধে দেশের সব পক্ষকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। কিন্তু বাংলাদেশের ভেতরেই আমাদের বিরুদ্ধে বারবার বিভাজন তৈরি করে রাখা হয়েছে। যাতে আমরা দুর্বল থাকি, যাতে আমাদের ভিতর অনৈক্য থাকে। আমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে।’
সংগঠনের উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলমের সঞ্চালনায় সভায় আরো বক্তব্য দেন এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন, যুগ্ম আহ্বায়ক মুজাহিদুল ইসলাম শাহিন, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব তাসনীম জারা, এনসিপি নেতা মাহমুদা মিতু, মশিউর রহমান প্রমুখ।
বক্তব্য শেষে এনসিপি নেতারা জুলাই শহীদদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। পরে শহরের চৌরাস্তায় এনসিপির দলীয় কার্যালয় উদ্বোধন করা হয়।
এর আগে বেলা সাড়ে ১১টায় শহরের সার্কিট হাউজের সামনের সড়ক থেকে পদযাত্রা শুরু হয়। সেটি নিউমার্কেট, সদর রোড হয়ে লঞ্চঘাট, সবুজবাগ মোড়, কাজীপাড়া, তিতাস সিনেমা রোড হয়ে সার্কিট হাউজে এসে শেষ হয়।
রোববার রাত ১১টার দিকে নাহিদ ইসলাম দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে পটুয়াখালীতে পৌঁছেন। এরপর তারা পটুয়াখালী সার্কিট হাউজে রাত যাপন করেন।
এদিকে সন্ধ্যা ৬টায় বরগুনা শহরের পৌর মার্কেট প্রাঙ্গণে পথসভায় নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পরে চাঁদাবাজ আর দুর্নীতি আবারো চেপে বসেছে বাংলাদেশ রাষ্ট্রে। আমরা বলেছিলাম এই চাঁদাবাজ আর মাফিয়াদের যে সিস্টেম বাঁচিয়ে রাখে সেই সিস্টেমের আমরা পতন চাই। কিন্তু দেখেছি সেই সিস্টেমকে টিকিয়ে রেখেছে একটি দল। চাঁদাবাজ আর দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দিচ্ছে তারা।’
পুরান ঢাকায় এক ব্যবসায়ীকে নৃশংসভাবে হত্যার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে পথসভায় নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আপনারা কয়েক দিন আগে ঢাকায় দেখেছেন এই বরগুনা এলাকার সন্তান সোহাগকে কি বীভৎসভাবে পাথর দিয়ে কীভাবে জনসম্মুখে হত্যা করা হয়েছে। বরগুনাবাসী কি এই পাথর মেরে হত্যার রাজনীতি দেখতে চায়? বরগুনাবাসী কি এই চাঁদাবাজির রাজনীতি দেখতে চায়?’
তিনি আরো বলেন, ‘গণহত্যার বিচার আর নতুন বাংলাদেশের জন্য আমরা সংস্কার চাই। আমরা চাই নির্বাচন কমিশন থেকে শুরু করে দুদক পর্যন্ত নিরপেক্ষভাবে নিয়োগ হবে। প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা নিয়ন্ত্রিত থাকবে। আমরা কোনো স্বৈরতন্ত্র বাংলাদেশে ফেরত আসতে দেব না। আমরা বাংলাদেশপন্থী রাজনীতি করব। বাংলাদেশে ভারত বা পাকিস্তানপন্থী রাজনীতির কোনো জায়গা হবে না। আমরা দেখেছি একটা দল ইতিহাসে এককালে পাকিস্তানপন্থীদের পুনর্বাসন করেছিল। গণ-অভ্যুত্থানের পরে তারা আবার মুজিববাদীদের পুনর্বাসন করছে। আমি স্পস্ট ভাষায় বলছি, বাংলাদেশে মুজিববাদীদের রাজনীতি হবে না, চাঁদাবাজদের রাজনীতি হবে না।’
বরগুনায় এনসিপি আয়োজিত পদযাত্রায় দলটির দক্ষিণাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ তার বক্তব্যে বলেন, ‘আমাদের বাধা দেওয়ার চক্রান্ত করা হচ্ছে। আমাদের এই পথকে রুদ্ধ করার চক্রান্ত করা হচ্ছে। আমি স্পস্টভাবে বলছি বাধা দিলে বাধবে লড়াই, সেই লড়াইয়ে আমরাই জিতব। চাঁদাবাজরা ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। তাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিতে হবে।’
বরগুনায় প্রথমবারের মতো কোনো সভায় যোগদান করায় এলাকার জামাতা এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমকে উপস্থিত নেতারা স্লোগানের মাধ্যমে অভ্যর্থনা জানান।
পথসভায় সারজিস আলম বলেন, ‘আমরা জানতাম হাসিনা নাকি দক্ষিণাঞ্চলকে উন্নয়নের জোয়ারে ভাসিয়ে দিয়েছে। কিন্তু আজ আমরা বরগুনায় এসে দেখি রাস্তাঘাটে গর্ত, আর পানিতে ভেসে যাচ্ছে।’










