বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জামায়াত ক্ষমতায় এলে উত্তরবঙ্গকে কৃষি শিল্পের রাজধানীতে পরিণত করা হবে। এ অঞ্চলে প্রতিষ্ঠা করা হবে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। এ প্রতিষ্ঠান থেকে বের হয়ে দক্ষ জনবল দেশে-বিদেশে সম্মানের সঙ্গে কাজ করবে। তারা দেশ গড়ায় ভূমিকা রাখবে।’
নওগাঁ শহরের এটিএম মাঠে গতকাল দুপুর ১২টায় আয়োজিত জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী জনসভায় তিনি এ কথা বলেন। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘উত্তরবঙ্গে কৃষিভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয় হলে এখানে গবেষণা ইনস্টিটিউট অন্তর্ভুক্ত হবে। এ অঞ্চলে প্রচুর পরিমাণ আম উৎপাদন হলেও সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেই। তাই ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হন চাষীরা। তাদের স্বার্থে এ অঞ্চলে একাধিক সংরক্ষণাগার গড়ে তোলা হবে।’
উত্তরাঞ্চলের বিশাল কৃষি সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারলে দেশের অর্থনীতিতে নতুন গতি আসবে বলে মন্তব্য করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, ‘কৃষিকে আধুনিক প্রযুক্তি ও শিল্পায়নের সঙ্গে যুক্ত করে মানুষের জীবনমান বদলে দেয়া সম্ভব। তখন আর এখানকার যুবকদের কাজের জন্য ঢাকা বা দেশের বাইরে ছুটতে হবে না। নিজ এলাকায় থেকেই তারা সম্মানজনকভাবে উপার্জনের সুযোগ পাবে। এ সময় আম-লিচুসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাত করে বিদেশে রফতানির ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
রাজনৈতিক প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামীকে দীর্ঘদিন ধরে নানা কৌশলে বিভক্ত করে একে অন্যের মুখোমুখি দাঁড় করানোর চেষ্টা হয়েছে। তবে এখন আর সেই চেষ্টা সফল হবে না। বাংলাদেশ কেবল একটি দলের বা একটি গোষ্ঠীর নয়; এ দেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও মুসলমানসহ সব মানুষের। এ দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে সব সম্প্রদায়ের সমান অবদান রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে।’
সাম্প্রতিক সময়ে তাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও অপপ্রচার ছড়ানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি দাবি করেন, তার এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে একটি গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা করেছে। যারা পরিবারতন্ত্র কায়েম করতে চায়, তারাই এসব অপপ্রচারের পেছনে জড়িত বলে তিনি অভিযোগ করেন। তবে যারা মিথ্যাচার ও অপপ্রচার চালিয়েছে, তাদের তিনি ক্ষমা করে দিয়েছেন বলেও জানান।
বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত করে জামায়াত আমির বলেন, ‘একসঙ্গে আন্দোলনের সহযোদ্ধারাও আজ এসব মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে প্রপাগান্ডায় যুক্ত হচ্ছে, যা দুঃখজনক। যারা জনগণের সরকার চায় না এবং দেশকে পরাধীন করে রাখতে চায়, তারাই এ ধরনের অপপ্রচারের সঙ্গে জড়িত।’
নওগাঁবাসীর উদ্দেশে দেয়া প্রতিশ্রুতিতে শফিকুর রহমান বলেন, ‘ক্ষমতায় গেলে নওগাঁ শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো চার লেনে উন্নীত করা হবে। একটি মানসম্মত মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা হবে। পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের কৃষি খাতকে আধুনিকায়নের মাধ্যমে শিল্প খাতে রূপান্তর করে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।’
অতীতের উন্নয়ন প্রকল্পের সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, ‘মেগা প্রকল্পের নামে মেগা দুর্নীতি হয়েছে। এ টাকার প্রকৃত মালিক জনগণ। আল্লাহ যদি আমাদের সুযোগ দেন, তাহলে আর কাউকে জনগণের টাকা লুটপাট করতে দেয়া হবে না।’
জনসভায় অন্যদের মধ্যে ডাকসুর জিএস এসএম ফরহাদ, ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবিরসহ জেলা জামায়াত ও ১১ দলীয় ঐক্যজোটের বিভিন্ন নেতা বক্তব্য দেন। পরে নওগাঁর ছয়টি আসনের প্রার্থীদের হাতে দাঁড়িপাল্লা তুলে দিয়ে ভোটারদের প্রতি ভোট আহ্বান করেন জামায়াত আমির। সে সঙ্গে তিনি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত করার আহ্বান জানান।
জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান এরপর চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহীতে নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দেন।










