ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় চারজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও পাঁচজন। গতকাল রাতে নিমতলী এলাকায় এবং শুক্রবার (৩ জানুয়ারি) ভোর ৪টার দিকে হাসাড়া এলাকায় আরেকটি দুর্ঘটনা ঘটে।

নিমতলী এলাকায় নিহতরা হলেন, সের হেলপার মো. জীবন (৪৪)। তার বাড়ি শ্রীনগর উপজেলার কল্লিগাঁও গ্রামে। নিহত অপরজন হলেন বাসযাত্রী মো. রায়হান (২৭), তিনি সিরাজদিখান উপজেলার মালখানগর ইউনিয়নের দেবিপুরা গ্রামের বাসিন্দা। তবে ভোরে হাসাড়া এলাকায় নিহত দুইজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে এই দুই ব্যক্তির আনুমানিক বয়স ৩৫ ও ২৫ বছর।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল রাতে ঘন কুয়াশার মধ্যে দ্রুতগতিতে ঢাকা-শ্রীনগরগামী রুটের আবদুল্লাহপুর পরিবহনের একটি বাস যাত্রী নিয়ে শ্রীগরের দিকে যাচ্ছিল। এক্সপ্রেসওয়ের নিমতলা এলাকায় একটি কাভার্ড ভ্যান পার্কিং করা ছিল। রাত ১২টার দিকে ওই কাভার্ড ভ্যানকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয় বাসটি। এ সময় বাসটির সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে যায়। বাসের সাত যাত্রীকে উদ্ধার করে শ্রীনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়।

শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত চিকিৎসক ক্যামেলিয়া সরকার বলেন, ‘দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে সাতজনকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তাদের মধ্যে দুজন মৃত ছিলেন। অন্য পাঁচজনের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর ছিল। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। অন্য আহত ব্যক্তিদের বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।’

অন্যদিকে, শ্রীনগর উপজেলার হাঁসাড়া এলাকায় ভোর পৌনে পাঁচটার দিকে পূর্বাশা পরিবহনের ঢাকাগামী একটি বাস পেছন থেকে আরেকটি যানবাহনকে ধাক্কা দেয়। এ সময় বাসচালকের সহকারী ও সুপারভাইজর গুরুতর আহত হন। উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়ার পথে ওই দুজনের মৃত্যু হয়। তাৎক্ষণিকভাবে তাঁদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।

হাইওয়ে থানার ওসি আবদুল কাদের জিলানী বলেন, সিরাজদিখানের নিমতলা এলাকার দুর্ঘটনায় কাভার্ড ভ্যান ও বাসটি আমরা জব্দ করেছি, তবে বাসের চালক পালিয়ে গেছেন। ঘন কুয়াশা ও বেপরোয়া গতির কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।’