চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিএম কনটেইনার ডিপোয় বিস্ফোরণের আটদিন পর দগ্ধ ফায়ার সার্ভিসকর্মী গাউছুল আজম (২৬) গতকাল মারা গেছেন। তার মৃত্যুর খবরে যশোরের মণিরামপুর উপজেলার খাটুয়াডাঙ্গা গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে কাঁদতে কাঁদতে জ্ঞান হারাচ্ছেন মা আছিয়া বেগম। স্ত্রী কাকলী বেগম বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন।

গতকাল ভোরে রাজধানীর শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গাউছুল মারা যান। তিনি উপজেলার খাটুয়াডাঙ্গা গ্রামের আজগর আলীর ছেলে। দুই ভাইবোনের মধ্যে গাউছুল ছোট। ২০১৬ সালে খাটুয়াডাঙ্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন তিনি। ২০১৮ সালে ফায়ার সার্ভিসের যোগ দেন। এরপর একই ইউনিয়নের কাজীয়াডা গ্রামের কাকলীর সঙ্গে তার বিয়ে হয়েছে।

গতকাল দুপুরে খাটুয়াডাঙ্গা গ্রামে গাউছুুলের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, ছেলেকে হারিয়ে স্বজনের মাঝে বসে বিলাপ করছেন মা আছিয়া বেগম। একটু পরপর জ্ঞান হারিয়ে ফেলছেন তিনি। বাবাও কাঁদতে কাঁদতে বিলাপ করছেন। আর গাউছুলের স্ত্রী কাকলী যেন নির্বাক হয়ে গেছেন। তাদের পাঁচ মাস বয়সী ছেলে সিয়াম চাচার কোলে বসে আছে। তার মুখের দিকে তাকিয়ে কাঁদছেন স্বজন।

গাউছুলের মামাতো ভাই রমজান আলী জানান, দুর্ঘটনার পর থেকে বাড়ির কারো চোখে ঘুম নেই। সবাই দুশ্চিন্তায় নাওয়া-খাওয়া ছেড়ে দিয়েছিলেন। এর মধ্যে গতকাল ভোর ৪টার দিকে খবর আসে, ভাই মারা গেছেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ছিলেন গাউছুল ভাই। মামার চাষের জমিও নেই। কীভাবে যে এখন তাদের সংসার চলবে, আল্লাহ জানেন।

খাটুয়াডাঙ্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হজরত আলী বলেন, গাউছুল ছাত্র হিসেবে খুব ভালো ছিল। সাহসও ছিল অনেক। অল্প কিছু দিনের চাকরিতে সে বীরযোদ্ধা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। এরই মধ্যে ছেলেটি মারা গেল।

চাচা আকবর আলী বলেন, মাস দুয়েক আগে গাউছুল সীতাকুণ্ডে বদলি হয়েছিল। এর আগে বাগেরহাটে ছিল। তখন প্রায়ই বাড়ি আসত। এরপর ছয় মাসের জন্য তাকে চট্টগ্রাম পাঠানো হয়েছে। তিনি আরো বলেন, ঢাকায় ময়নাতদন্ত হয়ে গেছে। সেখান থেকে গোসল করিয়ে ফায়ার সার্ভিসের হেড অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ঢাকায় জানাজা শেষে তাকে যশোরে আনা হয়েছে। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ৪ জুন চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার কদমরসুল এলাকার বেসরকারি বিএম কনটেইনার ডিপোয় আগুন লাগে। আগুন নিয়ন্ত্রণের সময় বিস্ফোরণ ঘটলে আহত হন ফায়ার সার্ভিসকর্মীসহ দুই শতাধিক মানুষ। এ ঘটনায় গাউছুল আজমসহ এখন পর্যন্ত ১০ ফায়ার সার্ভিস কর্মীর মৃত্যু হলো। সব মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ৪৭-এ।