যশোরের অভয়নগরে ভৈরব নদের তীরে অনুমোদনহীন ২৯টি জেটি উচ্ছেদ করেছে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ। গত বুধ ও বৃহস্পতিবার টানা দুদিনের অভিযানে এসব জেটি উচ্ছেদ করা হয়েছে। অভিযান পরিচালনা করেন বিআইডব্লিউটিএর যুগ্ম পরিচালক আশরাফ হোসেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, অভয়নগরে নওয়াপাড়া নদীবন্দর এলাকার প্রায় ১০ কিলোমিটারের মধ্যে ৬০টি জেটি বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই নির্মাণ করা হয়েছে। একশ্রেণীর ব্যবসায়ী ও ঘাট মালিক ভৈরব নদে ভেতর মাটি ভরাট করে এসব জেটি নির্মাণ করেছেন। যে কারণে পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে নদের নাব্যতা হ্রাস পাচ্ছে। ব্যাহত হচ্ছে এ নদীবন্দরে নৌযান চলাচল। ঘটছে ছোটবড় দুর্ঘটনা।

নওয়াপাড়া নদীবন্দর অফিস সূত্র জানায়, অভিযান চলাকালে নওয়াপাড়া নদীবন্দর এলাকার রাজঘাট মাইলপোস্ট এলাকা থেকে ভাঙ্গাগেট পর্যন্ত ছোট-বড় ২৯টি অনুমোদনহীন জেটি উচ্ছেদ করা হয়েছে। বুধবার বন্দর এলাকার ব্রাইট ঘাটের একটি, একই এলাকার চাকলাদার স্টোন হাউজের একটি, তালতলা এলাকায় তালতলা স্টোনের একটি, একই এলাকার সরকার ট্রেডার্স, আকরাম হাজী ও দীপু স্টোনের একটি করে মোট চারটি, নওয়াপাড়া ফেরিঘাট এলাকায় অধিকারী ট্রেডার্সের একটি, শংকরপাশা গ্রামে রফিক ও তার ভাইয়ের একটি করে মোট ৯টি উচ্ছেদ করা হয়েছে। এছাড়া বৃহস্পতিবার বন্দর এলাকার ফেরিঘাটসংলগ্ন পোটন ট্রেডার্সের একটি, শংকরপাশা গ্রামে শহিদুল ইসলামের একটি, একই গ্রামে ইউনাইটেড ঘাটে একটি, ফজলু শেখের দুটি, আইয়ান-আরিশ ঘাটে একটি, বসুধা ঘাটে একটি, আফিল ট্রেডার্সের ছয়টি, নিয়তি ট্রেডার্সের একটি, ভাঙ্গাগেট ভৈরব সেতুসংলগ্ন পরশ আটা-ময়দা ঘাটে তিনটি, একই এলাকার সরকার ট্রেডার্সের একটি, জয়েন্ট ট্রেডার্সের একটি ও মালোপাড়ার একটি মোট ২০টি জেটি উচ্ছেদ করা হয়েছে।    

নওয়াপাড়া নদীবন্দরের উপপরিচালক মাসুদ পারভেজ জানান, নওয়াপাড়া নদীবন্দর এলাকায় ভৈরব নদের ভেতর মাটি ভরাট করা অনুমোদনহীন অবৈধ ৬০টি জেটি চিহ্নিত করা হয়েছে। ওইসব ঘাট মালিককে একাধিকবার লিখিত নোটিস দেয়া হয়েছে। সর্বশেষ মাইকিং করার পরও তারা তাদের অবৈধ জেটি উচ্ছেদ করেনি। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যে বুধবার নয়টি এবং বৃহস্পতিবার ২০টি, মোট ২৯টি জেটি মাধ্যমে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছে। ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসের পর বাকি ৩১টি অবৈধ জেটি উচ্ছেদ করা হবে। ভৈরব নদ ও নওয়াপাড়া নদীবন্দর রক্ষায় এ ধরণের অভিযান অব্যাহত থাকবে।